|| বাংলার নবাবের ওয়েবসাইটে স্বাগতম ||
আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া | ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া।
ঈভটিজিং লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঈভটিজিং লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৩ মে, ২০১৬

আপনি বলছেন 'পোয়েম-পর্ণ', আবার বলছেন 'নট রিয়েল পর্ণ'। দ্বিচারিতা হয়ে গেলোনা???

১। ধরুণ আপনার পরিচিত একজন মিথ্যাবাদী আছেন। তিনি এত বেশি মিথ্যাচার করেন যে তার মিথ্যাচারের ফলে মারামারি, হানাহানি সহ কারো মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। এখন আপনি সেই মিথ্যাবাদী মানুষটির নামে কিছু ভালো কথা, নীতিকথা'র পোষ্টারে এলাকা ছাপিয়ে দিলেন। তাতে কি মিথ্যাবাদী 'সত্যবাদী'তে রুপান্তরিত হলো? না, তা তো হলোই না; আপনি বরং মিথ্যাবাদীর 'সহায়ক'রুপে আবির্ভূত হলেন।

২। পর্ণ বা পর্ণোগ্রাফী নিঃসন্দেহে পরিত্যাজ্য। তাতে সমাজে অনাচার, অশ্লীলতা যেমন বাড়ে; নারীর প্রতি সহিংসতাও ততোধিক হারে বাড়ে। পর্ণোগ্রাফীর অবাধ প্রচারই যে 'সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট' ও 'চাইল্ড এ্যাবইউজ' এর একটা অন্যতম কারণ তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। 

৩। "A man is born through a woman and is raised by a woman and he falls in love with woman and he marries a woman and I'm surprised about a man who doesn't respect a woman." কথাগুলো বেশ ভালো এবং ভালো লাগার। কিন্তু এই ভালো কথাগুলো আপনি শেয়ার করছেন কী নামে? 'Word Porn', 'Poem Porn' ইত্যাদি নামে। 

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

ভিকারুন্নেসার ঘটনা ও মিডিয়ার এসিড টেস্ট।

ভিকারুন্নেসা'র ঘটনা নতুন করে তুলে ধরার প্রয়োজন নেই। বরং এ সম্পর্কে জানেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশের প্রতিটি মানুষই ঘৃণা আর ধিক্কার প্রকাশ করছে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পুরো দেশবাসী। এমন ঘৃণ্য অপরাধীর শাস্তি কাম্য আপামর জনতার।

তবে ভিকারুন্নেসার এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি আমাদের বিবেকের এসিড-টেষ্টের মত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো দেশবাসী যখন অপরাধীর সাজা দেওয়ার দাবী জানাচ্ছে, তখন কিছু কিছু মিডিয়া আর কতিপয় সুশীল ব্যক্তির অপরাধীর পক্ষ নেওয়ার ঘটনা দেশবাসীকে হতবাক করেছে, করেছে বাকরুদ্ধ। ভিকারুন্নেসার এই ঘটনা মুখোশ খুলে দিয়েছে সুশীল নামধারী, মানবতার ধ্বজাধারী এই সকল ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের। কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আবার কেউবা চুপ থেকে মুলতঃ অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করছেন।

বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১০

এ কোন গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি আমরা?


নিঃসন্দেহে সময়টা খুবই খারাপ যাচ্ছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশের সকল বখাটে তরুণ-যুবক যেন একত্রে জোট বেধেছে, একসঙ্গে মাঠে নেমেছে। ঈভটিজিং এর মাত্রা এত বেশি পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে যে এদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। কি ঘরে, কি বাইরে, স্কুলের পথে বা শপিং মলে—কোথাও স্বস্তিতে নেই আমাদের মেয়েরা। প্রতিদিনের পত্রিকার পাতাই এর সাক্ষ্য বহন করছে। ঈভ টিজিং এর ঘটনার সত্যতা প্রমানের জন্য এখন কোন সুত্রের দরকার পড়েনা। চরম হতাশা আর লজ্জায় ডুবে গিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকছেনা ভুক্তভুগী এই মেয়েদের। অবস্থা এতই বেগতিক যে মেয়ের বাবারা যেন মেয়ের জন্ম দিয়ে চরম অন্যায় করে ফেলেছেন। এর জন্য তাদের এই শাস্তি ভোগ করতেই হবে।

