|| বাংলার নবাবের ওয়েবসাইটে স্বাগতম ||
আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া | ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া।
নারী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নারী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৭

নারীর প্রতি সহানুভুতিশীল???

এসব আমার কাছে নতুন নয়। মনে হলো, ব্যাপারটা তাঁকে বলা দরকার। আমি তাঁকে থামালাম। বললাম, ‘আগে একটা কথা বলে নিই; আমি কিন্তু কুমারি নই’।
তিনি আমার শরীর থেকে হাত সরিয়ে নিলেন। বললেন, ‘আমি তো ভাবলাম তুমি বলবা যে, তোমার এইডস আছে।’
_________
প্রথমে বলে নেই এটা একটা ৩৫+ পোষ্ট। ইমম্যাচিউর বা বাচ্চা পোলাপানের জন্য এই পোষ্ট না। 

উপরোক্ত লেখাটি নেয়া হয়েছে এখান থেকে। লেখাটির পুরো অংশের স্ক্রীনশট পাওয়া যাবে এখানে। 
____
উপরোক্ত লেখায় একটা নতুন বিবাহিত মেয়ে তার নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। যে মানুষটিকে তিনি বিয়ে করেছেন তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত। যে মেয়েটি সারাজীবন ছেলেদের সাথে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব মেইনটেইন করেছে তার জন্য হঠাৎ করে একটা অপরিচিত মানুষের সাথে শয্যা শেয়ার করা কঠিনই শুধু না, বিব্রতকর এবং ভয়ংকরও বটে। এই দু:সহ পরিস্থিতিকে সহজ করে নিতে একজন পুরুষ কতটা সহায়ক হতে পারে তার বর্ণণাও আছে লেখাটিতে। এক কথায়, প্রচলিত অনেক গোঁড়ামী'র বিরুদ্ধে শক্তিশালী একটা লেখা। প্রচলিত ধ্যান-ধারণা, যে ধ্যান-ধারণায় একজন নারীকে নানারকম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এরকম লেখনীর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। 

কিন্তু উপরের অংশে কী বলা হয়েছে? মেয়েটি কুমারী নয়। ইট মীনস্‌ সে এক্সট্রা-ম্যারিটাল সেক্সে জড়িত। পুরো লেখাটি মধ্যে এই গরলটুকু ঢেলে দিয়েছেন লেখিকা। হ্যাঁ, আমি গরলই বলছি, এক ভয়ংকর গরল!!! আরও ভয়ংকর এর পাঠকেরা, যারা আমার চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়ায়। লিঙ্কে গিয়ে দেখুন এর পাঠকেরা কেমন প্রশংসায় মেতেছেন লেখাটির। আমার প্রশ্ন, এর অনুবাদকসহ পাঠকেরা কি এক্সট্রা-ম্যারিটাল সেক্সে বিশ্বাস করেন??? যদি তাই করেন, এরা কি এদের বউকে আমার বিছানায় পাঠাবেন??? "আমি কিন্তু কুমারি নই" লেখার এই অংশটা কিন্তু আপনি সানন্দে মেনে নিয়েছেন!!! যেহেতু মেনেই নিয়েছেন, সেহেতু আপনাদের বউকে আমার বিছানায় পাঠাতে আপনাদের আপত্তি থাকার কথা নয়!!!

আমাকে চড় মারার কথা চিন্তা করে ফেলেছেন??? তাহলে তাই করুন। আর বাকী অংশ পড়া দরকার নেই আপনার। আপনার জন্য আমি এই লেখাটি লিখছিনা। 

সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৫

ধর্ষনের দায় মূলত ধর্ষকের পাশবিকতার উপরেই বর্তায়

নববর্ষে টিএসসিতে নারীদের যৌন হয়রানি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখছি আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র, জুনিয়র অনেকের মাঝেই।

সমস্যাটা হলো, যুক্তির দুই পিঠেই বহুল সংখ্যক মানুষের সমর্থণ রয়েছে। বিভ্রান্তির বিষয়টি তাহলে কী??? ‘ধর্ষণের পেছনে নারীর অশ্লীল পোষাকই দায়ী কিনা’ নাকি ‘ভিক্টিম নারীকেই কেন দায়ী করা হচ্ছে?’

