|| বাংলার নবাবের ওয়েবসাইটে স্বাগতম ||
আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া | ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া।
সমসাময়িক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমসাময়িক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০১৫

মাই ফ্রেন্ডস্‌... মাই ফ্রেন্ডশীপ... মাই ফ্রেন্ডশীপ ডে ...


... যখন প্রেম করতাম, ক্যাম্পাসে বসে দূজনে সারাদিন শুধু গল্প আর গল্প। কী গল্প যে করতাম জানিনা। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দূপুর পেরিয়ে কখন যে বিকাল হয়ে যেতো, টেরই পেতাম না! 

এভাবে চললো দীর্ঘ সাত বছর। এখনো আমরা গল্প করি। সন্ধ্যায় আপিস থেকে ফিরে সেই যে গল্প শুরু; কখন যে রাত ২/৩টা বেজে যায়!! শেষে সকাল বেলা আপিসে দেরী! শী ওয়াজ, ইজ এ্যান্ড উয়ীল অলওয়েজ বী মাই বেস্ট ফ্রেন্ড।

... শুরুটা ইউনিতে ভর্তির দিন থেকে। 
    : “ki koro”
    : “walking..”
    : “where to where” 
    : “nowhere to nowher” 
এ্যাক্‌টেল –এর ফ্রী মেসেজের সেই দিনগুলো পেরিয়ে শুরু হলো ইউনি’র ক্লাস। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে গল্প, আড্ডা, গান ... কিভাবে যে প্রাণে মিসে গেছিস! ইউ আর নো মোর মাই ফ্রেন্ড। ইউ আর মাই ব্রো, মাই গার্ডিয়ান। আই ডু লাভ দী, Shoab। 

... বাপ, মনে পড়ে ক্যাম্পাসের ডাবল বেঞ্চ বসে গলা ফাটিয়ে আমাদের গান!! “ভালোবাসি বলেরে বন্ধু......”!! তোকে ভালোবাসি বাপ। ইউ আর মাই ট্রু ফ্রেন্ড।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৫

‘চাচ্চু, আমাকে কিন্তু খেলার টিকেট দিতেই হবে’


ভাইপো আমার একমাস আগেই বলে রেখেছিলো, ‘চাচ্চু, আমাকে কিন্তু খেলার টিকেট দিতেই হবে’।

এপ্রিল ২৮, ২০১৫ থেকে খুলনাতে চলছে ড্যানকেক সিরিজের বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার ১ম টেস্ট। ভাইপোকে কি করে বোঝাই টিকেট কাটার দৌড়ঝাপ কত! বন্ধু বিথী’র পরামর্শে ইউক্যাশ-এ একাউন্টও খুললাম। ১ম দিনের টিকেট কেটে এক কলিগকে দিয়ে দিলাম। ভাবলাম, ভাইপোকে ২য় দিনের টিকেট দিবো।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৫

বৈশ্বিক গনতান্ত্রয়নের এই প্রকৃয়ায় বাংলাদেশ

আল্লাহর রহমতে আর বর্তমান ক্ষমতাসীন গনতান্ত্রিক সরকারের ঐকান্তিক ইচ্ছায় দোর্দন্ড প্রতাপে, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে চলেছে সিটি নির্বাচনে ভোট-গ্রহণ প্রকৃয়া। মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই আমরা ফলাফল পেয়ে যাবো যে, সায়ীদ খোকন, আনিসুক হক আর আ জ ম নাছির উদ্দিনই তিন সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

বৈশ্বিক গনতান্ত্রয়নের এই প্রকৃয়ায় বাংলাদেশ সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
দেশে গত ৫ই জানুয়ারীর চেয়ে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সিটি নির্বাচন হচ্ছে। গনতন্ত্রের মাইলফলকে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।
বাংলাদেশের এই উত্তরোত্তর গনতান্ত্রিক উন্নয়নে পাশে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।।


বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০১১

ব্রেকিং নিউজঃ অনলাইনীয় শুভেচ্ছা প্রদানের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।


