|| বাংলার নবাবের ওয়েবসাইটে স্বাগতম ||
আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া | ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া।
প্রেম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রেম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২১ মে, ২০১০

ফয়সালের কোন অনুভুতিটা প্রেম?

ফয়সাল মাহমুদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের একজন ছাত্র। খুব সাধারণ এবং একটু গম্ভীর প্রকৃতির। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম নববর্ষ উদযাপন কালেই ওর সাথে প্রথম চোখাচোখি হয়েছিলো মৌমিতার। প্রথমটায় ও চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো। কিন্তু দ্বিতীয়বার দর্শনে চোখ সরাতে গিয়ে ফয়সালকে একটু ভাবতে হয়েছিলো। মৌমিতা, ঠিক একবাক্যে রুপসী বলা যায়না ওকে। দশজনের মধ্যে দশমাও নয় সে। তবে এক মায়াবতী নারী। এজন্যই বোধহয় প্রথমবার নয়, দ্বিতীয়বার চোখ সরাতে ব্যার্থ হয়েছিলো ফয়সাল মাহমুদ।

ফয়সাল আমার বন্ধুমানুষ। এরপরেরবার যখন ওকে দেখেছিলাম, দেখেছিলাম মৌমিতার সঙ্গেই। ফয়সাল মৌমিতার পাশাপাশি হেটেছিলো। এক ভীষন ভালোলাগায় ভরে গিয়েছিলো ফয়সালের মন। মনে মনে ভেবেছিলো--- এটাই বুঝি প্রেম

এর বেশ কিছুদিন পরের কথা। পাশাপাশি বসে ছিলো ওরা দু’জন। ক্যাম্পাসের লেকের পাড়ে কোন একটা বেঞ্চিতে বসে ছিলো ওরা। দু’জনের চোখ দু’জনের চোখে। বেশ কিছুক্ষন নীরব দু’জনেই। যেন হৃদয়ের সকল অমৃতকথা প্রকাশিত হবার পথ খুজে নিচ্ছে নীরবতার ভাষাতেই। একটু পর মৌমিতার হাত দুখানি নিজের হাতের মধ্যে টেনে নিয়েছিলো ফয়সাল। প্রিয়ার প্রথম স্পর্শ অবাক করে দিয়েছিলো ফয়সালকে। সমগ্র অঙ্গে এক বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গিয়েছিলো। ফয়সাল ভেবছিলো--- এটাই বুঝি প্রেম।

তারপর থেকে যতটা জেনেছিলাম তার পুরোটাই ফয়সাল আর মৌমিতার ভালোবাসার গল্প। ওরা দু’জন দু’জনকে ভালোবেসেছিলো, গভীরভাবে। ফয়সালের সমস্তটা জুড়ে ছিলো মৌমিতা। আর মৌমিতা তার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছিলো ফয়সাল মাহমুদের জন্য। মাঝে মাঝে অপেক্ষার পালা ও ওদের ভালোবাসায় স্থান করে নিয়েছিলো। ক্যাম্পাসে এসেই মৌমিতার খোজ করতো ফয়সাল। আবার মৌমিতাও ফয়সালের জন্য। কোনদিন হয়তো পিছন থেকে এসে মৌমিতার চোখ আটকে ধরতো ফয়সাল। বিস্ময়ে পিলে চমকে যাওয়া মৌমিতা কপট অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে নিত। পরক্ষনেই ওকে ঘিরে ফেলতো অনুরাগের আবেশ। এভাবেই ওদের দিনগুলো চলছিলো— ভালোবাসা আর খুনসুটির মধ্য দিয়ে।