বিভ্রান্তিটি সৃষ্টি হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে বলে আমার মনে হয়। 

তার আগে ঘটনাটি জানা দরকার। বাংলা ১৪২২ এর পহেলা বৈশাখের দিন (ইংরেজি এপ্রিল ১৪, ২০১৫) টিএসসিতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন কয়েকজন নারী(১)। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন নন্দী প্রথম আলোকে বলেন, বাংলা নতুন বছর উপলক্ষে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শাহবাগ থেকে টিএসসি আসার পথে তাঁরা কয়েকজন দেখেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে ৩০-৩৫ জনের একদল যুবক বেশ কয়েকজন নারীকে যৌন হয়রানি করছে। তারা কারও কারও শাড়ি ধরে টান দিচ্ছিল। কয়েকজনকে তারা বিবস্ত্রও করে ফেলে। এ সময় সেখানে বাধা দিতে গেলে ওই যুবকদের ধাক্কায় তিনি পড়ে যান এবং তাঁর হাত ভেঙে যায়।

ঘটনার পরপরই ফেইসবুক সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় শুরু হয়। তীব্র ঘৃণার পাশাপাশি দোষীদের শনাক্ত করে তড়িৎ পদক্ষেপের আহবান জানান সকলেই। 

রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৫

বর্ষবরণে টিএসসিতে শ্লীলতাহানিঃ বাস্তবতা ও করণীয়

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, শয়তানগুলোর ছবি। সবই চলে এসেছে সামনে।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, উপযুক্ত শাস্তির।

তবে, প্রথম আলো অলরেডি এটাকে মৌলবাদী রুপ(১) দেয়ার প্রয়াস নিয়েছে, ডিএমপি স্পোকস্-পার্সন অলরেডি বলে দিয়েছেন ফুটেজে তারা কোন এ্যাসাল্টের ঘটনা(২) পান নাই।

এটা হয়তো আরেকটা থার্টি ফাস্টের ঘটনা হতে যাচ্ছে। মনে পড়ে ২০০০ সালে বাঁধনকে লাঞ্চিত করার ঘটনা? এতদিনেও তার কোন বিচার হয়নি, সাজা পাইনি কেউই। অথচ, নেট সার্চ দিলে সেই ঘটনার ছবি এখনো পাওয়া যায়! ছবি আছে, ছবির মানুষটি আছে। কিন্তু, তাকে সাজা দেয়ার সুযোগ নেই!!

অপরাধ অনেকটা রিকারিং ইভেন্টের মত। উপযুক্ত শাস্তির ব্যাবস্থা না করলে তা বারংবার ঘটতে থাকে, আগের চে' আরও ভয়ংকর রুপে।

শুক্রবার, ২১ মে, ২০১০

নারী ও প্রেম

নারী ও প্রেম

নারী- মানব জগতে সৃষ্টিকর্তার এক অপরুপ সৃষ্টি। পুরুষের অপূর্ণতা পূর্ণ হয় নারীতে, নারীর অপূর্ণতা পূরুষে। নব জীবন সৃষ্টিতে পূরুষ-নারী একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নারী জননী, ভগ্নী। নারী দেবী, মহাশক্তির আধার। নারী আসে মাতৃত্বের স্নেহ নিয়ে, প্রেয়সীর প্রেম নিয়ে অথবা ভগ্নীর মমতা নিয়ে। একটা বিশেষ সময়ে নর নারী একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়, জন্ম নেয় প্রেম। শুরু হয় প্রেমের লুকোচুরি অভিসার যাত্রা। সমাজের তীব্র ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে নীরবে, নির্জনে মিলিত হওয়া। স্বপ্নের জাল বোনা। প্রাপ্তির আগে বা পরে সেই নারীকে কল্পনা করা হয় নানা সৌকর্যে, নানা গুনে, নানা মহিমায়। সুর্য্য যেমন প্রভাতে, পূর্বাহ্নে, অপরাহ্নে, বা অস্তকালে বিভিন্ন বর্ণের আলোকরশ্মি দিয়ে আমাদেরকে নানা রঙের নানা মাত্রায় উদ্ভাষিত করে থাকে, তেমনি প্রেমিকের কাছে প্রিয়াও নানান রঙের আলোকচ্ছটায়, হাজারো মহিমায় উদ্ভাষিত। বিপন্ন পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম চিরন্তন, সকল প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে। তবু এইসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বাসা বাধে প্রেম। শক্তিশালী মহাবীরও প্রেমের চরণে প্রনতি জানায়। সে প্রেমের কাছে হার মানে। তার বিজয় কেতন প্রেয়সীর চরনে লুটোপুটি খায়। স্বপ্নলোকের মোনালিসার কোমল পরশ হৃদয় ছুয়ে যায়। বিধবস্ত পৃথিবীতে আবারও বসন্ত আসে। ফুল ফোটে, পাখি গান গায়। তখন প্রিয়া প্রেমিকের কাছে হয়ে ওঠে এক অনাবিল আনন্দময়ী উপহার। প্রিয়া হতে পারে কচি, আবার পরিণীতাও। প্রিয়ার সৌন্দর্য্য বর্ননায় কবি গোলাম মোস্তফা লিখেছেন,

