উদাস ভঙ্গিতে ডেস্কটপে ফেসবুকের হোমপেজ স্ক্রল করছে রুমিন। হঠাৎ পাশে রাখা ফোনটা বেজে উঠতেই হাতে নিয়ে কথা বলা শুরু করলো। কিছুক্ষণ কথা বলা শেষে আবারও ফেসবুকের হোমপেজে নজর দিলো সে। ফেসবুক ঈদানিং এ্যাড -এর আখড়া। কোনটা যে ফ্রেন্ডদের পোষ্ট আর কোনটা যে স্পন্সর্ড পেজের পোষ্ট বোঝা যায়না। এসব ভাবতে ভাবতে স্ক্রলিং চালিয়ে যায় রুমিন।
আমি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আমি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৫
আওয়ার গুড, গৌল্ড মেমোরিজ!!
মনে পড়ে সেই দিনটার কথা, সেই দিনগুলোর কথা? আওয়ার ঔল্ড, গৌল্ড মেমোরিজ??
ইয়াপ, সেভেন ইয়ার্স ব্যাক ফ্রম নাউ। পহেলা বৈশাখ, ১৪১৫। তুমি শাড়ি পরে হাটতে পারতেনা; ক্যাফে থেকে বের হয়ে কয়েকটা পা ফেলে আর এগোতে পারছিলেনা। বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছিলো তখন।
![]() |
| তখনকার আমরা |
![]() |
| এখনকার আমরা ছবি কৃতিত্বঃ ছোট ভাই সাজ্জিদ |
মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৩
যা দেখি, যা বুঝি
ঘটনা #১
অফিস
থেকে বাসায় ফিরে রাত নয়টার দিকে ফোনে কথা বলতে বলতে হঠাৎ বাইরে বের হই। একটা
প্রয়োজনে আমাদের পাড়ার এক ছেলের সাথে কথা বলার জন্য বাইরে যাই। ফিরলাম প্রায় ১৫/২০
মিনিট পরে। ফিরে দেখি, দরজায় মা দাঁড়িয়ে। এই রাতে কিছু না বলে হঠাৎ ছেলের বাইরে
যাওয়ায় মায়ের মন হয়তো অজানা আশংকায় শংকিত হয়েছে।
মমস্
আর গ্রেইট।
ঘটনা #২
পাড়ার
রাস্তা দিয়ে হাটতে গিয়ে খেয়াল করলাম পাশের বেশ কয়েকটা বাড়িতে বেশ উচ্চ স্বরে
হিন্দি গান বাজছে। কয়েকটা বাড়ির উঠানে বেশ আলোকসজ্জ্বার ব্যাবস্থাও দেখলাম,
চারিপাশে অসংখ্য লোকের হই-হুল্লোড়। বুঝলাম আংরেজি নতুন বর্ষ বেশ ভালোই উদযাপিত
হচ্ছে। পালিত হচ্ছে আংরেজি নববর্ষ আর বাজছে হিন্দি গান। মন্দ না! অন্তত একদিন হলেও
আমরা পুরোদস্তুর ভীনদেশি হতে পারলাম!
বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১২
মিথিলার চিঠি
অনন্ত,
মেহেদী পাতা দেখেছো নিশ্চয়ই। ওপরে সবুজ, ভেতরে রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত। নিজেকে আজকাল বড় বেশী মেহেদী পাতার মতো মনে হয় কেন? ওপরে আমি অথচ ভেতরে কষ্টের যন্ত্রণার এমন সব বড় বড় গর্ত যে, তার সামনে দাঁড়াতে নিজেরই ভয় হয় অনন্ত। তুমি কেমন আছো? বিরক্ত হচ্ছো না তো? ভালোবাসা যে মানুষকে অসহায়ও করে তুলতে পারে সেদিন তোমায় দেখার আগ পর্যন্ত আমার জানা ছিলো না। তোমার উদ্দাম ভালোবাসার দ্যুতি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখান করে ফেলেছে আমার ভেতর আমার বাহির। আমারই হাতে গড়া আমার পৃথিবী।
অনন্ত, যে মিথীলা সুখী হবে বলে ভালোবাসার পূর্ণ চন্দ্র গিলে খেয়ে ভেজা মেঘের মতো উড়তে উড়তে চলে গেলো আজন্ম শূণ্য অনন্তকে আরো শূণ্য করে দিয়ে তার মুখে এসব কথা মানায় না আমি জানি। কিন্তু আমি আর এভাবে এমন করে পারছি না। আমার চারদিকের দেয়াল জুড়ে থই থই করে আমার স্বপ্ন খুনের রক্ত। উদাস দুপুরে বাতাসে শীষ দেয় তোমার সেই ভালোবাসা, পায়ে পায়ে ঘুরে ফেরে ছায়ার মতন তোমারই স্মৃতি, আমি আগলাতেও পারি না, আমি ফেলতেও পারি না। সুখী হতে চেয়ে এখন দেখি দাঁড়িয়ে আছি একলা আমি; কষ্টের তুষার পাহাড়ে।
বুধবার, ২০ জুন, ২০১২
তোমার চোখ এতো লাল কেন?
