|| বাংলার নবাবের ওয়েবসাইটে স্বাগতম ||
আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া | ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া।
অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৬

গল্প নয়, সত্যি!

মানুষের জীবনে কিছু দিন থাকে, যা ভোলা যায় না। আজ থেকে ঠিক দু বছর আগে এমন একটা দিন এসেছিলো। ২৭ অক্টোবর, ২০১১। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে ভাইভা। ঠিক আগের রাত্রে ন' টার এ. কে. ট্রাভেলস এর বাসে করে খুলনা থেকে রওনা দিলাম আমরা। বাবা, মা আর আমি। শুরুতে গাড়ি বেশ ভালোই চলছিলো। রাত ১ টার দিকে বাস থামলো। সেই যে থামলো আর তার চলার নাম নেই। এক পা দু' পা করে সামনে এগোয়। আমার তো সকাল ১০ টা থেকে ভাইভা। বিশাল টেনশানে পড়ে গেলাম। বাবা সামনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখলেন সময় মতো সাভার পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুব ই কম। দু একজন নেমে পড়লো মাঝ পথে, যাদের বুকে পাটা ছিল এবং খুব বেশি তাড়া ছিল। তখন বাস ধর্ম ঘট। আমরা সে সবের কিছুই জানতাম না। খুলনার এ. কে. ট্রাভেলস এর কন্ট্রাক্টর ও কিছু বলেনি আমাদের। আমাদের সাথে আরেকটি ছেলেও যাচ্ছিলো জাহাঙ্গীর নগরে ভাইভা দিতে।

কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই। সকালে চোখ মেলে দেখি বাসের অধিকাংশ যাত্রীই বাসের ভিতর নেই। সব বাইরে। জ্যাম এ আটকা পড়া বিশাল লাইন দেখছে। আমিও নামলাম। তখনো আমরা পদ্মা নদীর এপারে । ঠিক কোথায় তাও জানি না। এক পর্যায়ে বাবা সব জিনিস পত্র নিয়ে এগোতে বললেন। আমরা বাস থেকে নেমে পড়লাম। একটু পর খেয়াল করে দেখি কোনও alternative নেই। বড্ডও ভুল হয়ে গেছে। ততক্ষণে বাস ছেড়ে দিয়েছে। আমরা আবার দ্রুত বাস ধরলাম। ড্রাইভার বিটকেলে একটা হাসি দিলো। বাবা রেগে গেলেন। এক ধরনের ছোট খাটো ঝগড়া বলা চলে। গাড়ি চালাতে উনার এতো গড়িমসি কেন? পিছনের গাড়ি গুলো কত দূর এগিয়ে গেছে। বড় কথা তাঁর মেয়ের পরীক্ষা। হাতে মাত্র তিন ঘণ্টা। ফেরি পেতে হবে। ওখানে দেরি হবে ঘণ্টা দুএক। আরও তখন হাল্কা হাল্কা শীত। আমরা সবাই দোয়া ইউনুছ পড়তে লাগলাম। অবশেষে ফেরি পার হওয়া গেলো।

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৬

ফুলের দাম আমায় শোধ করতে হবে !!!!

সাকিব আল হাসানকে একবার এক টিভি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হলো- "গ্রেট প্লেয়ারদের ভালো খেলার পেছনে একটা মোটিভেশন থাকে। আপনার অনুপ্রেরণার উৎস কী??"
জবাবে সাকিব তার চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন...!!!...
সাকিব আল হাসান

সাকিবের জবানীতেই শুনুনঃ
প্রচন্ড গরমের ভেতরে একটি শিশু ফুল বিক্রি করছে। যার সমস্ত শরীর কুলকুল করে ঘামছে। এমন সময় পথশিশু টি আমার গাড়ির কাছে এসে বললো- " স্যার, একটা ফুল নিবেন?? "
আমি তার সঙ্গে থাকা সবগুলো ফুল নিয়ে নিলাম!!!! তারপর গাড়ির জানালার কাচ খুলে দাম দিতে যাবো ঠিক এমন সময় ওই ছেলে আমাকে দেখে চিনে ফেললো !!

বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

অণুগল্প

নাম্বারটা পেয়েছিলাম তার এক বান্ধবীর কাছে। বান্ধবীর ক্যামেরায় তার ছবি দেখে ভালো লেগেছিলো তাকে। কিন্তু তার সাথে যোগাযোগের কোন উপায় ছিলনা। পরে কৌশলে সেই বান্ধবীর কাছ থেকে নিয়েছিলাম তার নাম্বার। তারপর কয়েকটা দিন পার হলেও তাকে আর কল করা হয়নি। বিষয়টা নিয়ে আমিও খুব একটা মাথা ঘামায়নি। প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম তাকে কল করার কথা।

কয়েকদিন পর হঠাৎ মোবাইলের কন্ট্যাক্টস-এর মধ্য দিয়ে স্ক্রল করার সময় পর্দায় তার নাম্বার ভেসে ওঠে। ভাবলাম একটা কল দেই। দেখা যাক কী হয়। কিছুক্ষণ রিং বাজার পর ওপাশ থেকে ভেসে আসলো তার কন্ঠস্বর।

--আসসালামু আলাইকুম, কে বলছেন?
--সামিয়া বলছেন?
--হুম। আপনি?
--আমাকে আপনি চিনবেন না। আপনার পরীক্ষা কেমন হলো?

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় এডমিশান টেষ্টের দুদিন পরে আমি তাকে ফোন করি। আর, সে যে এডমিশান টেষ্ট দিয়েছিলো সে খবর আমি তার বান্ধবীর কাছ থেকে জেনেছিলাম। এবার ওর অবাক হওয়ার পালা।
--আরে, আপনি দেখছি আমার অনেক কিছুই জানেন! আমার নাম, এডমিশান টেষ্টের খবর।
--হুম জানি বটে।
--আর কি কি জানেন বলেন  তো?
--এই যে এখন আপনি পড়ছেন।
--এটা তো খুব স্বাভাবিক কথা। যেহেতু আমার আরও কয়েকটা পরীক্ষা বাকী তাই আমি এখন পড়াশুনা করবো এটা তো স্বাভাবিক। যাইহোক, আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়? আপনি আমাকে চেনেনই বা কেমন করে? আমি যে এডমিশান টেষ্ট দিচ্ছি সে খবরই বা আপনি কোথায় পেলেন?

শেষের দিকে অনেক গুলো প্রশ্ন একসাথে করে সামিয়া। কোনটার উত্তর করবো বুঝতে না পেরে আমিও চুপ থাকি অনেক্ষন। তারপর এগিয়ে চলে আমাদের কথা। বুঝতে পেরেছিলাম, কৌতুহলী না করতে পারলে ওর সাথে কথা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়তো। প্রথম দিনের কথার সূত্র ধরে এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই টুকটাক কথা হতো ওর সাথে।

শুরু থেকেই ওর প্রতি আমার একটা ফ্যাসিনেশান ছিলো। ছবিতে দেখা শুভ্র চেহারার এই মেয়েটির কথাও যে এত সুন্দর তা ওর কন্ঠস্বর না শুনলে বুঝতে পারতাম না। দিন যেতে থাকলো আর ওর প্রতি ফ্যাসিনেশান আমার বেড়েই চললো। নূপুরের নিক্কণ ধ্বনির মত রিন রিন করে বাজতো ওর কন্ঠ। শোনার জন্য মুখিয়ে থাকতাম নিয়মিত। আমার ব্যাস্ত সময়ের মাঝে ওর জন্য বের করা সময় একটু একটু করে বৃদ্ধি পেতে লাগলো। আমি সরাসরি কল করতে পারতাম না ওকে। কখন ও কল করবে সেই আশায় বসে থাকতাম। ওর কল আসতে যদি খুব দেরী হতো, মনে মাঝে অভিমানের মেঘ জমা হতো। কিন্তু যখনই ফোনের মধ্য দিয়ে কানে এসে ওর সুর বাজতো, মুহুর্তেই ঝড়ো বাতাসে উড়ে যেতো অভিমানের মেঘ। সন্ধ্যাগুলো ছিলো অদ্ভুত। সাধারনতঃ সন্ধ্যাবেলাতে আমি বেশ একটু ফ্রী থাকতাম। আর সারাদিনের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে শুরু হতো আমাদের ফোনালাপ। দীর্ঘ সময় ধরে চলতো। চলতো বাড়ি ফেরার পরেও, এমনকি ফ্রেশ হওয়ার জন্যও সময় থাকতো না।