"কি সুন্দর তুমি নারী
তুমি শক্তি, তুমি মুক্তি, তুমি স্রষ্টার সার সৃষ্টি।
তুমি সুরভী পুরিত কোমল কুসুম নবীন মাধুরী কুঞ্জে
তুমি শরৎ রাতের মধুচাঁদিনী শ্যামল পত্র পুঞ্জে।"

প্রেম বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রেম দু'প্রকার। দৈহিক প্রেম আর আত্মিক প্রেম। অর্থাৎ, রোমান্টিক লাভ (romantic love) এবং প্লেটোনিক লাভ (platonic love)। ইংরেজি মেটাফিজিকাল (metaphysical) ধারার প্রধান কবি জন ডান (John Donne) এই দুই মতেরই সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তাঁর মতে, "দৈহিক প্রেমের আঙিনা মাড়িয়ে তবে আত্মিক প্রেমের আঙিনায় পৌছাতে হয়।" সুতরাং প্রেমের প্রথমিক স্তরের চাওয়া পাওয়া একটু ভিন্ন ধরনের। নিশিদিন পথ চেয়ে থাকা, নীরব ভাষায় কথা বলা। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রেম নিছক আবেগপ্রধান। আবেগের স্রোতে বাস্তবতা হারিয়ে যায়। যেন হৃদয়ের একুল ওকুল দু'কুল ভেসে যায়। কবি সুকান্তের মতে, "হয়তো আমি যে সিড়ি দিয়ে উঠছিসেই সিড়ি দিয়েই ও নামছে। অবতরণকালীন ওর ক্ষণিক দৃষ্টি আমার চোখের উপর পড়ে আমার বুকের মধ্যে স্নিগ্ধমধুর শিহরণ জাগিয়ে যায়। পরক্ষনেই কেটে যায় আবেগের আবেশ।" তবে, নজরুল কাব্যে প্রেম এসেছে বিদ্রহের পাশাপাশি। নজরুলের ভাষায়- "মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাসরী, আর হাতে রণতূর্য।"

প্রেম মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। প্রেমের ফসল জীবন। জীবনের বন্ধন প্রেম। সে প্রেম অবশ্যই হতে হবে পবিত্র, স্বর্গীয়। তবেই প্রেমের স্বার্থকতা।

প্রেমের রসায়ন

উপক্রমনিকাঃ
নানা মুনীর নানা মত। প্রবাদের এই কথাটি প্রেমের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। বহুজন বহুভাবে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন প্রেমকে। ডিম আগে না মুরগী আগে -- এই কিনারাহীন প্রশ্নের মতই বহুজন ধোয়াশায় আচ্ছন্ন হয়েছেন -প্রেম আগে না যৌনতা আগে- এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে। প্রেমের দিকে একপর্যায়ে দৃষ্টি পড়েছে যুক্তিবাদী বিজ্ঞানীদের।

প্রেম কি সহজাত প্রবৃত্তি না নিছকই মানব-সংস্কৃতি বা সভ্যতা প্রসূত একটা ধারণা মাত্র? গবেষনায় দেখা গেছে-- বিবর্তন, জীববিজ্ঞান ও রসায়নবিদ্যা এই তিনটা শক্ত ভিতের উপরেই প্রেম নামক তাবুটার বাস। আফ্রিকান সমভুমিতে আজ থেকে প্রায় চল্লিশ লাখ বছর আগে প্রথম মস্তিস্ক থেকে এক বিশেষ ধরণের নিউরো-কেমিক্যাল ক্ষরণ হয়। নারী ও পুরুষ এরই প্রভাবে একে অন্যের চোখের দিকে তাকায়। ঘামতে থাকে হাতের তালু, আঙুল-- জন্ম হয় এক নতুন অনুভূতির। যার নাম প্রেম।