নির্মলেন্দু গুণ
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে দেবার জন্য।
বাইরে থেকে দরজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ আমাকে খেতে দিক। আমি হাত পাখা নিয়ে
কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না।
আমি জানি এই ইলেকট্রিকের যুগ
নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী-সেবার দায় থেকে।
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুকঃ
আমার জল লাগবে কিনা, আমার নুন লাগবে কিনা,
পাটশাক ভাজার সঙ্গে আরোও একটা
তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কিনা।
এঁটো বাসন, গেঞ্জি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন ভেতর থেকে আমার ঘরের দরোজা
খুলে দিক। কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক।
কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে
জিজ্ঞেস করুকঃ “তোমার চোখ এতো লাল কেন?”
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে দেবার জন্য।
বাইরে থেকে দরজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ আমাকে খেতে দিক। আমি হাত পাখা নিয়ে
কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না।
আমি জানি এই ইলেকট্রিকের যুগ
নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী-সেবার দায় থেকে।
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুকঃ
আমার জল লাগবে কিনা, আমার নুন লাগবে কিনা,
পাটশাক ভাজার সঙ্গে আরোও একটা
তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কিনা।
এঁটো বাসন, গেঞ্জি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন ভেতর থেকে আমার ঘরের দরোজা
খুলে দিক। কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক।
কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে
জিজ্ঞেস করুকঃ “তোমার চোখ এতো লাল কেন?”
সোমবার, ২৬ মার্চ, ২০১২
স্বাধীনতা দিবস ও একটি স্টাটাস
শুরুতেই সবাইকে জানাচ্ছি মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা
কেমন আছেন আপনারা???
একটু আগেই ফেইসবুকিং করতে গিয়ে একটা স্টাটাস দেখলাম। স্টাটাসটা দেখে একটু অবাক হলাম আর ভাবলাম আমাদের ভাষাগত দেউলিয়াত্ব কতদূর তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। স্বাধীনতা দিবসেও আমাদের বাংলাদেশের পরিচয় প্রদান করা হচ্ছে আংরেজি'র বিশ্লেষন দিয়ে। আগে স্টাটাসটা তুলে দেই, তাহলে আপনারা বিষয়টা ক্লীয়ার করে বুঝতে পারবেন।
________________________________________________________________
একজন ফেইসবুকারের স্টাটাসঃ বাংলাদেশ(BANGLADESH) নামটির পূর্ণরূপ...