প্রস্তুত থাকতাম তার সাথে কথা বলার জন্য। কখন না জানি তার ফোন আসে! আপনি থেকে তুমি, খোজ থেকে কেয়ার, রাগ থেকে অনুরাগ এসব ইথারে ভেসেই হয়েছিলো। কিন্তু আমি তাকে দেখলেও সে আমাকে দেখেনি। আমিও যতটুকু দেখেছিলাম সেও কেবল ঐ ছবিতে। দেখা করার জন্য উতলা হই দুজনেই। ডীষ্টান্স অনেকটা বেশি ছিলো। দিনক্ষণ তবুও ঠিক হলো, দেখা হলো আমার মানসীকে। চোখের সামনে জলজ্যান্ত মানুষটিকে বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হচ্ছিল। এই পরী-টাইপ মেয়েটার সাথে আমি এতদিন কথা বলেছি! ছবির থেকেও সাদামাটা। ভাবনার থেকেও মোহনীয়

ঐদিনটা ছিলো আমার সাথে ওর শেষ দিন। আমার সাথে কথা বলার মাঝেই পারিবারিকভাবে ঠিক হয় ওর বিয়ে। অদেখা এই আমাকে নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে আসতে না পেরে অবশেষে বিয়েতে মত দিয়েছিলো, জানিয়েছিলো ও।  

বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১০

এক টুকরো জীবন

১.
মৌমিতার সবগুলো ভাবনাই মৌমিতাকে এলোমেলো করে দেয়। কতবেশি ভালো না বাসলে একজন মানুষ শুধুমাত্র তার ছেলের দিকে তাকিয়ে সারাটা জীবন পার করে দিতে পারেন! কতটুকু আদর্শিক না হলে একজন মানুষ সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে পারেন! কতবেশি স্বাপ্নিক না হলে একজন মানুষ তার ছেলেকে নীতি ও নৈতিকতার আদর্শে আদর্শিত করার স্বপ্ন দেখতে পারেন! কিন্তু সেই মহান, আদর্শবান, স্বাপ্নিক মানুষটিই আবার কি করে এতটা ন্যুয়ে পড়তে পারেন, কি করে শিশুর মত ঝরঝর করে কান্নায় ভেঙে পড়তে পারেন! বিশ্ব সংসারে প্রতিনিয়ত কত বিচিত্র কিন্তু হৃদয়-ছুয়ে-যাওয়া ঘটনাই না মানুষের জীবনে ঘটে চলেছে! কিন্তু হঠাৎ মুখোমুখি হওয়া এই পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়ে মৌমিতা। কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে যায় সে।

এমন শক্ত সামর্থ্য একজন মানুষকে অমন শিশুর মত কাঁদতে দেখে কাছে এগিয়ে যায়। বেঞ্চটার অর্ধেকজুড়ে বসে আছেন তিনি। একটু দূরে দাঁড়িয়ে মৌমিতা যে তাকে খেয়াল করছিলো তা লক্ষ্যই করেননি। হঠাৎ মৌমিতার উপস্থিতি টের পেয়ে একটু যেন অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। কি কথা বলবে বুঝতে না পেরে মৌমিতা বললো, ‘একটু বসতে পারি আপনার পাশে?’। কোন কথা না বলে তার দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকে মানুষটা। হ্যাঁ বা না এর অপেক্ষা না করেই বসে পড়ে মৌমিতা।

রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১০

পাঁচটির সমান একটি মৃত্যু!