বর্তমানে নৃতাত্ত্বিকদের গবেষনায় প্রেমের আয়ু নির্ধারিত হয়েছে মাত্র চার বছর। প্রত্যেক মানুষের মস্তিষ্কে থাকে প্রেম-মানচিত্র। সেই মানচিত্রে আঁকা মুখটার সঙ্গেই হয় প্রেম। একই সময়ে দু'জনের সঙ্গে প্রেম হওয়ার বিষয়টা তর্ক-সাপেক্ষ। দেখা গেছে, মোট স্তন্যপায়ীর প্রায় পাঁচ শতাংশের কম অংশ বিশ্বস্ত জোড় বাধে। স্তন্যপায়ী প্রাণীশ্রেষ্ঠ মানুষের প্রেমের প্রকৃতি একগামী; তবে অতি গোপন ব্যাভিচার সহ।

যেহেতু পুরুষ প্রথম থেকেই নারী পরিবর্তনে অভ্যস্ত, তাই তাদের বিবর্তিত জিন এখনো বহুগামীতার বার্তা বহন করে। অন্যদিকে সেই প্রাগৈতিহাসিক নারী, যিনি তার দলের নজর এড়িয়ে ঘন সবুজ বনের আড়ালে প্রেমমত্ত থাকতেন অবৈধ প্রেমিককে নিয়ে, তার জিন এর প্রভাবেই আজকের নারীর মানসে বহুগামীতা-প্রবনতা।

প্রেম রসায়নঃ
চোখে চোখ পড়া, হাতে সামান্য হাতের স্পর্শ-- মস্তিষ্কে এক রাসায়নিক বন্যার সূচনা করে যা স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মানবদেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি হতে মাত্র পাঁচ অথবা সাত শতাংশ সেকেন্ড সময় লাগে। এমনি বিস্তারে রক্ত হয় বাহন। ফলে হাত ঘামা, ত্বকে রক্তিম আভা, দ্রুত নিঃশ্বাস ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। আসলে প্রেম আর উৎকন্ঠার বাহ্যিক প্রকাশ মোটামুটি একই রকম। প্রেমে পড়লে প্রচন্ড অকারণ আনন্দ বা ইউফোবিয়ার যে লক্ষণ দেখা যায়, তার জন্য দায়ী এমফেটামাইনের সমগোত্রীয় কিছু রসায়ন। যার মধ্যে নাম করা যায়-- জেপ্যামিন, নরএপিনেফ্রিন, ফিনাইল ইথাইল এমিন (PEA) ইত্যাদির।

যদি কেউ বলে, প্রেম তার কাছে নেশার মত লাগছে, কিংবা যদি কোন প্রেমিক ঘন জ্যোস্না ভরা রাতে তার প্রেমিকার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে-- তোমার চোখে নেশা ধরে যাচ্ছে, তাহলে সেটাকে নিছক ফিল্মি ডায়ালগ বলে উড়িয়ে দেয়ার কোন অবকাশ নেই। আসলে এটা ফিনাইল ইথাইল এমিন (PEA)-এর নেশা। তবে প্রসংগত উল্লেখ্য, এই PEA-এর নেশা অনন্তকাল থাকেনা। যার ফলে রোমান্টিক প্রেমও স্বল্পায়ু। যে কোন এমফেটামিনস্‌ এর মতই এই কেমিক্যালও শরীরে সঙ্গে টলারেন্স-ডিপেন্ডেন্স (Tolerance-dependence) এর খেলা খেলে। ক্রমশ শরীরে এই PEA টলারেনস্‌ তৈরি হয়। ফলে একই পরিমান প্রেমানুভূতির জন্য আরও বেশি পরিমান PEA দরকার পড়ে। দুই তিন বছরের মধ্যে PEA টলারেনস্‌ এতটা বেড়ে যায় যে, রোমান্টিক প্রেম জাগাতে যতটা পরিমান PEA দরকার শরীর তা' আর তৈরি করতে পারেনা। ফলে প্রেমের অনুভূতি আর তেমন তীক্ষ্ম থাকেনা। এই PEA টলারেনস্‌ তৈরি হওয়ায় প্রেমের তীব্রতা হারানো অনেকে সহ্য করতে পারেনা। ফলে স্বাদ পেতে অনেকেই ছুটে বেড়ান নির্দিষ্টতার সম্পর্ক থেকে আরেক সম্পর্কে, স্থান থেকে স্থানান্তরে। তবুও বহু প্রেমই টিকে থাকে উম্মত্ত স্তর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও। এরজন্য বাহ্‌বা দেয়া যায় আরেক শ্রেণীর রাসায়নিক সামগ্রিকে।