B=Blood (রক্তে)
A=Achieve (অর্জিত)
N=Noteworthy (স্মরণীয়)
G=Golden (সোনালী)
L=Land (ভূমি)
A=Admirable (প্রশংসিত)
D=Democratic (গণতান্ত্রিক)
E=Evergreen (চিরসবুজ)
S=Sacred (পবিত্র)
H=Habitation (বাসভূমি)
বাংলা অর্থগুলোকে একসাথে করলে হয়ঃ
সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১১
ইউ'ল নেভার গেট দ্য সেকন্ড চান্স টু মেইক দ্য ফার্স্ট ইম্প্রেশান
জয়েনিং লেটার হাতে পেয়ে খুশি হয়না এমন মানুষ কি খুঁজে পাওয়া সম্ভব? বলছি না যে আমি এর ব্যাতিক্রম। আমিও অনেক আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু সেই আনন্দকে দীর্ঘস্থায়ী করার খুব একটা সুযোগ আমার ছিলোনা। জয়েনের জন্য প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংগ্রহ, দুজন গেজেটেড অফিসারের সন্ধান করা, ইন্ট্রোডিউসারের জন্য জয়েন করাটা প্রায় পিছিয়ে যাওয়া (যদিও শেষ পর্যন্ত পিছায়নি), অবশেষে জয়েন করা, পোস্টিং পাওয়া, নতুন অফিসে যাওয়া -- এসবই তো হলো ৩১তম বিসিএস-এর রিটেন এক্সাম চলাকালীন সময়ে। দম ফেলার ফুরসৎ ছিলোনা।
সারাদিনের কাজ শেষে বাসায় ফিরে রাতে পরের দিনের এক্সামের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। বেশ নিরন্তর পরশ্রম বলা চলে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তো থাকতাম এক্সাম হলে, বিকালে জয়েন করার জন্য জনতা ব্যাংক লিমিটেডের খুলনা এরিয়া অফিসে; আর রাতে বাড়ি ফেরা। তবে এগারো তারিখের (অক্টোবর '১১) কথা বলতেই হয়। কি ধকলই না গিয়েছিলো এদিন! এখান থেকে ওখানে, ওখান থেকে সেখানে। শুধু ছুটোছুটি। ধন্যবাদ দিয়ে শোয়েবকে ছোট করবোনা। সারাটা দিন ও আমার সাথে ছিলো, ওর পঙ্খীরাজে চড়েই দিনের ছূটোছুটির সমাপ্তি টানতে পেরেছিলাম। এগারই অক্টোবর ২০১১ -আমার জন্য তাই অতীব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম চাকরির জয়েনিং।
আমার ব্রাঞ্চে জয়েন করেছিলাম তের (১৩) তারিখে। তখনো এক্সাম চলছিলো। বিসিএসের এক্সাম শেষ হওয়ার একদিন পরেই ছিলো মিডটার্ম (এমবিএ থার্ড টার্ম) এক্সাম। “নতুন চাকরী বা নতুন অফিস কেমন লাগছে?”-- এটা একটা কমন কোয়েশ্চান। আমার জন্য উত্তর দেয়াটা অবশ্য খুব সিম্পল ছিলো। “ভালো, বেশ ভালো”। এই ভালো বলাটা শুধু এজন্যই নয় যে এটা আমার প্রথম চাকরী। বরং, ভালোলাগার মতই ভালো। কিছু কারণ অবশ্য রয়েছে।
“ইউ উইল নেভার গেট দ্য সেকন্ড চান্স টু মেক দ্য ফার্স্ট ইম্প্রেশান”। কথাটা খুব মেনে চলি আমি। আর হ্যাঁ, প্রথম সাক্ষাতেই আমি ইম্প্রেস করেছিলাম আমার ম্যানেজারকে। ব্যাস হয়ে গেলো। ওটুকুই যথেষ্ট। ম্যানেজার ইম্প্রেস্ড্, আমিও তার কেয়ারে ইম্প্রেস্ড্।
আরেকটা বিশেষ কারণের কথা বলতেই হয়। ভবঘুরে জিবনে সারাদিন সময় কাটতো চ্যাটিং আর সোস্যাল নেটওয়ার্কিং করে। ভেবেছিলুম, অন্তত দিনের বেলাতে এগুলোকে বিদায় জানাতে হবে। কিন্তু ম্যানেজারের কল্যাণে সেটা পেয়েছিলাম আমার চাকরী জিবনের তৃতীয় দিনেই। অলটাইম ফ্রি একসেস্ টু আনলিমিটেড ইন্টারনেট। আমার মত নেটিজেনের জন্য আর চে' আনন্দের খবর আর কি হতে পারে?
সেই থেকেই চলছে। অফিসওয়ার্ক আর চ্যাটিং-নেটওয়ার্কিং... ভালোই চলছে গুরু!
ও হ্যাঁ, একটা কথা বলতেই ভুলে গিয়েছিলাম। আমার পোস্টিং দিয়েছে আমার বাড়ির পাশে। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ রগড়াতে রগড়াতে অফিসে যাই... আর সন্ধ্যায় হাট হাটতে ফিরি। মন্দ না।
শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
কে রে, আমার ব্লগ পড়ায় ব্যাঘাত ঘটায়?
