রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নাম তার কমলা,
দেখেছি তার খাতার উপরে লেখা।
সে চলেছিল ট্রামে, তার ভাইকে নিয়ে কলেজের রাস্তায়।
আমি ছিলেম পিছনের বেঞ্চিতে।
মুখের এক পাশের নিটোল রেখাটি দেখা যায়,
আর ঘাড়ের উপর কোমল চুলগুলি খোঁপার নীচে।
কোলে তার ছিল বই আর খাতা।
যেখানে আমার নামবার সেখানে নামা হল না।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০১৫
সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১২
বর্ষার দিনে
রবি ঠাকুরের বর্ষার কবিতা
বর্ষার দিনে
এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায় -
এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে
তপনহীন ঘন তমসায়।।
সে কথা শুনিবে না কেহ আর,
নিভৃত নির্জন চারি ধার।
দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি,
আকাশে জল ঝরে অনিবার -
জগতে কেহ যেন নাহি আর।।
সমাজ সংসার মিছে সব,
মিছে এ জীবনের কলরব।
কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে
হৃদয় দিয়ে হৃদি-অনুভব -
আঁধারে মিশে গেছে আর সব।।
বলিতে ব্যথিবে না নিজ কান,
চমকি উঠিবে না নিজ প্রাণ।
সে কথা আঁখিনীরে মিশিয়া যাবে ধীরে,
বাদলবায়ে তার অবসান -
সে কথা ছেয়ে দিবে দুটি প্রাণ।।
তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার
নামাতে পারি যদি মনোভার!
শ্রাবণবরিষনে একদা গৃহকোণে
দু কথা বলি যদি কাছে তার
তাহাতে আসে যাবে কিবা কার।।
আছে তো তার পরে বারো মাস -
উঠিবে কত কথা, কত হাস।
আসিবে কত লোক, কত-না দুখশোক,
সে কথা কোনখানে পাবে নাশ -
জগৎ চলে যাবে বারো মাস।।
ব্যাকুল বেগে আজি বহে বায়,
বিজুলি থেকে থেকে চমকায়।
যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে
সে কথা আজি যেন বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়।।
বর্ষার দিনে
এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায় -
এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে
তপনহীন ঘন তমসায়।।
সে কথা শুনিবে না কেহ আর,
নিভৃত নির্জন চারি ধার।
দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি,
আকাশে জল ঝরে অনিবার -
জগতে কেহ যেন নাহি আর।।
সমাজ সংসার মিছে সব,
মিছে এ জীবনের কলরব।
কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে
হৃদয় দিয়ে হৃদি-অনুভব -
আঁধারে মিশে গেছে আর সব।।
বলিতে ব্যথিবে না নিজ কান,
চমকি উঠিবে না নিজ প্রাণ।
সে কথা আঁখিনীরে মিশিয়া যাবে ধীরে,
বাদলবায়ে তার অবসান -
সে কথা ছেয়ে দিবে দুটি প্রাণ।।
তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার
নামাতে পারি যদি মনোভার!
শ্রাবণবরিষনে একদা গৃহকোণে
দু কথা বলি যদি কাছে তার
তাহাতে আসে যাবে কিবা কার।।
আছে তো তার পরে বারো মাস -
উঠিবে কত কথা, কত হাস।
আসিবে কত লোক, কত-না দুখশোক,
সে কথা কোনখানে পাবে নাশ -
জগৎ চলে যাবে বারো মাস।।
ব্যাকুল বেগে আজি বহে বায়,
বিজুলি থেকে থেকে চমকায়।
যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে
সে কথা আজি যেন বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়।।
বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০১০
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
আমার প্রিয় একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। রবীন্দ্রনাথের গানে অপরিসীম ভালোবাসা। তার একটু তুলে দিচ্ছে আপনাদের কাছে।
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
বধু কোন আলো লাগলো, লাগলো চোখে
লাগলো চোখে বধু কোন আলো, লাগলো, লাগলো চোখে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
বুঝি দীপ্তিরূপে ছিলে সূর্যলোকে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
ছিল মন তোমারই প্রতীক্ষা করি
যুগে যুগে দিনু রাত্রি ধরি
ছিল মর্মবেদনা ঘন অন্ধকারে
জনম জনম গেল বিরহ শোকে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
অস্ফুট মঞ্জুরি কুঞ্জ বনে,
সংগীত শূন্য বিষন্ন মনে কুঞ্জ বনে
অস্ফুট মঞ্জুরি কুঞ্জ বনে,
সংগীত শূন্য বিষন্ন মনে
সঙ্গীরিক্ত চির দুঃখ রাতি পোহাব কি নির্জনে শয়ন পাতি
সুন্দর হে! সুন্দর হে!