রাত আটটা বাজতে চললো। অল্পকিছুক্ষণের মধ্যেই মহাজনের কাছে জমা দিতে হবে রইস মিয়ার রুটি-রুজির একমাত্র উপায়- ভাড়া করা রিক্সারিক্সার সীটের উপর বসেই টাকাগুলো গুনতে থাকে রইস মিয়া। আজ সারাদিন ধরে তার উপার্জন হয়েছে মাত্র একশ’ সত্তুর টাকা। এর মধ্যে মহাজনকে দিতে হবে ষাট টাকা। বাকী একশ’ দশ টাকা তার নিজের। সারাদিনের ঘামঝরা খাটুনির পর মাত্র এই কয়টি টাকা। টাকাগুলোর দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায় রইস মিয়াসকালবেলা পান্তা ভাত আর শুকনো মরিচ দিয়ে দু’টো খেয়ে বের হয়েছে। ঘরে তার তিন মেয়ে আর বউঅথচ দুপুরে তারা কী খাবে তার কোন ব্যাবস্থা ছিলোনা। দিনের পর দিন এভাবে গাধার খাটুনি খেটেও সংসারে কোন উন্নতির লক্ষণ দেখেনা সে। পাঁচ-পাঁচটা উদর পুর্তি করতে হয় বুড়ো রইস মিয়ার একার আয়ে।

বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০১০

ভালোবাসার অপমৃত্যু

খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে যায় মৌমিতার। খানিকটা আতংকে। সম্প্রতি তার সব কাজেই একটা অনীহা। ক্লাস পরীক্ষা এগিয়ে আসছে দ্রুততার সাথে। পড়াশুনাতে খুব একটা মন নেই। ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করে ও। ভাবতে থাকে ওর সেই সোনালী দিনগুলোর কথা। কত আনন্দ আর ভালোবাসায় ভরা ছিলো তার সেই দিনগুলো! ফয়সালের সাথে পরিচয়ের সেই প্রাথমিক দিনগুলো!

শুক্রবার, ২১ মে, ২০১০

ফয়সালের কোন অনুভুতিটা প্রেম?

ফয়সাল মাহমুদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের একজন ছাত্র। খুব সাধারণ এবং একটু গম্ভীর প্রকৃতির। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম নববর্ষ উদযাপন কালেই ওর সাথে প্রথম চোখাচোখি হয়েছিলো মৌমিতার। প্রথমটায় ও চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো। কিন্তু দ্বিতীয়বার দর্শনে চোখ সরাতে গিয়ে ফয়সালকে একটু ভাবতে হয়েছিলো। মৌমিতা, ঠিক একবাক্যে রুপসী বলা যায়না ওকে। দশজনের মধ্যে দশমাও নয় সে। তবে এক মায়াবতী নারী। এজন্যই বোধহয় প্রথমবার নয়, দ্বিতীয়বার চোখ সরাতে ব্যার্থ হয়েছিলো ফয়সাল মাহমুদ।

ফয়সাল আমার বন্ধুমানুষ। এরপরেরবার যখন ওকে দেখেছিলাম, দেখেছিলাম মৌমিতার সঙ্গেই। ফয়সাল মৌমিতার পাশাপাশি হেটেছিলো। এক ভীষন ভালোলাগায় ভরে গিয়েছিলো ফয়সালের মন। মনে মনে ভেবেছিলো--- এটাই বুঝি প্রেম

এর বেশ কিছুদিন পরের কথা। পাশাপাশি বসে ছিলো ওরা দু’জন। ক্যাম্পাসের লেকের পাড়ে কোন একটা বেঞ্চিতে বসে ছিলো ওরা। দু’জনের চোখ দু’জনের চোখে। বেশ কিছুক্ষন নীরব দু’জনেই। যেন হৃদয়ের সকল অমৃতকথা প্রকাশিত হবার পথ খুজে নিচ্ছে নীরবতার ভাষাতেই। একটু পর মৌমিতার হাত দুখানি নিজের হাতের মধ্যে টেনে নিয়েছিলো ফয়সাল। প্রিয়ার প্রথম স্পর্শ অবাক করে দিয়েছিলো ফয়সালকে। সমগ্র অঙ্গে এক বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গিয়েছিলো। ফয়সাল ভেবছিলো--- এটাই বুঝি প্রেম।