একজন সঙ্গীর ক্রমাগত উপস্থিতি অনেক সময় মস্তিষ্কে এনডরফিন্‌ জাতীয় রাসায়নিকের ক্ষরণ নিশ্চিত করে। এই জাতীয় রাসায়নিক আনন্দের তুবড়ি না ফোটালেও শান্ত সমহিত ভাব সৃষ্টি করে। বলা যায়, এগুলো প্রকৃতিজ যন্ত্রনা নিবারক। সঙ্গীর উপস্থিতির প্রভাবে ক্ষরিত এই এনডরফিন্‌ ক্রমাগত নিরাপত্তাবোধ ও শান্তি দেয়। দম্পতিদের মধ্যে একে অপরকে ছেড়ে গেলে অথবা একজন মারা গেলে এই এনডরফিনের ক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে দূর্বিষহ হয়ে ওঠে জীবন।

প্রেমের ক্ষেত্রে আর একটা জৈব রাসায়নিক অক্সিটোসিনের ভুমিকা উল্লেখ না করলে এই রচনা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মস্তিষ্ক উৎষারিত এই যৌগ স্নায়ু ও পেশীর সংকোচন ও উদ্দীপিত করে। নারীর ক্ষেত্রে এই পদারতথ প্রসবের সময় জরায়ুর সংকোচন বা প্রসারনে সাহায্য করে এবং স্তনে দুগ্ধ উৎপাদন ঘটায়। একনকি বাচ্চাদের আদর করার নেপথ্যেও এই অক্সিটোসিন। সর্বশেষ গবেষনায় জানা গেছে, পরিণত নারী-পুরুষের আদর করার ইচ্ছাও নিয়ন্ত্রিত হয় এই অক্সিটোসিন দ্বারা। সাধারণতঃ একজন পুরুষের আদর করার ইচ্ছা তখনই হয়, যখন তার রক্তে অক্সিটোসিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে তিনগুন থেকে পাঁচগুন বেশি থাকে। নারীর ক্ষেত্রে অক্সিটোসিনের মাত্রা আরও বেশি হয়।

সর্বশেষঃ পরিসংখ্যানঃ
১. সারাজীবনে একজন মানুষ প্রেমে পড়ে ছয়বার।
২. প্রায় ২৫% লোকের জন্মই যেন প্রেমে পড়ার জন্য। সারাজীবনে এরা প্রায় বার দশেক প্রেমে পড়েন।
৩. মেয়েরা নাকি এক পলকে প্রেমে পড়ে। একইরকমভাবে তাদের প্রেমাবসানও ঘটে। এদের ৭০% এর ক্ষেত্রেই পরিণতি হচ্ছে বিচ্ছেদ।
৪. প্রায় বারো ভাগ মানুষের জীবনে দু' একটা প্রেম হয়ে যায় নাকি নিজের অজান্তে।

রবিবার, ১৬ মে, ২০১০

ঈভ টিজিং ও একটি অফ-ট্র্যাক ভাবনা।

নারী নির্যাতনের কথা শুনলেই আমরা অনেকটা মধ্যযুগীয় কায়দায় একতরফাভাবে পুরুষ ব্যাক্তিটিকে দায়ী করে থাকি। সেটা যে কোন ধরণের নারী নির্যাতনের কথায়ই হোক না কেন। ঘরে বা পরিবারে স্ত্রীর গায়ে হাত তোলাই হোক আর রাস্তাঘাটে বখাটে ছেলে কর্তৃক ঈভ টিজিং-এর ঘটনাই হোক—এজাতীয় যে কোন ঘটনা ঘটলেই আমরা মোটামুটিভাবে মনে মনে হলেও ঐ দায়ী পুরুষ ব্যাক্তিটির Fourteen Generations উদ্ধার করে থাকি। আমি প্রকৃপক্ষে কোন অবস্থাতেই কোন অপরাধীর পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছিনা বরং এ জাতীয় ঘটনায় পুরুষ ব্যাক্তিটি যদি দায়ী হয়ে থাকে তাহলে তা’ জঘন্য অপরাধ এবং তার উপযুক্ত দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়া আবশ্যক; যেন এ ধরণের অপকর্ম ঘটানোর আগে এর শাস্তির কথা ভেবে অন্য যেকোন ব্যাক্তির আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হবার যোগাড় হয়। আমি শুধুমাত্র যে দিকটির উপর সচেতন পাঠকের দৃষ্টি নিবদ্ধ করাতে চাচ্ছি, এই লেখাটির শেষাংশ পর্যন্ত গেলেই তার স্বরুপ বের হয়ে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।

সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এই মুসলিম দেশটিতে ঈভ টিজিং এর হার এত ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে এটাকে সেই ইসলাম পূর্ববর্তী আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকারের যুগের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কিছুদিন আগে দেশের একটি অঞ্চলে এই ঈভ টিজিং-এর বিরুদ্ধে আমাদের সম্মানিত মা-বোনদের আন্দোলন পর্যন্ত করতে হয়েছে—জাতি হিসেবে এর থেকে লজ্জার আর ঘৃনার কিছু আছে বলে আমি মনে করিনা। যাইহোক, তবে সকল ঘটনার জন্য কি কেবল পুরুষই দায়ী? এর জন্য নারীর কি কোন দায়বদ্ধতা নেই? যে অপমানের যন্ত্রনা সইতে না পেরে নারী আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে সেই অপমানের জন্য সে নিজেও কি কখনো দায়ী হতে পারে? মুদ্রার উল্টোপিঠের এই দিকটি নিয়ে ভাববার সুযোগই হয়তো আমাদের নেই। নারীরা আমাদের কাছে যেন দুধে ধোয়া তুলসী পাতা। আর মিডিয়া তো আছেই। তাই, কিছু ঘটলেই বিনা বিচারে আমরা পুরুষ ব্যাক্তিটিকে দায়ী করে থাকি আর তার শাস্তির দাবীতে মিছিল মিটিং করতে ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে পড়ি; কখনো কখনো হয়তো প্রকৃত ঘটনায়ই আমরা জানিনা।

নারী সৌন্দর্য্যময়ী। একটা বিশেষ সময়ে নর-নারী বয়োঃপ্রাপ্ত হয় আর তাদের মধ্যে জন্ম নেয় দূর্নিবার আকর্ষন। নারীর সৌন্দর্য্যে গুনমুগ্ধ হয় প্রেম-পিয়াসী পুরুষ। আর বহুগামীতার বার্তাবাহী নারী নিরবে নির্জনে মিলিত হতে চায় প্রেমাভিসারে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। পৃথিবীতে মানুষ পাঠানোর ব্যাবস্থা হিসেবে আল্লাহ তায়ালা নারী-পুরুষের মিলনকে করেছেন আবশ্যক। আর তাই, তাদের মধ্যকার এই সুতীব্র আকর্ষন যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবমুখী। কিন্তু এর জন্য চাই সমাজসম্মত সুস্থ সুন্দর বিধান। নারীর দৈহিক সৌন্দর্য্যের প্রতি পুরুষের আকর্ষন তীব্র ভাবাবেগ সম্পন্ন। এই সময়ে নারী-পুরুষের মনে একে অপরে সান্নিধ্য পাওয়ার বাসনায় নানা ধরনের কু-চিন্তা প্রকট হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য যে আমাদের সমাজের নারীরা তাদের যথাযথ সম্মানের কথা ভুলে গিয়ে পুরুষের সেই নিষিদ্ধ বাসনাকে প্রলুদ্ধ করতে যেন উঠে পড়ে লেগেছে।