বর মাল্য খানি তব আনো বহে, তুমি আনো বহে
অবগুন্ঠন-ছায়া ঘুচায়ে দিয়ে,
হের লজ্জিত স্মিত মুখ শুভ আলোকে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে….
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
বধু কোন আলো লাগলো, লাগলো চোখে
লাগলো চোখে বধু কোন আলো, লাগলো, লাগলো চোখে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
বুঝি দীপ্তিরূপে ছিলে সূর্যলোকে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
ছিল মন তোমারই প্রতীক্ষা করি
যুগে যুগে দিনু রাত্রি ধরি
ছিল মর্মবেদনা ঘন অন্ধকারে
জনম জনম গেল বিরহ শোকে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
অস্ফুট মঞ্জুরি কুঞ্জ বনে,
সংগীত শূন্য বিষন্ন মনে কুঞ্জ বনে
অস্ফুট মঞ্জুরি কুঞ্জ বনে,
সংগীত শূন্য বিষন্ন মনে
সঙ্গীরিক্ত চির দুঃখ রাতি পোহাব কি নির্জনে শয়ন পাতি
সুন্দর হে! সুন্দর হে!
বর মাল্য খানি তব আনো বহে, তুমি আনো বহে
অবগুন্ঠন-ছায়া ঘুচায়ে দিয়ে,
হের লজ্জিত স্মিত মুখ শুভ আলোকে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে….
শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০১০
শেষের কবিতা
শেষের কবিতা
---রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
কালের যাত্রার ধ্বণি শুনিতে কি পাও
তারি রথ নিত্যই উধাও
জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন ।।
চক্রে পিষ্ঠ আধারের বক্ষ-ফাটা তারার ক্রন্দন ।
ওগো বন্ধু,
সেই ধাবমান কাল
জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেলি তার জাল ।।
তুলে নিল দ্রুতরথে
দুঃসাহসী ভ্রমনের পথে
তোমা হতে বহু দুরে ।
মনে হয় অজস্র মৃত্যুরে পারে হয়ে আসিলাম
আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়;
রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
আমার পুরানো নাম ।
ফিরিবার পথ নাহি;
দূর হতে যদি দেখ চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায় ।
হে বন্ধু, বিদায় ।
কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে
বসন্তবাতাসে
অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,
ঝরা বকুলের কান্না বহিবে আকাশ,
সেইক্ষণে খুজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে
তোমার প্রাণের প্রান্তে; বিস্মৃ্তিপ্রদোষে
হয়তো দিবে সে জ্যোতি,
হয়তো ধরিবে কভু নামহারা স্বপ্নের মুরতি ।
তবু সে তো স্বপ্ন নয়,
সবচেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়।।
সে আমার প্রেম।
তারে আমি রাখিয়া এলেম
অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশে
পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে
কালের যাত্রায়
হে বন্ধু, বিদায় ।
তোমার হয়নি কোনো ক্ষতি ।
মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃতমুরতি
যদি সৃষ্টি কোরে থাক, তাহারি আরতি
হোক তব সন্ধ্যাবেলা ।।
পূজার সে খেলা
ব্যাঘাত পাবেনা মোর প্রত্যহের স্নানস্পর্শ লেগে
তৃষ্ণার্ত আবেগবেগে
ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোনো ফুল নৈবেদ্যের থালে ।
তোমার মানস ভোজে সযত্নে সাজালে
যে ভাব্রসের পাত্র বানীর তৃষায়
তার সাথে দিবনা মিশায়ে
যা মোর ধুলির ধন, যা মোর চক্ষের জ্বলে ভিজে ।
আজও তুমি নিজে
হয়তো বা করিবে রচন
মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন ।
ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায় ।
হে বন্ধু, বিদায় ।
মোর লাগি করিও না শোক ।।
আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক ।
মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই,