ব্রেকিং নিউজঃ অনলাইনীয় শুভেচ্ছা প্রদানের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের সাথে সারা দেশে পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সর্ববৃহত অনুষ্টান- ঈদুল ফিতর। এই উপলক্ষ্যে আনন্দে মেতেছে এদেশীয় সকল ব্লগার ও ফেইসবুকাররাও। এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর তাদের জন্য যে আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে তার শতভাগ গ্রহন করতে প্রস্তুত এই নেটিজেনরা। একারনেই সকাল থেকে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে বাংলাদেশের সকল ফেইসবুকার ও ব্লগার নিয়মিত ঢুঁ মারছেন তাদের ওয়াল ও ব্লগ পেজে। তারা প্রায় প্রত্যেকে নিয়মিত বিরতিতে তাদের ওয়াল চেক করছেন আর দেখছেন কে কে “ঈদ মুবারাক”সহ অন্যান্য সকল ঈদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ওয়াল পোস্ট ও ব্লগপোস্ট-এর মাধ্যমে। আমাদের নেটিজেন সংবাদ্দাতা মিঃ ফেইসবই জানাচ্ছেন, আজ প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ ফেইসবুকার একবার হলেও তাদের ওয়ালে "ঈদ মুবারাক" কথাটি লিখেছেন।

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১১

আমি রাজনীতি করিনা, কিন্তু রাজনীতি আমাকে করে!!!!!!!!!


আমি রাজনীতি করিনা, কিন্তু রাজনীতি আমাকে করে!!!!!!!!

পাঠক হিসেবে নিয়মিত হলেও, লেখক হিসেবে আমি একেবারেই অনিয়মিত। কালে ভদ্রে দু'চারটে কথা লিখে ফেলি। আমার এই স্বল্প লেখার মধ্যে তাই রাজনৈতিক বা রাজনীতি সংশ্লিষ্ট লেখা নেহাতই কম। সহজ করে বললে, আমি রাজনীতি একেবারেই অপছন্দ করি। আর তা যদি হয় বাংলাদেশি নষ্ট রাজনীতি, তাহলে দৌড়ে পালাবার অবস্থা। রাজনীতি নিয়ে এত অবতরণিকা করার উদ্দেশ্য তো কিছু রয়েছেই। সাম্প্রতিক সময়ে এমন এক ঘটনার সম্মুখীন হলাম যে, মনে হচ্ছে আমি রাজনীতি না করলেও রাজনীতি আমাকে করে।

আগেই বলেছি, রাজনীতি আমার নেহাতই অপছন্দের বিষয়। আমার এই লেখাটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে যাবে। সেটা নিতান্তই আমার অভিজ্ঞতার সাথে প্রাসঙ্গিক। ভিন্ন প্রেক্ষিতে অন্য কারো বিপক্ষেও যেতে পারে।

যাইহোক, মুল কথায় আসি। রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা পুরাতন কোন বিষয় নয়। আমাদের দেশের নেতানেত্রীরা মনে করেন, রাজনীতি করে দেশটাকে তারা কিনে নিয়েছেন। প্রাচীন যুগে রাজা-মহারাজেরা দেশটাকে নিজেদের মনে করতো কিনা জানিনা। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক নেতা নামের এই নব্য রাজারা যে দেশটাকে নিজেদের বাবার সম্পত্তি মনে করেন সেটা দেশাবাসী মাত্রই জানে। হাল আমলে এই নব্য রাজাদের আচরণ এই মাত্রায় পৌঁছেছে যে ম্যাঙ্গো-পিপলের মৌলিক অধিকার কিছু আছে বলে মনে হয় না।

নিয়মিত পত্রিকা পড়েন বা টিভি দেখেন, আর বর্তমান সময়ের সমগ্র দেশের রাস্তাঘাটের অবস্থা জানেননা এমন মানুষ আপনি খুঁজে পাবেননা। রাস্তা তো নয় যেন এক একটি মৃত্যুকুপ। সেইসাথে আসন্ন ঈদে শহর ছেড়ে গ্রামের আপনজনদের সাথে ঈদ করতে চাওয়া মানুষের ভীড়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করার মত শব্দ বাংলা ভাষায় আছে কিনা আমার জানা নেই।