অতি সাম্প্রতিককালে নারীদের পোষাক এত আটোসাঁটো যে সেই পোষাকের মধ্য দিয়ে তাদের দেহের প্রতিটা ভাজ একেবারে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পুরুষদেরকে প্রলুদ্ধ করতে এই নারীরা যেন সৌন্দর্য্যের পসরা সাজিয়ে রুপের হাটে বিকিকিনি করতে ব্যাস্ত। এমতাবস্থায় ঈভ-টিজিং বা তার থেকে জঘন্যতর কোন অপরাধের ঘটনা ঘটলে তার জন্য কি কেবল পুরুষই দায়ী? পুরুষের সামনে এমন শরমহীনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য কি নারী বিন্দুমাত্রও দায়ী নয়? আমি আবারও বলছি, নিরীহ নারীর প্রতি নির্যাতনের জন্য পুরুষ এককভাবেই দায়ী। কিন্তু বর্তমান সমাজ বাস্তবতার প্রেক্ষিতে নারীকে আর নিরীহ বলা যাচ্ছেনা; বরং তারা পুরুষের একটি বিশেষ অনুভুতির Incentive রুপেই নিজেদেরকে তুলে ধরতে পারাটাকে স্বার্থকতা বলে মনে করে। অথচ মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-- “হে নবী, আপনি আপনার পত্মীগনকে ও কন্যাগনকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগনকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবেনা, আল্লাহ পরম দয়ালু (সুরা আল আযাহাব-৫৯)।” আর পুরুষদেরকে সম্পর্কেও আল্লহা তায়ালা বলেন-- “মুমিনদেরকে বলুন, তার যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে, এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবগত আছেন (সুরা আন নূর-৩০)।”

পাশাপাশি আছে আধুনিকতার নামে বয়স্ক নর-নারীর অবাধে মেলা মেশার সীমাহীন সুযোগ। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গুলো যেন আর শিক্ষাকেন্দ্র নেই, সেগুলো এখন বয়স্ক নর-নারীর অবাধ মেলা মেশার মিলনকেন্দ্র। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তো এক ধাপ এগিয়ে। আর সেই সাথে আছে আমাদের বিবেকবর্জিত স্থুল চিন্তাধারার মিডিয়া- হোক তা ইলেক্ট্রনিক বা প্রিন্ট মিডিয়া। ফ্যাশন শো’ বা সাজসজ্জার অনুষ্ঠানের নামে এই মিডিয়াই টেনে আনছে বিদেশী অপ-সংস্কৃতি; অথচ দেশের কথা বললেও দেশী সংস্কৃতির বিকাশে এদের কোন মাথাব্যাথা আছে বলে মনে হয়না। এই সকল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে এক সময়ের মুসলিম ঐতিহ্যধারণকারী নারীরা আজ গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাচ্ছে। ফলস্বরুপ, তাদের উপর নেমে আসছে নিম্নতর অপমানের সুতীব্র যন্ত্রনা। আল্লাহর দেয়া বিধান যদি আজ নারী পুরুষ উভয়েই মেনে চলতো তাহলে আজ নিশ্চয়ই আমাদের মা-বোনদের সম্মান রক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হতোনা।

সর্বশেষ একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে আমি আমার এই লেখাটি শেষ করছি। আমি যখন কলেজে পড়তাম তখন সুমিদের (ছদ্মনাম ব্যাবহার করছি) এলাকায় মেসে (Mess) থাকতাম। আমি কলেজ ছাত্রী সেই সুমির কথায়ই বলছি যে কয়েক বছর আগে বখাটেদের দ্বারা উত্যক্ত হওয়ার কারণে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। দোষী ছেলেগুলোর উপযুক্ত শাস্তিও হয়েছিলো। ছেলেগুলো বখাটে ছিলো তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু নেপথ্যের ঘটনার জন্য সুমি নিজেও কি কম দায়ী ছিলো? অবশ্যই না। শুধুমাত্র প্রেমের প্রস্তাব দেয়ার জন্য যদি একটি ছেলের গালে চড় মারতে হয় তাহলে তো পৃথিবী থেকে প্রেম নামক জিনিসটা উঠে যেত। আমার কোন নারীকে ভালো লাগলেই যে সেই নারীর আমাকে ভালো লাগবে এমনটি নিশ্চয়ই নয়। কিন্তু আমার ভালোবাসার কথা বলার জন্য কি আমাকে চড় খেতে হবে? ঘটনার প্রথম দিকটা কিন্তু এরকমই ছিলো। সুমির দূর্ভাগ্য এই যে সেই ছেলেটি ছিলো বখাটে আর তাই সুমির দেয়া চড়ের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলো যে কোন মুল্যে। আর ঘটনার ধারাবাহিকতায় মৃত্যু হয় সুমির। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে পরবর্তী সকল ঘটনার জন্য ওই ছেলেগুলোই দায়ী। কিন্তু আগুন চাপা না থাকলেও এরকম হাজারো সত্য চাপা থাকে চিরকাল। কেননা এটা যে নারী-নির্যাতনের মামলা!