শূন্যেরে করিব পূর্ণ, এই ব্রত বহিব সদাই ।
উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে
সেই ধন্য করিবে আমাকে ।
শুক্লপক্ষ হতে আনি
রজনীগন্ধার বৃন্তখানি
যে পারে সাজাতে
অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ রাতে,
যে আমারে দেখিবারে পায়
অসীম ক্ষমায়
ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি ।
তোমারে যা দিয়েছিনু তার
পেয়েছ নিঃশেষ অধিকার ।
হেথা মোর তিলে তিলে দান,
করুন মুহুর্তগুলি গন্ডুষ ভরিয়া করে পান
হৃদয় অঞ্জলি হতে মম ।
ওগো তুমি নিরুপম,
হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান;
গ্রহন করেছ যত ঋনী তত করেছ আমায় ।
হে বন্ধু, বিদায় ।।
---রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
কালের যাত্রার ধ্বণি শুনিতে কি পাও
তারি রথ নিত্যই উধাও
জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন ।।
চক্রে পিষ্ঠ আধারের বক্ষ-ফাটা তারার ক্রন্দন ।
ওগো বন্ধু,
সেই ধাবমান কাল
জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেলি তার জাল ।।
তুলে নিল দ্রুতরথে
দুঃসাহসী ভ্রমনের পথে
তোমা হতে বহু দুরে ।
মনে হয় অজস্র মৃত্যুরে পারে হয়ে আসিলাম
আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়;
রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
আমার পুরানো নাম ।
ফিরিবার পথ নাহি;
দূর হতে যদি দেখ চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায় ।
হে বন্ধু, বিদায় ।
কোনোদিন কর্মহীন পূর্ণ অবকাশে
বসন্তবাতাসে
অতীতের তীর হতে যে রাত্রে বহিবে দীর্ঘশ্বাস,
ঝরা বকুলের কান্না বহিবে আকাশ,
সেইক্ষণে খুজে দেখো, কিছু মোর পিছে রহিল সে
তোমার প্রাণের প্রান্তে; বিস্মৃ্তিপ্রদোষে
হয়তো দিবে সে জ্যোতি,
হয়তো ধরিবে কভু নামহারা স্বপ্নের মুরতি ।
তবু সে তো স্বপ্ন নয়,
সবচেয়ে সত্য মোর, সেই মৃত্যুঞ্জয়।।
সে আমার প্রেম।
তারে আমি রাখিয়া এলেম
অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশে
পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে
কালের যাত্রায়
হে বন্ধু, বিদায় ।
তোমার হয়নি কোনো ক্ষতি ।
মর্তের মৃত্তিকা মোর, তাই দিয়ে অমৃতমুরতি
যদি সৃষ্টি কোরে থাক, তাহারি আরতি
হোক তব সন্ধ্যাবেলা ।।
পূজার সে খেলা
ব্যাঘাত পাবেনা মোর প্রত্যহের স্নানস্পর্শ লেগে
তৃষ্ণার্ত আবেগবেগে
ভ্রষ্ট নাহি হবে তার কোনো ফুল নৈবেদ্যের থালে ।
তোমার মানস ভোজে সযত্নে সাজালে
যে ভাব্রসের পাত্র বানীর তৃষায়
তার সাথে দিবনা মিশায়ে
যা মোর ধুলির ধন, যা মোর চক্ষের জ্বলে ভিজে ।
আজও তুমি নিজে
হয়তো বা করিবে রচন
মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন ।
ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায় ।
হে বন্ধু, বিদায় ।
মোর লাগি করিও না শোক ।।
আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক ।
মোর পাত্র রিক্ত হয় নাই,
শূন্যেরে করিব পূর্ণ, এই ব্রত বহিব সদাই ।
উৎকণ্ঠ আমার লাগি কেহ যদি প্রতীক্ষিয়া থাকে
সেই ধন্য করিবে আমাকে ।
শুক্লপক্ষ হতে আনি
রজনীগন্ধার বৃন্তখানি
যে পারে সাজাতে
অর্ঘ্যথালা কৃষ্ণপক্ষ রাতে,
যে আমারে দেখিবারে পায়
অসীম ক্ষমায়
ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি ।
তোমারে যা দিয়েছিনু তার
পেয়েছ নিঃশেষ অধিকার ।
হেথা মোর তিলে তিলে দান,
করুন মুহুর্তগুলি গন্ডুষ ভরিয়া করে পান
হৃদয় অঞ্জলি হতে মম ।
ওগো তুমি নিরুপম,
হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান;
গ্রহন করেছ যত ঋনী তত করেছ আমায় ।
হে বন্ধু, বিদায় ।।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)