জীবনে প্রথমবার ভুমিকম্প অনুধাবন করেছিলাম যখন তখন আমি ক্লাস নাইন অথবা টেনে পড়ি। তখন দুপুর প্রায় (১) একটা বাজে। বাড়ির পাশে বড় পুকুরে আমার মত আরও কয়েকজন মিলে গোসল করছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করলাম পুকুরের পানিতে নদীর মত ঢেউ। প্রথমবার ব্যাপারটা ওইভাবে আমল দেয়নি। পরের বার আবার যখন পানি খুব জোরে দোল খেতে লাগলো, তখন অনেকেই দেখি পুকুরের পাড়ে উঠে গেছে। ভয়ে আমিও উপরে উঠে এলাম। ততক্ষণে খেয়াল আসলো যে ভুমিকম্প হচ্ছে। যদিও তখন রিখটার স্কেলে ভুমিকম্পের মাত্রা কত উঠেছিল তা জানা হয়নি, তবে সেই ভুমিকম্প যে বেশ বড় মাত্রার ভুমিকম্প ছিল সেটা নিশ্চিত। আমার স্মরণে থাকা প্রথম ভুমিকম্প ওইটাই।
তারপর অনেক বার ভুমিকম্প হয়েছে আমাদের সোনার বাংলাদেশে। বেশিরভাগই পত্রিকায় পড়ে বা পরে শুনে জেনেছি। কিন্তু আমি নিজে আর কখনো ভুমিকম্প প্রত্যক্ষ করিনি। আমার দ্বিতীয়বার ভুমিকম্প প্রত্যক্ষ করার ঘটনা বেশ নাটকীয়। মাস কয়েক আগের ঘটনা। বলা দরকার যে, আমার ঘরের খাটটি খুব সামান্য পরিমানে নড়বড়ে। কেউ যদি সামান্য ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়, তো হালকা নড়ে ওঠে।
বেশির ভাগ সময় আমি মোবাইল দিয়ে ব্লগ পড়ি। আমার কাছে এইটা খুব আরামদায়ক মনে হয়। তো, সেদিন একইভাবে আমার খাটে শুয়ে তন্ময় হয়ে পড়ছি আমার প্রিয় সোনার বাংলাদেশ ব্লগ। আকস্মাৎ অনুভব করলাম আমার খাটটা একটু নড়ে উঠলো। মনে হলো কেউ যেন খাটের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ব্লগ পড়ায় আমি এত তন্ময় ছিলাম যে, চোখ ঘুরিয়ে দেখার ইচ্ছা জাগেনি। কিছুক্ষণের মধ্যে আবারও একইভাবে বাট আগেরবারের তুলনায় একটু বেশি নড়ে উঠলো আমার খাট। ‘আরে, কে রে আমার সাথে ফাজলামি করছে?’ এই চিন্তা করে ঘাড় ঘুরিয়ে আমি তো অবাক। কেউই নেই ঘরে। বেশ খানিকটা বিস্মিত হলাম। এত অল্প সময়ের মধ্যে তো আর ঘর থেকে কারো বের হয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাহলে কি হলো?
এরমধ্যে আবারো ব্লগ পড়ায় মনোনিবেশ করেছ। প্রায় দশ মিনিটের মাথায় আমার বন্ধু রুবেলের ফোনঃ
--কিরে, ভুমিকম্প কেমন হলো?
--মানে?
--একটু আগে ভুমিকম্প হয়ে গেলো। তুই টের পাসনি?
.........
.........
.........