কোন এক সকালে শহীদ মীনারের পরে বসে ফয়সালের অপেক্ষা করছিলো মৌমিতা। ভার্সিটির বাসে করেই আসবে ফয়সাল- এমন ধারণা ছিলো মৌমিতার। কিন্তু ফয়সাল আসেনি। তারপর আরোও কিছুক্ষন অপেক্ষা করেছিলো মৌমিতা। ভেবেছিলো, হয়তো কিছুক্ষনের মধ্যেই চলে আসবে ও। কিন্তু তখনো আসেনি ফয়সাল। অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হলো। এক সময় অনন্যোপায় হয়ে ফয়সালকে ফোন দিয়েছিলো। ... ... ..
সেদিন এক অজানা উদাসীনতা ভর করেছিলো ফয়সালের উপর। campus –এ যাওয়ার এতটুকু আগ্রহ দেখায়নি ও। ফোনটাও বন্ধ করে রেখেছিলো এক অজানা কারণে। একারনেই, হাজারো চেষ্টা করেও ফয়সালের সাথে কোনরকম যোগাযোগ করতে পারেনি মৌমিতা। পরেরদিন ক্যাম্পাস-এ এসেছিলো ফয়সাল। মৌমিতার সাথে দেখাও করেছিলো একেবারে প্রথমে। মৌমিতা ওকে জড়িয়ে ধরেই কেঁদেছিলো কিছুক্ষণ। এক অপরিজ্ঞাত ভালোবাসায় ভরে গিয়েছিলো ফয়সালের মন। ভেবেছিলো, এটাই বুঝি প্রেমের প্রকৃত দ্যোতনা।

এর বেশকিছুদিন পরে আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিলো ফয়সালের। ওর মুখ থেকেই শুনছিলাম মৌমিতার কথা। এক গভীর নিস্তব্দ রাতে এই অপরুপা তরূণী তার নিজের সমস্তটাই তুলে দিয়েছিলো ফয়সালের হাতে। শক্ত-সামর্থ্য যুবা পুরুষ ফয়সাল মৌমিতার শরীরের প্রতিটা ভাজে তার ছাঁপ একে দিয়েছিলো। মৌমিতার দেহজ সৌন্দর্য্য উম্মোচন করার প্রতিটি মুহুর্তে শরীরে মধ্যে এক পুলক অনুভব করেছিলো ফয়সাল। মৌমিতার নগ্ন বক্ষে বক্ষ মিশিয়ে ভালোবাসার সবটুকু স্বাদ আস্বাদন করেছিলো ও। প্রমিলা তনুর ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাস ফয়সালের সমগ্র শরীরে পরমোচ্ছাসের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিলো। সেদিনও ফয়সাল অনুভব করেছিলো—এটাই বুঝি প্রেম।

বহতা নদীর মতই বয়ে চলে সময়। অনেকদিন পর ফয়সালকে দেখেছিলাম ক্যাফেটেরিয়ায় বসে চা খেতে। হাতে ওর একটা সিগারেট ছিলো। এখন নাকি ওটাই তার নিত্য সঙ্গী। ওর পাশে বসেছিলাম কিছুক্ষণ। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে মৌমিতার কথা জিজ্ঞেস করার ইচ্ছাটা নিভে গেলো। অল্প কিছুক্ষণ নিরবতার পরে ফয়সাল নিজেই বলেছিলো মৌমিতার কথা। ও এখন আর ফয়সালের নেই। সবকিছু নাকি শূন্য মনে হয় তার। হঠাৎ কাধে হাত রেখে ও বললো—এটাই প্রেম রে।

কি জানি, ফয়সালের চোখের কোনা একটু চিকচিক করে উঠেছিলো হয়তো। আর কোন কথা বলতে পারেনি ও।
ভাবছিলাম... ‘ফয়সালের কোন অনুভূতিটা প্রেম?’