রবিবার, ১৬ মে, ২০১০

ঈভ টিজিং ও একটি অফ-ট্র্যাক ভাবনা।

নারী নির্যাতনের কথা শুনলেই আমরা অনেকটা মধ্যযুগীয় কায়দায় একতরফাভাবে পুরুষ ব্যাক্তিটিকে দায়ী করে থাকি। সেটা যে কোন ধরণের নারী নির্যাতনের কথায়ই হোক না কেন। ঘরে বা পরিবারে স্ত্রীর গায়ে হাত তোলাই হোক আর রাস্তাঘাটে বখাটে ছেলে কর্তৃক ঈভ টিজিং-এর ঘটনাই হোক—এজাতীয় যে কোন ঘটনা ঘটলেই আমরা মোটামুটিভাবে মনে মনে হলেও ঐ দায়ী পুরুষ ব্যাক্তিটির Fourteen Generations উদ্ধার করে থাকি। আমি প্রকৃপক্ষে কোন অবস্থাতেই কোন অপরাধীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছিনা বরং এ জাতীয় ঘটনায় পুরুষ ব্যাক্তিটি যদি দায়ী হয়ে থাকে তাহলে তা’ জঘন্য অপরাধ এবং তার উপযুক্ত দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়া আবশ্যক; যেন এ ধরণের অপকর্ম ঘটানোর আগে এর শাস্তির কথা ভেবে অন্য যেকোন ব্যাক্তির আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হবার যোগাড় হয়। আমি শুধুমাত্র যে দিকটির উপর সচেতন পাঠকের দৃষ্টি নিবদ্ধ করাতে চাচ্ছি, এই লেখাটির শেষাংশ পর্যন্ত গেলেই তার স্বরুপ বের হয়ে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এই মুসলিম দেশটিতে ঈভ টিজিং এর হার এত ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে এটাকে সেই ইসলাম পূর্ববর্তী আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকারের যুগের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কিছুদিন আগে দেশের একটি অঞ্চলে এই ঈভ টিজিং-এর বিরুদ্ধে আমাদের সম্মানিত মা-বোনদের আন্দোলন পর্যন্ত করতে হয়েছে—জাতি হিসেবে এর থেকে লজ্জার আর ঘৃনার কিছু আছে বলে আমি মনে করিনা। যাইহোক, তবে সকল ঘটনার জন্য কি কেবল পুরুষই দায়ী? এর জন্য নারীর কি কোন দায়বদ্ধতা নেই? যে অপমানের যন্ত্রনা সইতে না পেরে নারী আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে সেই অপমানের জন্য সে নিজেও কি কখনো দায়ী হতে পারে? মুদ্রার উল্টোপিঠের এই দিকটি নিয়ে ভাববার সুযোগই হয়তো আমাদের নেই। নারীরা আমাদের কাছে যেন দুধে ধোয়া তুলসী পাতা। আর মিডিয়া তো আছেই। তাই, কিছু ঘটলেই বিনা বিচারে আমরা পুরুষ ব্যাক্তিটিকে দায়ী করে থাকি আর তার শাস্তির দাবীতে মিছিল মিটিং করতে ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে পড়ি; কখনো কখনো হয়তো প্রকৃত ঘটনায়ই আমরা জানিনা।

নারী সৌন্দর্য্যময়ী। একটা বিশেষ সময়ে নর-নারী বয়োঃপ্রাপ্ত হয় আর তাদের মধ্যে জন্ম নেয় দূর্নিবার আকর্ষন। নারীর সৌন্দর্য্যে গুনমুগ্ধ হয় প্রেম-পিয়াসী পুরুষ। আর বহুগামীতার বার্তাবাহী নারী নিরবে নির্জনে মিলিত হতে চায় প্রেমাভিসারে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। পৃথিবীতে মানুষ পাঠানোর ব্যাবস্থা হিসেবে আল্লাহ তায়ালা নারী-পুরুষের মিলনকে করেছেন আবশ্যক। আর তাই, তাদের মধ্যকার এই সুতীব্র আকর্ষন যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবমুখী। কিন্তু এর জন্য চাই সমাজসম্মত সুস্থ সুন্দর বিধান। নারীর দৈহিক সৌন্দর্য্যের প্রতি পুরুষের আকর্ষন তীব্র ভাবাবেগ সম্পন্ন। এই সময়ে নারী-পুরুষের মনে একে অপরে সান্নিধ্য পাওয়ার বাসনায় নানা ধরনের কু-চিন্তা প্রকট হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য যে আমাদের সমাজের নারীরা তাদের যথাযথ সম্মানের কথা ভুলে গিয়ে পুরুষের সেই নিষিদ্ধ বাসনাকে প্রলুদ্ধ করতে যেন উঠে পড়ে লেগেছে।