তারপর থেকে যতটা জেনেছিলাম তার পুরোটাই ফয়সাল আর মৌমিতার ভালোবাসার গল্প। ওরা দু’জন দু’জনকে ভালোবেসেছিলো, গভীরভাবে। ফয়সালের সমস্তটা জুড়ে ছিলো মৌমিতা। আর মৌমিতা তার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছিলো ফয়সাল মাহমুদের জন্য। মাঝে মাঝে অপেক্ষার পালা ও ওদের ভালোবাসায় স্থান করে নিয়েছিলো। ক্যাম্পাসে এসেই মৌমিতার খোজ করতো ফয়সাল। আবার মৌমিতাও ফয়সালের জন্য। কোনদিন হয়তো পিছন থেকে এসে মৌমিতার চোখ আটকে ধরতো ফয়সাল। বিস্ময়ে পিলে চমকে যাওয়া মৌমিতা কপট অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে নিত। পরক্ষনেই ওকে ঘিরে ফেলতো অনুরাগের আবেশ। এভাবেই ওদের দিনগুলো চলছিলো— ভালোবাসা আর খুনসুটির মধ্য দিয়ে।

কোন এক সকালে শহীদ মীনারের পরে বসে ফয়সালের অপেক্ষা করছিলো মৌমিতা। ভার্সিটির বাসে করেই আসবে ফয়সাল- এমন ধারণা ছিলো মৌমিতার। কিন্তু ফয়সাল আসেনি। তারপর আরোও কিছুক্ষন অপেক্ষা করেছিলো মৌমিতা। ভেবেছিলো, হয়তো কিছুক্ষনের মধ্যেই চলে আসবে ও। কিন্তু তখনো আসেনি ফয়সাল। অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হলো। এক সময় অনন্যোপায় হয়ে ফয়সালকে ফোন দিয়েছিলো। ... ... ..
সেদিন এক অজানা উদাসীনতা ভর করেছিলো ফয়সালের উপর। campus –এ যাওয়ার এতটুকু আগ্রহ দেখায়নি ও। ফোনটাও বন্ধ করে রেখেছিলো এক অজানা কারণে। একারনেই, হাজারো চেষ্টা করেও ফয়সালের সাথে কোনরকম যোগাযোগ করতে পারেনি মৌমিতা। পরেরদিন ক্যাম্পাস-এ এসেছিলো ফয়সাল। মৌমিতার সাথে দেখাও করেছিলো একেবারে প্রথমে। মৌমিতা ওকে জড়িয়ে ধরেই কেঁদেছিলো কিছুক্ষণ। এক অপরিজ্ঞাত ভালোবাসায় ভরে গিয়েছিলো ফয়সালের মন। ভেবেছিলো, এটাই বুঝি প্রেমের প্রকৃত দ্যোতনা।

এর বেশকিছুদিন পরে আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিলো ফয়সালের। ওর মুখ থেকেই শুনছিলাম মৌমিতার কথা। এক গভীর নিস্তব্দ রাতে এই অপরুপা তরূণী তার নিজের সমস্তটাই তুলে দিয়েছিলো ফয়সালের হাতে। শক্ত-সামর্থ্য যুবা পুরুষ ফয়সাল মৌমিতার শরীরের প্রতিটা ভাজে তার ছাঁপ একে দিয়েছিলো। মৌমিতার দেহজ সৌন্দর্য্য উম্মোচন করার প্রতিটি মুহুর্তে শরীরে মধ্যে এক পুলক অনুভব করেছিলো ফয়সাল। মৌমিতার নগ্ন বক্ষে বক্ষ মিশিয়ে ভালোবাসার সবটুকু স্বাদ আস্বাদন করেছিলো ও। প্রমিলা তনুর ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাস ফয়সালের সমগ্র শরীরে পরমোচ্ছাসের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিলো। সেদিনও ফয়সাল অনুভব করেছিলো—এটাই বুঝি প্রেম।