নারী ও প্রেম

নারী ও প্রেম

নারী- মানব জগতে সৃষ্টিকর্তার এক অপরুপ সৃষ্টি। পুরুষের অপূর্ণতা পূর্ণ হয় নারীতে, নারীর অপূর্ণতা পূরুষে। নব জীবন সৃষ্টিতে পূরুষ-নারী একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নারী জননী, ভগ্নী। নারী দেবী, মহাশক্তির আধার। নারী আসে মাতৃত্বের স্নেহ নিয়ে, প্রেয়সীর প্রেম নিয়ে অথবা ভগ্নীর মমতা নিয়ে। একটা বিশেষ সময়ে নর নারী একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়, জন্ম নেয় প্রেম। শুরু হয় প্রেমের লুকোচুরি অভিসার যাত্রা। সমাজের তীব্র ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে নীরবে, নির্জনে মিলিত হওয়া। স্বপ্নের জাল বোনা। প্রাপ্তির আগে বা পরে সেই নারীকে কল্পনা করা হয় নানা সৌকর্যে, নানা গুনে, নানা মহিমায়। সুর্য্য যেমন প্রভাতে, পূর্বাহ্নে, অপরাহ্নে, বা অস্তকালে বিভিন্ন বর্ণের আলোকরশ্মি দিয়ে আমাদেরকে নানা রঙের নানা মাত্রায় উদ্ভাষিত করে থাকে, তেমনি প্রেমিকের কাছে প্রিয়াও নানান রঙের আলোকচ্ছটায়, হাজারো মহিমায় উদ্ভাষিত। বিপন্ন পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম চিরন্তন, সকল প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে। তবু এইসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বাসা বাধে প্রেম। শক্তিশালী মহাবীরও প্রেমের চরণে প্রনতি জানায়। সে প্রেমের কাছে হার মানে। তার বিজয় কেতন প্রেয়সীর চরনে লুটোপুটি খায়। স্বপ্নলোকের মোনালিসার কোমল পরশ হৃদয় ছুয়ে যায়। বিধবস্ত পৃথিবীতে আবারও বসন্ত আসে। ফুল ফোটে, পাখি গান গায়। তখন প্রিয়া প্রেমিকের কাছে হয়ে ওঠে এক অনাবিল আনন্দময়ী উপহার। প্রিয়া হতে পারে কচি, আবার পরিণীতাও। প্রিয়ার সৌন্দর্য্য বর্ননায় কবি গোলাম মোস্তফা লিখেছেন,

"কি সুন্দর তুমি নারী
তুমি শক্তি, তুমি মুক্তি, তুমি স্রষ্টার সার সৃষ্টি।
তুমি সুরভী পুরিত কোমল কুসুম নবীন মাধুরী কুঞ্জে
তুমি শরৎ রাতের মধুচাঁদিনী শ্যামল পত্র পুঞ্জে।"

প্রেম বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রেম দু'প্রকার। দৈহিক প্রেম আর আত্মিক প্রেম। অর্থাৎ, রোমান্টিক লাভ (romantic love) এবং প্লেটোনিক লাভ (platonic love)। ইংরেজি মেটাফিজিকাল (metaphysical) ধারার প্রধান কবি জন ডান (John Donne) এই দুই মতেরই সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তাঁর মতে, "দৈহিক প্রেমের আঙিনা মাড়িয়ে তবে আত্মিক প্রেমের আঙিনায় পৌছাতে হয়।" সুতরাং প্রেমের প্রথমিক স্তরের চাওয়া পাওয়া একটু ভিন্ন ধরনের। নিশিদিন পথ চেয়ে থাকা, নীরব ভাষায় কথা বলা। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রেম নিছক আবেগপ্রধান। আবেগের স্রোতে বাস্তবতা হারিয়ে যায়। যেন হৃদয়ের একুল ওকুল দু'কুল ভেসে যায়। কবি সুকান্তের মতে, "হয়তো আমি যে সিড়ি দিয়ে উঠছিসেই সিড়ি দিয়েই ও নামছে। অবতরণকালীন ওর ক্ষণিক দৃষ্টি আমার চোখের উপর পড়ে আমার বুকের মধ্যে স্নিগ্ধমধুর শিহরণ জাগিয়ে যায়। পরক্ষনেই কেটে যায় আবেগের আবেশ।" তবে, নজরুল কাব্যে প্রেম এসেছে বিদ্রহের পাশাপাশি। নজরুলের ভাষায়- "মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাসরী, আর হাতে রণতূর্য।"

প্রেম মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। প্রেমের ফসল জীবন। জীবনের বন্ধন প্রেম। সে প্রেম অবশ্যই হতে হবে পবিত্র, স্বর্গীয়। তবেই প্রেমের স্বার্থকতা।

প্রেমের রসায়ন

উপক্রমনিকাঃ
নানা মুনীর নানা মত। প্রবাদের এই কথাটি প্রেমের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। বহুজন বহুভাবে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন প্রেমকে। ডিম আগে না মুরগী আগে -- এই কিনারাহীন প্রশ্নের মতই বহুজন ধোয়াশায় আচ্ছন্ন হয়েছেন -প্রেম আগে না যৌনতা আগে- এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে। প্রেমের দিকে একপর্যায়ে দৃষ্টি পড়েছে যুক্তিবাদী বিজ্ঞানীদের।