এহেন অবস্থায় কোন রাজনৈতিক নেতা যদি ক্ষমতার জোরে একটা বিভাগীয় শহর থেকে রাজধানীতে যাতায়াতের জন্য যতগুলো বাস রয়েছে তার সবগুলোকে শুধুমাত্র তার নিজের লোকের জন্য বুকিং দিয়ে রাখেন তাহলে অবস্থাটা কোথায় গিয়ে দাড়ায়? কয়েকদিন আগে গিয়েছিলাম খুলনার রয়্যাল মোড়ে, ঈদের দু-একদিন পরে ঢাকায় যাওয়ার জন্য টিকিট কাটতে। সম্ভবত চলতি মাসের ১৫/১৬ তারিখের ঘটনা। কাউন্টার থেকে আমাকে জানানো হলো যে ২০ তারিখে গেলে আমি টিকিট নিয়ে আসতে পারবো। যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে জানতে পারলাম ইন্টার্নাল কোন কারনে উনারা ২৪ তারিখের আগে কিছু কনফার্ম করতে পারবেন না। গত্যন্তরহীন হয়ে আমি আবার গেলাম ২৪ তারিখে। এবার যেয়ে যা শুনলাম তাতে মনে হলো এদেশীয় রাজনীতির গুষ্টি কিলাই। শহরের মাননীয় মেয়র, ডিসি ও এসপি বা শুধুমাত্র তাদের সুপারিশকৃত তোষামোদকারীদের জন্য সোহাগ আর গ্রীনলাইনের এসি (ভলবো) বাসের আগামী ২, ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর তারিখের সকল টিকিট বুকিং করা হয়েছে। শুধুমাত্র এই তিন মান্যবরের জন্য যদি দুটো কোম্পানীর এতগুলো বাস পরপর তিনদিনের জন্য বরাদ্ধ দিয়ে রাখা হয়, বাকী সবাই কি তবে আঙুল চুষবে? বলি ভাই তোরা মান্যবর, মহামান্য রাজাধিরাজ, তাই বলে এত স্বেচ্ছাচারিতা! আমার হাতে ক্ষমতা আছে, তাই বলে যা ইচ্ছা তাই করতে হবে? দেশে কি আর মানুষজন আছে? নাকি সবাই আওয়ামী নেতাদের আপনজন, তোষামোদকারী?

এতদিন জানতাম বাসের টিটিকপ্রাপ্তির জন্য কাউন্টারের সামনে লাইন দিতে হয়, এখন দেখছি এর জন্য বাআল (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ)-এর নেতার কাছে ধরণা দিতে হবে। অবশ্য পাবলিক টয়লেট দখল করা যে দলের নেতাদের স্বভাব, তাদের কাছে বাসের টিকিট তো মহামূল্য কোহিনূর!

শুরুতেই বলেছিলাম, আমি রাজনীতি করিনা। কারোর তোষামোদ করার অভ্যাস আমার নেই। তাইলে আমার কী হবে? আমার মত রাজনীতির কাছ ঘেষেনা এমন যারা রয়েছেন, তারা টিকিট পাবেননা? বলি, এখনো সময় আছে- আওয়ামিলীগ না হয়ে, মানুষ হ। অবশ্য আমি রাজনীতি না করলে কি হবে, রাজনীতি আমাকে করে, করবে।

নোটাবেনেঃ ফেইসবুকে শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করে স্টাটাস দেওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিকক্ষকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আওয়ামিলীগের নেতাদের স্বাচ্ছাচারিতার কথা বলার জন্য আমাকে আবার না কি করা হয়!

শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

কে রে, আমার ব্লগ পড়ায় ব্যাঘাত ঘটায়?


জীবনে প্রথমবার ভুমিকম্প অনুধাবন করেছিলাম যখন তখন আমি ক্লাস নাইন অথবা টেনে পড়ি। তখন দুপুর প্রায় (১) একটা বাজে। বাড়ির পাশে বড় পুকুরে আমার মত আরও কয়েকজন মিলে গোসল করছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করলাম পুকুরের পানিতে নদীর মত ঢেউ। প্রথমবার ব্যাপারটা ওইভাবে আমল দেয়নি। পরের বার আবার যখন পানি খুব জোরে দোল খেতে লাগলো, তখন অনেকেই দেখি পুকুরের পাড়ে উঠে গেছে। ভয়ে আমিও উপরে উঠে এলাম। ততক্ষণে খেয়াল আসলো যে ভুমিকম্প হচ্ছে। যদিও তখন রিখটার স্কেলে ভুমিকম্পের মাত্রা কত উঠেছিল তা জানা হয়নি, তবে সেই ভুমিকম্প যে বেশ বড় মাত্রার ভুমিকম্প ছিল সেটা নিশ্চিত। আমার স্মরণে থাকা প্রথম ভুমিকম্প ওইটাই।

তারপর অনেক বার ভুমিকম্প হয়েছে আমাদের সোনার বাংলাদেশে। বেশিরভাগই পত্রিকায় পড়ে বা পরে শুনে জেনেছি। কিন্তু আমি নিজে আর কখনো ভুমিকম্প প্রত্যক্ষ করিনি। আমার দ্বিতীয়বার ভুমিকম্প প্রত্যক্ষ করার ঘটনা বেশ নাটকীয়। মাস কয়েক আগের ঘটনা। বলা দরকার যে, আমার ঘরের খাটটি খুব সামান্য পরিমানে নড়বড়ে। কেউ যদি সামান্য ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়, তো হালকা নড়ে ওঠে।