বহতা নদীর মতই বয়ে চলে সময়। অনেকদিন পর ফয়সালকে দেখেছিলাম ক্যাফেটেরিয়ায় বসে চা খেতে। হাতে ওর একটা সিগারেট ছিলো। এখন নাকি ওটাই তার নিত্য সঙ্গী। ওর পাশে বসেছিলাম কিছুক্ষণ। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে মৌমিতার কথা জিজ্ঞেস করার ইচ্ছাটা নিভে গেলো। অল্প কিছুক্ষণ নিরবতার পরে ফয়সাল নিজেই বলেছিলো মৌমিতার কথা। ও এখন আর ফয়সালের নেই। সবকিছু নাকি শূন্য মনে হয় তার। হঠাৎ কাধে হাত রেখে ও বললো—এটাই প্রেম রে।

কি জানি, ফয়সালের চোখের কোনা একটু চিকচিক করে উঠেছিলো হয়তো। আর কোন কথা বলতে পারেনি ও।
ভাবছিলাম... ‘ফয়সালের কোন অনুভূতিটা প্রেম?’

শুক্রবার, ৭ মে, ২০১০

ম্যাচিউর টোনা-টুনির গল্প।

ম্যাচিউর টোনা-টুনির গল্প।

ছোট্ট একটি গল্প বলবো। একেবারেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বালুকনা সম। গল্পটি সম্পূর্ণ মূল্যহীন। পড়তে পারেন, তবে সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে। সময় ক্ষেপনের জন্য অবশ্যই আপনি আমাকে দায়ী করবেননা। লেখাটি একেবারেই অযথা।

আমার শুধু হাসি পায়। হাসতেই আছি, যতবার মনে পড়ে গল্পটি, ততবার। এটাকে টোনা-টুনির গল্প বলা যাবে কিনা তা’ বলতে পারছিনা। তবে, এরা বয়সে একটু পাকা। অর্থাৎ ম্যাচিউর টোনা আর টুনি।

টোনা টা ভীষন অভিমানী। তবে দায়িত্বশীল আর বিবেকসম্পন্ন। যথাকর্তব্যের বাইরে কাজ করতে টোনার ভীষন অপছন্দ। তাই, এত দীর্ঘকাল পার হলেও কোন নারীর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করেনি একবারও ।

আগেই বলেছি, গল্পটি পুরোটাই ফালতু। তবে একেবারেই বেজ্‌লেস না। শুনেছি টুনির নাকি টোনাকে একটু একটু ভালো লাগতে শুরু করে। আমার শুধুই হাসি পায়। এ যুগের টুনি তো, তাই অনুভুতির কথাটা অনলাইনেই প্রকাশ করেছিলো। না না, ঘটনাটি পাবলিক হয়নি। অনলাইনে শুধু টোনার কাছেই প্রকাশ করেছিলো। টোনা আর যায় কোথায়? টুনির ডাকে সাড়া তো দিতেই হবে।

এই এত দীর্ঘকাল পরেও ভালোবাসা সবুজ ঘাসের মত নরম আর কচি মনে হলো টোনা-টুনির কাছে। কী লজ্জার কথা। প্রথম প্রেম। আর আমার কিনা হাসি পায়। ভাবি, আর হো হো করে হাসি। টুনির প্রেমের প্রথম সাক্ষাৎ টা সম্পূর্ণ নাটকীয়, তবে বহুগামীতার বার্তাবাহী বাঙালী ললনার লুকোচুরি অভিসার যাত্রার মতো। সবার দৃষ্টি এড়িয়ে, একেবারে ঘনকৃষ্ণ বিভাবরীর আড়ালে থেকে মুখ লুকিয়ে নেয়ার মত করে। আমার কিন্তু এখনো হাসি পাচ্ছে। ম্যাচিউর টোনা-টুনি। অথচ কি সকরুন নেত্রনিমীলিত সলজ্জ্বভাব!

আর বলবোনা গল্পটি। আর কিইবা বলরে বাকী আছে। এ বিশ্বের লাখো যুগলের তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি প্রেমিক যুগলের।

শুভ হোক ম্যাচিউর টোনা-টুনির ইমম্যাচিউর প্রেম। আমার হাসি কিন্তু এখনো থামেনি। হাসতেই আছি।