ততক্ষণে বুঝলাম কি ঘটেছে।
ভুমিকম্পই আমার ব্লগ পড়ায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছিলো।
মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
ঘ্রাণে বই পড়া
প্রাইমারী পড়েছি আমি গ্রামের স্কুল থেকে। আমাদের স্কুলটা ছিলো আমাদের বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক পা দূরে। গ্রামের স্কুল হওয়াতে শহুরে রকমারী স্কুল সম্বন্ধে আমার কোন ধারণাই ছিলো না। রকমারী স্কুল বলছি একারণে যে শহরের বিভিন্ন স্কুলে এখন দেখি বোর্ড বই এর পাশাপাশি আরোও হাজার রকমের বই পড়াতে । কিন্তু আমাদের গ্রামের স্কুলে বই বলতে শুধু বছরের শুরুতে স্কুল থেকে দেওয়া বই-এর কথায়ই বুঝতাম। ছোটবেলা থেকেই আমি বেশ একটু পড়ুয়া ছিলাম, যদিও অনার্স বা মার্টার্সের সময় সেই স্বভাবটা আর ধরে রাখতে পারিনি। পড়ুয়া ছিলাম বলেই কিনা জানিনা- নতুন বই পেলেই আরও বেশি পড়তে ইচ্ছা করতো।
যাইহোক, শিরোনামে বলেছি বই-এর ঘ্রাণের কথা। স্কুলে বই দেওয়ার আগেই ঘোষনা দেওয়া হতো কবে নতুন বছরের বই দেওয়া হবে। নতুন বই আনার দিন মনে মনে অনেক ব্যস্ততা বেড়ে যেত। সকাল সকাল স্কুলে যেয়ে বসে থাকতাম। প্রতি বছরই দেখা যেত নতুন আর পুরনো মিশিয়ে এক সেট বই দেওয়া হতো। বই নিয়ে বাড়ি এসেই পড়তে বসে যেতাম। দেখা যেতো, এক সপ্তাহ ধরে কেবল নতুন বইই পড়ছি। নতুন বই-এর ঘ্রাণ শুকতে দারুণ মজা। ঘ্রাণের লোভে প্রথম প্রথম শুধু নতুন বইগুলোই পড়তাম।
স্কুল ছেড়েছি আজ অনেক বছর হলো। এখন আর আমাকে বই দেওয়া হয়না। প্রয়োজনীয় বইগুলো কিনেই পড়তে হয়। স্কুল, কলেজ, তারপর ইউনি’র গন্ডিও শেষ করে ফেললাম। কিন্তু ঘ্রাণ শুকে বই পড়ার লোভ আমার এখনো যাইনি। এখনো নতুন বই হাতে পেলে আগে ঘ্রাণ শুকি, তারপর পড়তে শুরু করি।
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১১
সোনার বাংলাদেশ নিয়ে।
মডুরা ব্যাবস্থা না নিলে আমাকেই নিতে হবে।
সেই শুরু থেকেই আছি সোবা ব্লগের সাথে। প্রিয় সোনার বাংলাদেশ ব্লগ। সোনার বাংলাদেশ ব্লগ এত প্রিয় হবার কতগুলো কারণও রয়েছে। এর মধ্যে যে কারণটি সবিশেষ উল্লেখের দাবীদার তা হলো এর সুস্থ ব্লগিং। সেই শুরু থেকে এই ব্লগটার সাথে থেকেও আজ পর্যন্ত কখনো এর পরিবেশে সঙ্গে একে আপস করতে দেখিনি। বাহবা দিলে হয়তো তাই কমই দেয়া হয়ে যায়। এর পরে যার কথা উল্লেখযোগ্য তা হলো মডুদের কুইক রেস্পন্স। বিভিন্ন সময়ে ব্লগের পরিবেশ নিয়ে আমি কয়েকটা পোস্ট দিয়েছি এবং সত্য হল অনেকটা সাথে সাথেই আমি সেই সমস্ত বিষয়ের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণসহ মডুদের জবাব পেয়েছি। পরবর্তীতে সঙ্গত কারণেই আমি সেই পোস্টগুলো ড্রাফট্ করে দিয়েছি। এই ব্লগটি সবথেকে প্রিয় হওয়ার পিছনে পরবর্তীতে আমি যে কারনটি উল্লেখ করবো তা হলো এ ফিচার। আর আজ একটা বিশেষ ফিচারই সবথেকে বড় যন্ত্রণার কারণ। যাত্রা শুরু করেই একটা ব্লগ একসাথে সকল সুযোগ দিতে পারেনা। পারেনি প্রিয় সোনার বাংলাদেশ ব্লগও। তবে অতি অল্প সময়ে যে বেশি পরিমান সেবা যুক্ত করেছে তা রীতিমত বিস্ময়কর।
