|| বাংলার নবাবের ওয়েবসাইটে স্বাগতম ||
আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া | ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া।
কবি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬

উমর ফারুক

--কাজী নজরুল ইসলাম

তিমির রাত্রি - 'এশা'র আযান শুনি দূর মসজিদে।
প্রিয়-হারা কার কান্নার মতো এ-বুকে আসিয়ে বিঁধে!

আমির-উল-মুমেনিন,
তোমার স্মৃতি যে আযানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন।
তকবির শুনি, শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি,
বাতায়নে চাই-উঠিয়াছে কি-রে গগনে মরুর শশী?
ও-আযান, ও কি পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান?
মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ও কি ও তোমারি সে আহ্ববান?

আবার লুটায়ে পড়ি।
'সেদিন গিয়াছে' - শিয়রের কাছে কহিছে কালের ঘড়ি।
উমর! ফারুক! আখেরি নবীর ওগো দক্ষিণ-বাহু!
আহ্বান নয় - রূপ ধরে এস - গ্রাসে অন্ধতা-রাহু!
ইসলাম-রবি, জ্যোতি তার আজ দিনে দিনে বিমলিন!
সত্যের আলো নিভিয়া-জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ।
শুধু অঙ্গুলি-হেলনে শাসন করিতে এ জগতের
দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের
ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের ধরি
আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০১৫

আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ
এই কী মানুষজন্ম? নাকি শেষ
পরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা! প্রতি সন্ধ্যেবেলা
আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা
করে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে
থাকি-তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে। আমি আক্রোশে
হেসে উঠি না, আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা হয়ে হাঁটি,
মশা হয়ে উড়ি একদল মশার সঙ্গে; খাঁটি
অন্ধকারে স্ত্রীলোকের খুব মধ্যে ডুব দিয়ে দেখেছি দেশলাই জ্বেলে-
(ও-গাঁয়ে আমার কোনো ঘরবাড়ি নেই!)

রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

শ্যালিকা

_______ গোলাম মোস্তফা

বুঝে পড়ে দেখিলাম করে তালিকা
সব চেয়ে সমধুর ছোটো শ্যালিকা।
       
নেই তার তুল
       
মন মশগুল
প্রাণ-পাওয়া বাসরের ফুল-মালিকা।

প্রেয়সীর আদরের ছোটো ভগিনী
সুখ দুখে চিরদিন সহযোগিনী
       
রাঙা টুকটুক
       
হাসি মাখা মুখ
ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপ উপভোগিনী ।

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১২

ঈদ মোবারক

কাজী নজরুল ইসলাম

শত যোজনের কত মরুভূমি পারায়ে গো,
কত বালু চরে কত আঁখি-ধারা ঝরায়ে গো,
বরষের পরে আসিল ঈদ!
ভূখারীর দ্বারে সওগাত বয়ে রিজওয়ানের,
কন্টক-বনে আশ্বাস এনে গুল-বাগের,
সাকীরে ''জা'মের'' দিলে তাগিদ!

খুশীর পাপিয়া পিউ পিউ গাহে দিগ্বিদিক,
বধু-জাগে আজ নিশীথ-বাসরে নির্নিমিখ্।
কোথা ফুলদানী, কাঁদিছে ফুল!
সুদূর প্রবাসে ঘুম নাহি আসে কার সখার,
মনে পড়ে শুধু সোঁদা সোঁদা বাস এলো খোঁপার,
আকুল কবরী উলঝলুল্!!

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে

কাজী নজরুল ইসলাম

মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ।
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাকিদ ।।

তোর সোনাদানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ।।

তুই পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।।

আজ ভুলে গিয়ে দোস্ত-দুশমন হাত মিলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরীদ।।

যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা নিত্-উপবাসী
সেই গরীব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মফিদ।।

ঢাল হৃদয়ে তোর তশতরীতে শিরনী তৌহিদের,
তোর দাওত কবুল করবেন হযরত, হয় মনে উমীদ।।

তোরে মারল ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইঁট পাথর যারা
সেই পাথর দিয়ে তোল রে গড়ে প্রেমেরি মসজিদ।।

সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০১০

কবি’র ট্যাগ ও কবিতা

আমি কবিতা পড়তে ভালোবাসি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমি একজন কবি। কিছুটা বিপরীত ভাবধারা থেকেই আমার এই দৃঢ় উচ্চারণ। ঠিক কাকে কবি বলা যায় তা নিয়ে আমার জ্ঞানের যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে, যে কারণে আমি এই কবি আর কবিতার সংজ্ঞায়নে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছি তা একটু খোলাসা করা দরকার। সাম্প্রতিককালে আমার পরিচিত কতিপয় সুজন, কপালে কবি’র ট্যাগ লাগিয়ে নিজেদের কবি হিসেবে জাহির করার যে প্রয়াস হাতে নিয়েছেন, তাতে ‘কবি’ আর ‘কবিতা’র সংজ্ঞায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তত আমার আত্মবোধগম্যতার কারণে হলেও। কবিতা দু চারটে রচিত হোক বা না হোক, কবি হিসেবে ওদের পরিচয়ের খবর বেশ হাস্যরসের যোগান দেয়।