বেশির ভাগ সময় আমি মোবাইল দিয়ে ব্লগ পড়ি। আমার কাছে এইটা খুব আরামদায়ক মনে হয়। তো, সেদিন একইভাবে আমার খাটে শুয়ে তন্ময় হয়ে পড়ছি আমার প্রিয় সোনার বাংলাদেশ ব্লগ। আকস্মাৎ অনুভব করলাম আমার খাটটা একটু নড়ে উঠলো। মনে হলো কেউ যেন খাটের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ব্লগ পড়ায় আমি এত তন্ময় ছিলাম যে, চোখ ঘুরিয়ে দেখার ইচ্ছা জাগেনি। কিছুক্ষণের মধ্যে আবারও একইভাবে বাট আগেরবারের তুলনায় একটু বেশি নড়ে উঠলো আমার খাট। ‘আরে, কে রে আমার সাথে ফাজলামি করছে?’ এই চিন্তা করে ঘাড় ঘুরিয়ে আমি তো অবাক। কেউই নেই ঘরে। বেশ খানিকটা বিস্মিত হলাম। এত অল্প সময়ের মধ্যে তো আর ঘর থেকে কারো বের হয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাহলে কি হলো?

এরমধ্যে আবারো ব্লগ পড়ায় মনোনিবেশ করেছ। প্রায় দশ মিনিটের মাথায় আমার বন্ধু রুবেলের ফোনঃ

--মানে?
--একটু আগে ভুমিকম্প হয়ে গেলো। তুই টের পাসনি?
.........
.........
.........

ততক্ষণে বুঝলাম কি ঘটেছে।
ভুমিকম্পই আমার ব্লগ পড়ায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছিলো।  

বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১১

মেহেরজান-- স্পীচ ফ্রম দ্যা ডিরেক্টর।

‘মেহেরজান’ যা বলতে চেয়েছে

রুবাইয়াত হোসেন | তারিখ: ২৬-০১-২০১১

মেহেরজান মুক্তি পাওয়ার পর ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। রোবায়েত ফেরদৌস, মাহমুদুজ্জামান বাবু, কাবেরী গায়েন ও ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীও তাঁদের যৌথ রচনায় ছবিটির বিষয়বস্তু নিয়ে কতগুলো প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন। মেহেরজান-এর পরিচালক হিসেবে সেসব প্রসঙ্গ ধরে কিছু বলা জরুরি।

মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১১

সোনার বাংলাদেশ নিয়ে।


মডুরা ব্যাবস্থা না নিলে আমাকেই নিতে হবে।

সেই শুরু থেকেই আছি সোবা ব্লগের সাথে। প্রিয় সোনার বাংলাদেশ ব্লগ। সোনার বাংলাদেশ ব্লগ এত প্রিয় হবার কতগুলো কারণও রয়েছে। এর মধ্যে যে কারণটি সবিশেষ উল্লেখের দাবীদার তা হলো এর সুস্থ ব্লগিং। সেই শুরু থেকে এই ব্লগটার সাথে থেকেও আজ পর্যন্ত কখনো এর পরিবেশে সঙ্গে একে আপস করতে দেখিনি। বাহবা দিলে হয়তো তাই কমই দেয়া হয়ে যায়। এর পরে যার কথা উল্লেখযোগ্য তা হলো মডুদের কুইক রেস্‌পন্স। বিভিন্ন সময়ে ব্লগের পরিবেশ নিয়ে আমি কয়েকটা পোস্ট দিয়েছি এবং সত্য হল অনেকটা সাথে সাথেই আমি সেই সমস্ত বিষয়ের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণসহ মডুদের জবাব পেয়েছি। পরবর্তীতে সঙ্গত কারণেই আমি সেই পোস্টগুলো ড্রাফট্‌ করে দিয়েছি। এই ব্লগটি সবথেকে প্রিয় হওয়ার পিছনে পরবর্তীতে আমি যে কারনটি উল্লেখ করবো তা হলো এ ফিচার। আর আজ একটা বিশেষ ফিচারই সবথেকে বড় যন্ত্রণার কারণ। যাত্রা শুরু করেই একটা ব্লগ একসাথে সকল সুযোগ দিতে পারেনা। পারেনি প্রিয় সোনার বাংলাদেশ ব্লগও। তবে অতি অল্প সময়ে যে বেশি পরিমান সেবা যুক্ত করেছে তা রীতিমত বিস্ময়কর। 