অতি সাম্প্রতিককালে নারীদের পোষাক এত আটোসাঁটো যে সেই পোষাকের মধ্য দিয়ে তাদের দেহের প্রতিটা ভাজ একেবারে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরুষদেরকে প্রলুদ্ধ করতে এই নারীরা যেন সৌন্দর্য্যের পসরা সাজিয়ে রুপের হাটে বিকিকিনি করতে ব্যাস্ত। এমতাবস্থায় ঈভ-টিজিং বা তার থেকে জঘন্যতর কোন অপরাধের ঘটনা ঘটলে তার জন্য কি কেবল পুরুষই দায়ী? পুরুষের সামনে এমন শরমহীনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য কি নারী বিন্দুমাত্রও দায়ী নয়? আমি আবারও বলছি, নিরীহ নারীর প্রতি নির্যাতনের জন্য পুরুষ এককভাবেই দায়ী। কিন্তু বর্তমান সমাজ বাস্তবতার প্রেক্ষিতে নারীকে আর নিরীহ বলা যাচ্ছেনা; বরং তারা পুরুষের একটি বিশেষ অনুভুতির Incentive রুপেই নিজেদেরকে তুলে ধরতে পারাটাকে স্বার্থকতা বলে মনে করে। অথচ মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-- “হে নবী, আপনি আপনার পত্মীগনকে ও কন্যাগনকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগনকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবেনা, আল্লাহ পরম দয়ালু (সুরা আল আযাহাব-৫৯)।” আর পুরুষদেরকে সম্পর্কেও আল্লহা তায়ালা বলেন-- “মুমিনদেরকে বলুন, তার যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে, এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবগত আছেন (সুরা আন নূর-৩০)।”

পাশাপাশি আছে আধুনিকতার নামে বয়স্ক নর-নারীর অবাধে মেলা মেশার সীমাহীন সুযোগ। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গুলো যেন আর শিক্ষাকেন্দ্র নেই, সেগুলো এখন বয়স্ক নর-নারীর অবাধ মেলা মেশার মিলনকেন্দ্র। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তো এক ধাপ এগিয়ে। আর সেই সাথে আছে আমাদের বিবেকবর্জিত স্থুল চিন্তাধারার মিডিয়া- হোক তা ইলেক্ট্রনিক বা প্রিন্ট মিডিয়া। ফ্যাশন শো’ বা সাজসজ্জার অনুষ্ঠানের নামে এই মিডিয়াই টেনে আনছে বিদেশী অপ-সংস্কৃতি; অথচ দেশের কথা বললেও দেশী সংস্কৃতির বিকাশে এদের কোন মাথাব্যাথা আছে বলে মনে হয়না। এই সকল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে এক সময়ের মুসলিম ঐতিহ্যধারণকারী নারীরা আজ গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাচ্ছে। ফলস্বরুপ, তাদের উপর নেমে আসছে নিম্নতর অপমানের সুতীব্র যন্ত্রনা। আল্লাহর দেয়া বিধান যদি আজ নারী পুরুষ উভয়েই মেনে চলতো তাহলে আজ নিশ্চয়ই আমাদের মা-বোনদের সম্মান রক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হতোনা।

সর্বশেষ একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আমি আমার এই লেখাটি শেষ করছি। আমি যখন কলেজে পড়তাম তখন সুমিদের (ছদ্মনাম ব্যাবহার করছি) এলাকায় মেসে (Mess) থাকতাম। আমি কলেজ ছাত্রী সেই সুমির কথায়ই বলছি যে কয়েক বছর আগে বখাটেদের দ্বারা উত্যক্ত হওয়ার কারণে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। দোষী ছেলেগুলোর উপযুক্ত শাস্তিও হয়েছিলো। ছেলেগুলো বখাটে ছিলো তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু নেপথ্যের ঘটনার জন্য সুমি নিজেও কি কম দায়ী ছিলো? অবশ্যই না। শুধুমাত্র প্রেমের প্রস্তাব দেয়ার জন্য যদি একটি ছেলের গালে চড় মারতে হয় তাহলে তো পৃথিবী থেকে প্রেম নামক জিনিসটা উঠে যেত। আমার কোন নারীকে ভালো লাগলেই যে সেই নারীর আমাকে ভালো লাগবে এমনটি নিশ্চয়ই নয়। কিন্তু আমার ভালোবাসার কথা বলার জন্য কি আমাকে চড় খেতে হবে? ঘটনার প্রথম দিকটা কিন্তু এরকমই ছিলো। সুমির দূর্ভাগ্য এই যে সেই ছেলেটি ছিলো বখাটে আর তাই সুমির দেয়া চড়ের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলো যে কোন মুল্যে। আর ঘটনার ধারাবাহিকতায় মৃত্যু হয় সুমির। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে পরবর্তী সকল ঘটনার জন্য ওই ছেলেগুলোই দায়ী। কিন্তু আগুন চাপা না থাকলেও এরকম হাজারো সত্য চাপা থাকে চিরকাল। কেননা এটা যে নারী-নির্যাতনের মামলা!