প্রতিটা ফিচার যুক্ত হবার সাথে সাথেই নোটিশবোর্ডের মাধ্যমে তা অবগত হয়েছি। এরই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন হলো মোবাইল ভার্সন। নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগোপযগি সিদ্ধান্ত যা ব্লগিংকে আরও গতিময় করে তোলে। কিন্তু এই মোবাইল ভার্সন আমার জন্য এখন সবথেকে কাল হয়ে দাড়ালো। একটু বিস্তারিত বলি তাহলে আপনাদের সহজে বোধগম্য হবে।
ব্যাস্ততার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমি বাইরে থাকি। সকালে বেলা বের হয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত প্রায় ৮/৯ টা বেজে যায়। কখনো কখনো ল্যাপটপ সাথে থাকলেও তা সকল সময় বের করে ব্রাউজ করা সম্ভব হয়না। বাংলা সাপোর্ট করা আমার নোকিয়া মোবাইলটি অনেকটা আশির্বাদ হয়ে গেলো। মোবাইল দিয়ে পোস্ট করা না গেলেও পড়তে কখনো সমস্যা হয়না। তাই বাইরে বা যেখানেই থাকিনা কেন, সোনার বাংলা থেকে দূরে আছি এমনটি কখনোই হয়না। হলফ করে বলতে পারি, ঘুমের সময় আর জরুরী কোন সময়ের কথা বাদ দিলে, সোনার বাংলাদেশ থেকে আমি কখনো এক ঘন্টার বেশি দূরে থাকিনি। ব্লগ থেক বের হয়ে ৩০/৪০ মিনিট পার হয়ে গেলেই মনটা আকু-পাকু করতে থাকে- এই বুঝি কোন পোস্ট মিস করে ফেললাম! মোবাইল টা সবচেয়ে বেশি উপকারী মনে হয় যখন বিদ্যুৎ থাকেনা। বিদ্যুৎ যেতে সময় লাগে কিন্তু আমার ব্লগে ঢুকতে সময় লাগে না।
এবারে সমস্যার কথাটা বলি। এতদিন সোনার বাংলাদেশের মোবাইল ভার্সন ছিলোনা। তাই প্রায় সকল সুবিধা মোবাইল থেকেও পেয়েছি। যেমনঃ রেটিং দেওয়া, কোন পোস্টকে খুব বেশি দরকারী মনে হলে প্রিয়তে নেওয়া, যখন তখন নিজের কোন পোস্ট পড়তে পারা ইত্যাদি। আরও অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথা এই মুহুর্তে মনে করতে পারছিনা। ও হ্যাঁ, একটা মনে পড়েছে, পোস্টের বা মন্তব্যের মধ্যে কোন প্রয়োজনীয় লিংক থাকলে সহজেই সেখানে ঢুকতে পারা।
মোবাইল ভার্সন চালু হওয়ার পরে উপরোক্ত সকল সুবিধায়ই আমি হারিয়েছি। এখন মোবাইল দিয়ে নিয়মিত ঢুকতে পারলেও মনে হয় সোনার বাংলাদেশের সাথে সংযুক্তি হারিয়েছি। লিংকে ঢুকতে পারিনা। প্রয়োজনীয় পোস্ট প্রিয়তে নিতে পারিনা। উফ! মডুগন, হয় মোবাইল টেমপ্লেটকে আপডেট করুন, নচেৎ, আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যান। আমি কিন্তু ক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছি।
সোমবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১১
পরী
ছোট বেলায় পরীর গল্প শুনেছি অনেক—লাল পরী, নীল পরী আর হলদে পরীদের দেশ আমাদের এই স্বপ্নপূরী। পরীদের গল্প শুনেই কেটেছে শৈশব। কৈশরের পরীরা বেশ একটু সুন্দরীও ছিলো। স্বপ্নের মাঝে অথবা বিলাসী কল্পনায় ছিলো এদের আগমন। কিন্তু যৌবনের পরীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রুপ-জৌলুসে ভরপুর এই পরীরা হঠাৎ হঠাৎ হৃদয়ের মধ্যিখানে ঢুকে গিয়ে হৃৎপিন্ডটাকে একেবারে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়ে চলে যেত। তবে শুধু গল্পই শুনেছি, পরীদের দেখা হয়নি কখনো। শুনেছি কিছু কিছু ললনা নাকি পরী-টাইপ হয়! পরী নিয়ে তাই এক সৌম্য-সৌষ্ঠব চিত্রকল্প মনের মাঝে স্থির রুপ ধারণ করেছে।