প্রতিটা ফিচার যুক্ত হবার সাথে সাথেই নোটিশবোর্ডের মাধ্যমে তা অবগত হয়েছি। এরই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন হলো মোবাইল ভার্সন। নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগোপযগি সিদ্ধান্ত যা ব্লগিংকে আরও গতিময় করে তোলে। কিন্তু এই মোবাইল ভার্সন আমার জন্য এখন সবথেকে কাল হয়ে দাড়ালো। একটু বিস্তারিত বলি তাহলে আপনাদের সহজে বোধগম্য হবে।

ব্যাস্ততার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমি বাইরে থাকি। সকালে বেলা বের হয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত প্রায় ৮/৯ টা বেজে যায়। কখনো কখনো ল্যাপটপ সাথে থাকলেও তা সকল সময় বের করে ব্রাউজ করা সম্ভব হয়না। বাংলা সাপোর্ট করা আমার নোকিয়া মোবাইলটি অনেকটা আশির্বাদ হয়ে গেলো। মোবাইল দিয়ে পোস্ট করা না গেলেও পড়তে কখনো সমস্যা হয়না। তাই বাইরে বা যেখানেই থাকিনা কেন, সোনার বাংলা থেকে দূরে আছি এমনটি কখনোই হয়না। হলফ করে বলতে পারি, ঘুমের সময় আর জরুরী কোন সময়ের কথা বাদ দিলে, সোনার বাংলাদেশ থেকে আমি কখনো এক ঘন্টার বেশি দূরে থাকিনি। ব্লগ থেক বের হয়ে ৩০/৪০ মিনিট পার হয়ে গেলেই মনটা আকু-পাকু করতে থাকে- এই বুঝি কোন পোস্ট মিস করে ফেললাম! মোবাইল টা সবচেয়ে বেশি উপকারী মনে হয় যখন বিদ্যুৎ থাকেনা। বিদ্যুৎ যেতে সময় লাগে কিন্তু আমার ব্লগে ঢুকতে সময় লাগে না।

এবারে সমস্যার কথাটা বলি। এতদিন সোনার বাংলাদেশের মোবাইল ভার্সন ছিলোনা। তাই প্রায় সকল সুবিধা মোবাইল থেকেও পেয়েছি। যেমনঃ রেটিং দেওয়া, কোন পোস্টকে খুব বেশি দরকারী মনে হলে প্রিয়তে নেওয়া, যখন তখন নিজের কোন পোস্ট পড়তে পারা ইত্যাদি। আরও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথা এই মুহুর্তে মনে করতে পারছিনা। ও হ্যাঁ, একটা মনে পড়েছে, পোস্টের বা মন্তব্যের মধ্যে কোন প্রয়োজনীয় লিংক থাকলে সহজেই সেখানে ঢুকতে পারা।

মোবাইল ভার্সন চালু হওয়ার পরে উপরোক্ত সকল সুবিধায়ই আমি হারিয়েছি। এখন মোবাইল দিয়ে নিয়মিত ঢুকতে পারলেও মনে হয় সোনার বাংলাদেশের সাথে সংযুক্তি হারিয়েছি। লিংকে ঢুকতে পারিনা। প্রয়োজনীয় পোস্ট প্রিয়তে নিতে পারিনা। উফ! মডুগন, হয় মোবাইল টেমপ্লেটকে আপডেট করুন, নচেৎ, আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যান। আমি কিন্তু ক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছি।

বুধবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১০

সময়ের সাহসী সন্তানেরা আছে, থাকবে।

দুটো ঘটনার সাথে একটা সামঞ্জস্য বিদ্যমান। দুটো ঘটনায়ই সংবাদ জগতের আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। দুটো ঘটনায়ই সত্য প্রকাশের দায়ে নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা। দুটো ঘটনায়ই সময়ের দুই সাহসী সন্তানের জন্য মানুষের পাশে দাড়ানোর ঘটনা। তবে, একটা ঘটনার প্রেক্ষাপট আমাদের জাতীয় পর্যায়ে, আরেকটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের।

সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১০

আমাদের স্বার্বভৌমত্ব হারানো।


ঘটনা অনেকটাই চোখ-সওয়া হয়ে যাওয়ার মত। ধীরে ধীরে আপনার মনে জেঁকে বসবে, আপনাকে গ্রাস করবে। অথচ আপনি কিছুই টের পাবেন না। একসময় হয়তো আপনার অস্তিত্বই বিলীন করে দিতে চাইবে কিন্তু আপনি তখন যেন-কিছুই-হয়নি মনোভাব নিয়ে পড়ে থাকবেন আর খুইয়ে ফেলবেন আপনার স্বার্বভৌমত্ব। এবস্ট্রাক্ট এবং কংক্রিট উভয় ক্ষেত্রে এর প্রভাব সমভাবে বিদ্যমান। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে এই উভয় দিক থেকে আপনার উপর যুগল আক্রমন চালানো হবে আর আপনি আপনার মডারেট চিন্তা-চেতনার গন্ডীর ভিতরে থেকে দিনের পর দিন এমন ভাবখানা দেখাতে থাকবেন যেন এমনটি তো হওয়ারই ছিলো। অনেকটা বেহুশ হয়ে থাকা অবস্থায় আপনার শরীরে ইঞ্জেকশান পুশ-ইন করার মত। আপনার শরীরে একটা ড্রাগ ঢুকিয়ে দেওয়া হলো অথচ আপনি কিছুই টের পেলেননা। আবার যখন হুশ ফিরে এলো তখনও আপনি কিছু টের পেলেননা কারণ ড্রাগটি তখন আপনার অজান্তে নিভৃতে আপনার শরীরে কাজ করে চলেছে। একটা সময়ে আপনি ঠিকই বুঝতে পারবেন আপনার শরীর আর আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু ভাগ্য তখন বড় অসহায়, আপনি আপনাকে হারিয়ে ফেলেছেন!

আমার উপরোক্ত কথাগুলো আপনার কাছে মুল্যহীন বিমুর্ত মনে হতে পারে। আমি কতগুলো ইলাস্ট্রেশানস্‌ -এর সাহায্য নেব। একটা পর্যায়ে আমার কথাগুলো আপনার কাছে মুর্তমান হয়ে উঠতে পারে। না হলেও দোষের কিছু নেই। চলুন দেখা যাক।

খুব ছোটবেলা থেকে আপনি যে মাঠটিতে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলে আসছিলেন সেই মাঠটার কথায় ধরুননা! আপনি যখন মাঠে আসা শুরু করলেন তখন এই মাঠটি ছিলো অনেক বড়। গ্রামের বা মহল্লার বয়সে বড় যারা ছিলো তারা প্রায় পুরো মাঠ জুড়ে খেলাধুলা করলেও আপনার মত যারা ছোট ছিলেন তাদের জন্য জায়গা ছিলো মাঠের এক কোনে। আপনি কিন্তু সবসময় এই ছোটটি থাকেননি। আর তাই একসময়ে ভিড়ে গেলেন বড়দের দলে। এখন আপনি পুরো মাঠজুড়ে ক্রিকেট খেলেন। কিন্তু খেয়াল করে দেখেছেন কি, এখন যারা বয়সে ছোট বা আপনাদের সাথে খেলাধুলা করার মত হয়ে ওঠেনি তারা কোথায়? তাদের কিন্তু আপনার মত মাঠের এক কোনে জায়গা হয়নি। কেন? খুবই সোজা উত্তর- মাঠটি আর আগের মত বড় নেই। আমি এই পরিবর্তনটার কথায়ই আপনাকে বলতে চেয়েছিলাম। হয়তো কোন একদিন দেখলেন মাঠের এক পাশে ক্লাব করার নামে ছোট্ট একটি স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কেউ আমল দেয়নি ব্যাপারটাতে। কারণ, তাতে আর কতটুকু জায়গা লাগতো? দেখতে দেখতে ওটা আপনাদের সকলের চোখ-সওয়া হয়ে গিয়েছিলো। তারপর, সমিতির জন্য আরেকটি স্থাপনা, কিছুদিন পর ক্লাব বা সমিতির স্থাপনাকে অনেক বড় করে তুলে দেওয়া। এইভাবে একের পর এক স্থাপনা গড়ে উঠেছে আর ছোট হয়ে এসেছে মাঠটি। কিন্তু কোন কিছুই আপনার চোখে লাগেনি। কারন, এই সবকিছুই একদিনে হয়নি। হয়েছে ধীরে ধীরে, এক এক করে, আপনার চোখ-সওয়া হয়ে।