প্রেম কি সহজাত প্রবৃত্তি না নিছকই মানব-সংস্কৃতি বা সভ্যতা প্রসূত একটা ধারণা মাত্র? গবেষনায় দেখা গেছে-- বিবর্তন, জীববিজ্ঞান ও রসায়নবিদ্যা এই তিনটা শক্ত ভিতের উপরেই প্রেম নামক তাবুটার বাস। আফ্রিকান সমভুমিতে আজ থেকে প্রায় চল্লিশ লাখ বছর আগে প্রথম মস্তিস্ক থেকে এক বিশেষ ধরণের নিউরো-কেমিক্যাল ক্ষরণ হয়। নারী ও পুরুষ এরই প্রভাবে একে অন্যের চোখের দিকে তাকায়। ঘামতে থাকে হাতের তালু, আঙুল-- জন্ম হয় এক নতুন অনুভূতির। যার নাম প্রেম।

বর্তমানে নৃতাত্ত্বিকদের গবেষনায় প্রেমের আয়ু নির্ধারিত হয়েছে মাত্র চার বছর। প্রত্যেক মানুষের মস্তিষ্কে থাকে প্রেম-মানচিত্র। সেই মানচিত্রে আঁকা মুখটার সঙ্গেই হয় প্রেম। একই সময়ে দু'জনের সঙ্গে প্রেম হওয়ার বিষয়টা তর্ক-সাপেক্ষ। দেখা গেছে, মোট স্তন্যপায়ীর প্রায় পাঁচ শতাংশের কম অংশ বিশ্বস্ত জোড় বাধে। স্তন্যপায়ী প্রাণীশ্রেষ্ঠ মানুষের প্রেমের প্রকৃতি একগামী; তবে অতি গোপন ব্যাভিচার সহ।

যেহেতু পুরুষ প্রথম থেকেই নারী পরিবর্তনে অভ্যস্ত, তাই তাদের বিবর্তিত জিন এখনো বহুগামীতার বার্তা বহন করে। অন্যদিকে সেই প্রাগৈতিহাসিক নারী, যিনি তার দলের নজর এড়িয়ে ঘন সবুজ বনের আড়ালে প্রেমমত্ত থাকতেন অবৈধ প্রেমিককে নিয়ে, তার জিন এর প্রভাবেই আজকের নারীর মানসে বহুগামীতা-প্রবনতা।

প্রেম রসায়নঃ
চোখে চোখ পড়া, হাতে সামান্য হাতের স্পর্শ-- মস্তিষ্কে এক রাসায়নিক বন্যার সূচনা করে যা স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মানবদেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি হতে মাত্র পাঁচ অথবা সাত শতাংশ সেকেন্ড সময় লাগে। এমনি বিস্তারে রক্ত হয় বাহন। ফলে হাত ঘামা, ত্বকে রক্তিম আভা, দ্রুত নিঃশ্বাস ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। আসলে প্রেম আর উৎকন্ঠার বাহ্যিক প্রকাশ মোটামুটি একই রকম। প্রেমে পড়লে প্রচন্ড অকারণ আনন্দ বা ইউফোবিয়ার যে লক্ষণ দেখা যায়, তার জন্য দায়ী এমফেটামাইনের সমগোত্রীয় কিছু রসায়ন। যার মধ্যে নাম করা যায়-- জেপ্যামিন, নরএপিনেফ্রিন, ফিনাইল ইথাইল এমিন (PEA) ইত্যাদির।