উপরোক্ত ঘটনাকে আমি কংক্রিট বলছি। কারণ, এর প্রভাব একটা সময়ে হলেও প্রত্যক্ষ। ধীরে ধীরে আপনার মাঠ দখল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি আপনার মনের মধ্যেও প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। যেটাকে আমি এবস্ট্রাক্ট বলতে চেয়েছি। সেই ব্যাপারটিতে যাওয়ার আগে আসুন ছোট্ট আরেকটি এমন চোখ-সওয়া ঘটনার কথা জেনে নিই। আজ থেকে দশ বারো বৎসর আগের কথা একটু মনে করার চেষ্টা করুন । আমাদের দেশে টেলিভিশান বলতে আমরা ঐ বিটিভিকেই বুঝতাম। তখন এত চ্যানেলের আধিক্য ছিলোনা। প্রতি বৃহস্পতিবারে আপনি হয়তো একটা প্যাকেজ নাটক দেখার আশায় টিভি সেটের সামনে বসে থাকতেন। না, আমি নাটকের বিষয়বস্তু বা বিটিভির স্বায়ত্বশাসন নিয়ে কিছু বলবোনা। ওটা রাজনীতির বিষয়। আমি বলবো সে সময়কার নাটকের নায়িকাদের ড্রেস-আপ নিয়ে। আপনার যদি স্মরণ-শক্তি খুব দূর্বল না হয়ে থাকে, তাহলে মনে করতে পারবেন সেই সময়ে নায়িকাদের পোষাক কতটুকু লম্বা ছিলো –জানু থেকে অনেক নীচে, পায়ের গোড়ালীর সামান্য উপর পর্যন্ত। আর এখন, সেই টেলিভিশানের নায়িকারা ফতুয়া পরে আপনার চোখের সামনে শাবলীল ভঙ্গিতে অভিনয় করছে, ঘুরছে, ফিরছে বা গান গাইছে। আপনার কিন্তু চোখে লাগছেনা। কারণ, এই পরিবর্তন একদিনে হয়নি। নায়িকাদের পোষাক আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠেছে। আপনার থ্রেশোল্ড ভ্যালুকে (Threshold value) বৃদ্ধি করা হয়েছে। আপনার চোখ-সওয়া করে নেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে পোষাকের দৈর্ঘ্য কমতে থাকলেও তা আপনার চোখে লাগেনি। আপনি একদিনেই দেখেননি যে তাদের পোষাক কোমরের কাছে চলে এসেছে। প্রতি বছরেই হয়তো মাত্র চার আঙ্গুল পরিমান কমেছে। আপনি ভেবেছেন, এ আর এমন কি?

আপনার মনের মধ্যে ঘটে যাওয়া এমনই আরেকটি পরিবর্তনের কথা বলবো এবার। আপনার ছোট বেলাকার কথা আবার একটু ভাবুন। যখন আপনি ছোট ছিলেন আপনার পিতা-মাতা আপনাকে বড়দের সালাম দেওয়ার কথা শিখিয়েছিলো। খেলার মাঠে হোক আর স্কুলের ক্লাসেই হোক, আপনার থেকে বড় কাউকে দেখলেই আপনি সালাম দেওয়ার অভ্যাস রপ্ত করে ফেলেছিলেন। কিন্তু আপনি বড় হতে থাকলেন আর আপনার সেই অভ্যাসটি আপনার থেকে দূরে সরে যেতে লাগলো। এরও কিন্তু কিছু কারণ রয়েছে। আপনার প্রতিবেশী দেশসহ বিদেশী সংস্কৃতি আপনাকে গ্রাস করে ফেলেছে। তবে, একদিনেই তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ধীরে ধীরে এক একটা করে আপনার স্বভাবের পরিবর্তন করা হয়েছে। কোমল পানীয়’র নামে আপনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এলকোহলের সামান্য ঝাঝ। আর বাকী পথটুকু হেটেছেন আপনি নিজেই। এটাকে মনের মধ্যের পরিবর্তন কেন বলছে তা জানেন? কারণ, আপনি এখন আর আপনার সন্তানকে সালাম দিতে শেখাননা। আপনি শেখান কি করে হ্যালো (Hello) বলতে হয় আর কি করে হ্যান্ড-শেক (Hand-shake) করতে হয়। আপনার মনের মধ্যে সালামের যে ভ্যালু ছিলো তা এখন আর একটুও অবশিষ্ট নেই।

নায়িকাদের পোষাকের কথা আগেই বলেছিলাম। তবে শুধু নায়িকাদের পোষাকই নয়, সংস্কৃতি জগতের প্রতিটা ক্ষেত্রই এভাবে বদলে গেছে। নাটকের গল্প, ভাষার ব্যাবহার, শালীনতার মাত্রা—সব জায়গাতেই বিদেশী সংস্কৃতির এমন অন্ধ অনুকরণ আর অনুসরণ যে আমরা আমাদের স্বকীয়তা ভুলতে বসেছি। আমাদের ঐতিহ্য এখন আর আমাদের টানেনা। আমাদের থ্রেশোল্ড-ভ্যালুকে এমনই এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে বিদেশী অশ্লীল আর নষ্ট সংস্কৃতির সাথে আমাদের কোন ডিশটিঙ্কশান আছে বলে প্রতীয়মান হয়না।

ঠিক এভাবেই, আমাদের সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি—সবকিছুকেই গ্রাস করে ফেলেছে বিদেশী অপনীতি। কংক্রিট বা এবস্ট্রাক্ট উভয় দিক থেকে আক্রমন করা হয়েছে আমাদের। সবকিছুই আমার আপনার গা-সওয়া বা চোখ-সওয়া হয়ে গেছে। নিজ ঘরেই প্রবাসী করে ফেলেছে আমাদের। হারিয়ে ফেলেছি আমরা আমাদের চিন্তার স্বার্বভৌমত্ব। ভৌগলিক স্বাধীনতা ছাড়া আর সকল ক্ষেত্রেই আমরা পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ। জাতি হিসেবে, এর থেকে লজ্জার আর অপমানের আর কি হতে পারে!!!

থ্রেশোল্ড-ভ্যালু বৃদ্ধি এবং আমাদের স্বার্বভৌমত্ব হারানো।


ঘটনা অনেকটাই চোখ-সওয়া হয়ে যাওয়ার মত। ধীরে ধীরে আপনার মনে জেঁকে বসবে, আপনাকে গ্রাস করবে। অথচ আপনি কিছুই টের পাবেন না। একসময় হয়তো আপনার অস্তিত্বই বিলীন করে দিতে চাইবে কিন্তু আপনি তখন যেন-কিছুই-হয়নি মনোভাব নিয়ে পড়ে থাকবেন আর খুইয়ে ফেলবেন আপনার স্বার্বভৌমত্ব। এবস্ট্রাক্ট এবং কংক্রিট উভয় ক্ষেত্রে এর প্রভাব সমভাবে বিদ্যমান। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে এই উভয় দিক থেকে আপনার উপর যুগল আক্রমন চালানো হবে আর আপনি আপনার মডারেট চিন্তা-চেতনার গন্ডীর ভিতরে থেকে দিনের পর দিন এমন ভাবখানা দেখাতে থাকবেন যেন এমনটি তো হওয়ারই ছিলো। অনেকটা বেহুশ হয়ে থাকা অবস্থায় আপনার শরীরে ইঞ্জেকশান পুশ-ইন করার মত। আপনার শরীরে একটা ড্রাগ ঢুকিয়ে দেওয়া হলো অথচ আপনি কিছুই টের পেলেননা। আবার যখন হুশ ফিরে এলো তখনও আপনি কিছু টের পেলেননা কারণ ড্রাগটি তখন আপনার অজান্তে নিভৃতে আপনার শরীরে কাজ করে চলেছে। একটা সময়ে আপনি ঠিকই বুঝতে পারবেন আপনার শরীর আর আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু ভাগ্য তখন বড় অসহায়, আপনি আপনাকে হারিয়ে ফেলেছেন!

আমার উপরোক্ত কথাগুলো আপনার কাছে মুল্যহীন বিমুর্ত মনে হতে পারে। আমি কতগুলো ইলাস্ট্রেশানস্‌ -এর সাহায্য নেব। একটা পর্যায়ে আমার কথাগুলো আপনার কাছে মুর্তমান হয়ে উঠতে পারে। না হলেও দোষের কিছু নেই। চলুন দেখা যাক।

সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০১০

কবি’র ট্যাগ ও কবিতা

আমি কবিতা পড়তে ভালোবাসি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমি একজন কবি। কিছুটা বিপরীত ভাবধারা থেকেই আমার এই দৃঢ় উচ্চারণ। ঠিক কাকে কবি বলা যায় তা নিয়ে আমার জ্ঞানের যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে, যে কারণে আমি এই কবি আর কবিতার সংজ্ঞায়নে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছি তা একটু খোলাসা করা দরকার। সাম্প্রতিককালে আমার পরিচিত কতিপয় সুজন, কপালে কবি’র ট্যাগ লাগিয়ে নিজেদের কবি হিসেবে জাহির করার যে প্রয়াস হাতে নিয়েছেন, তাতে ‘কবি’ আর ‘কবিতা’র সংজ্ঞায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তত আমার আত্মবোধগম্যতার কারণে হলেও। কবিতা দু চারটে রচিত হোক বা না হোক, কবি হিসেবে ওদের পরিচয়ের খবর বেশ হাস্যরসের যোগান দেয়।