যদি কেউ বলে, প্রেম তার কাছে নেশার মত লাগছে, কিংবা যদি কোন প্রেমিক ঘন জ্যোস্না ভরা রাতে তার প্রেমিকার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে-- তোমার চোখে নেশা ধরে যাচ্ছে, তাহলে সেটাকে নিছক ফিল্মি ডায়ালগ বলে উড়িয়ে দেয়ার কোন অবকাশ নেই। আসলে এটা ফিনাইল ইথাইল এমিন (PEA)-এর নেশা। তবে প্রসংগত উল্লেখ্য, এই PEA-এর নেশা অনন্তকাল থাকেনা। যার ফলে রোমান্টিক প্রেমও স্বল্পায়ু। যে কোন এমফেটামিনস্‌ এর মতই এই কেমিক্যালও শরীরে সঙ্গে টলারেন্স-ডিপেন্ডেন্স (Tolerance-dependence) এর খেলা খেলে। ক্রমশ শরীরে এই PEA টলারেনস্‌ তৈরি হয়। ফলে একই পরিমান প্রেমানুভূতির জন্য আরও বেশি পরিমান PEA দরকার পড়ে। দুই তিন বছরের মধ্যে PEA টলারেনস্‌ এতটা বেড়ে যায় যে, রোমান্টিক প্রেম জাগাতে যতটা পরিমান PEA দরকার শরীর তা' আর তৈরি করতে পারেনা। ফলে প্রেমের অনুভূতি আর তেমন তীক্ষ্ম থাকেনা। এই PEA টলারেনস্‌ তৈরি হওয়ায় প্রেমের তীব্রতা হারানো অনেকে সহ্য করতে পারেনা। ফলে স্বাদ পেতে অনেকেই ছুটে বেড়ান নির্দিষ্টতার সম্পর্ক থেকে আরেক সম্পর্কে, স্থান থেকে স্থানান্তরে। তবুও বহু প্রেমই টিকে থাকে উম্মত্ত স্তর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও। এরজন্য বাহ্‌বা দেয়া যায় আরেক শ্রেণীর রাসায়নিক সামগ্রিকে।

একজন সঙ্গীর ক্রমাগত উপস্থিতি অনেক সময় মস্তিষ্কে এনডরফিন্‌ জাতীয় রাসায়নিকের ক্ষরণ নিশ্চিত করে। এই জাতীয় রাসায়নিক আনন্দের তুবড়ি না ফোটালেও শান্ত সমহিত ভাব সৃষ্টি করে। বলা যায়, এগুলো প্রকৃতিজ যন্ত্রনা নিবারক। সঙ্গীর উপস্থিতির প্রভাবে ক্ষরিত এই এনডরফিন্‌ ক্রমাগত নিরাপত্তাবোধ ও শান্তি দেয়। দম্পতিদের মধ্যে একে অপরকে ছেড়ে গেলে অথবা একজন মারা গেলে এই এনডরফিনের ক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে দূর্বিষহ হয়ে ওঠে জীবন।

প্রেমের ক্ষেত্রে আর একটা জৈব রাসায়নিক অক্সিটোসিনের ভুমিকা উল্লেখ না করলে এই রচনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মস্তিষ্ক উৎষারিত এই যৌগ স্নায়ু ও পেশীর সংকোচন ও উদ্দীপিত করে। নারীর ক্ষেত্রে এই পদারতথ প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন বা প্রসারনে সাহায্য করে এবং স্তনে দুগ্ধ উৎপাদন ঘটায়। একনকি বাচ্চাদের আদর করার নেপথ্যেও এই অক্সিটোসিন। সর্বশেষ গবেষনায় জানা গেছে, পরিণত নারী-পুরুষের আদর করার ইচ্ছাও নিয়ন্ত্রিত হয় এই অক্সিটোসিন দ্বারা। সাধারণতঃ একজন পুরুষের আদর করার ইচ্ছা তখনই হয়, যখন তার রক্তে অক্সিটোসিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে তিনগুন থেকে পাঁচগুন বেশি থাকে। নারীর ক্ষেত্রে অক্সিটোসিনের মাত্রা আরও বেশি হয়।

সর্বশেষঃ পরিসংখ্যানঃ
১. সারাজীবনে একজন মানুষ প্রেমে পড়ে ছয়বার।
২. প্রায় ২৫% লোকের জন্মই যেন প্রেমে পড়ার জন্য। সারাজীবনে এরা প্রায় বার দশেক প্রেমে পড়েন।
৩. মেয়েরা নাকি এক পলকে প্রেমে পড়ে। একইরকমভাবে তাদের প্রেমাবসানও ঘটে। এদের ৭০% এর ক্ষেত্রেই পরিণতি হচ্ছে বিচ্ছেদ।
৪. প্রায় বারো ভাগ মানুষের জীবনে দু' একটা প্রেম হয়ে যায় নাকি নিজের অজান্তে।