‘কি করি আজ ভেবে না পাই, পথ হারিয়ে কোন বনে যাই’ ভাবখানা নিয়েই চলছে দিনগুলো। নাগরিক ব্যাস্ততা আর অস্থির দিনযাপনের মধ্যে সেই পরী-ভাবনা হৃদয়ের কোন গলিতে হারিয়ে গেছে, সেই খোঁজটুকুও রাখার ফুরসত পাইনি। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো গতকাল। কোথা থেকে একটা পরী এসে আকস্মিক সবকিছু কেমন এলোমেলো করে দিয়ে গেলো।
গতকাল হঠাৎ একটা পরী এসে প্রবেশ করে আমার ল্যাপ্পিতে। সময়ের সান্ধ্য প্রসাধন সমাপ্তির সামান্ন পরেই। সেই হতে মধ্যরাত অবধি পরীটা বিভিন্ন ভঙ্গিমায় আমাকে দেখলো, নাচলো, গাইলো- আমার ল্যাপ্পির পুরো হার্ডডিস্কে হেসে খেলে পায়চারী করে বেড়ালো। ধীরে ধীরে পরীটা আমাকে আবিষ্ট করলো, দখল করলো, আর অবশেষে হরণ করে নিলো আমাকে।
মন বড়ই উচাটন। সবটুকু দখল করে রেখেছে ঐ পরীটা। ‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার পরী চাই’। রবিবাবুর কাব্যে বোধহয় একটু পরিবর্তন হলো। তাতে কি! আমার পরী-ভাবনা কাছে এ আর অমন কোন বড় অন্যায় নয়। পরী-ভাবনার কাছে কোন অন্যায়ই অন্যায় নয়, কোন বারণই বারণ নয়। ‘মানেনা বারণ উথলি বারি’।
শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০১০
এটা সত্য, ধ্রুবতারার মত।
এটা সত্য, ধ্রুবতারার মত। এটা আমায় স্পর্শ করে। এটা আমায় আঁকড়ে ধরে, আমার চারপাশ ঘিরে রাখে। একটু একটু করে আমায় জাগিয়ে তোলে। আমি কিছুতেই এঁর থেকে দূরে সরে থাকতে পারিনা। কত সস্নেহে, কত আবেগে এটা আমার মধ্যে বেড়ে ওঠে! এটা রিনঝিন করে বাজে, গুন গুন করে শোনায়। এটা প্রজাপতির মত উড়ে
বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০১০
অর্থহীন বাক্যালাপ
অকারণে মন খারাপ হওয়া নিয়ে কোন বিশ্লেষনের চেষ্টা করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। জানা নেই কত সংখ্যক মানুষ এইভাবে বিনা কারণে মন খারাপ করে থাকে। তবে, আমি মাঝে মাঝে মন খারাপ করে থাকি। কোন কারণ খুজে পাইনা। অথচ মন খারাপ হয়ে যায়। আজ আমার মন খারাপ, ভীষন।
অকারণে সারাদিন ব্যাস্ত থাকি। নির্দিষ্ট কোন কাজও নেই। কিন্তু নিজেকে সবসময় ব্যাস্ত মনে হয়। সেই সকাল বেলা বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই আর ইফতারির (এখন পবিত্র রমজান মাস) ঠিক আগে বা কিছু পরে বাড়িতে ফিরে আসি। ব্যাস্ত থাকলে মন খারাপ থাকাটা টের পাওয়া যায়না। সারাদিন তাই ভালোই কেটেছে বলতে হবে। বাড়িতে ফিরে বেশ একা হয়ে পড়লাম।
আমার বাড়িতে আমি বেশ একা। সারাটা সময় তাই পিসি’র সামনে বসেই কাটে। আজ পিসিটাও অন্ করতে ভালো লাগছে না। কি করবো তা বুঝতে না পেরে অবশেষে এই একাকিত্বের কথাটা লেখার জন্যই পিসি অন্ করলাম।
বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০১০
অস্থিরতা।
সাম্প্রতিক সময়ে দিনগুলো খুব ভালো যাচ্ছে না। একটা অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। অনেক ব্যাস্ততা আমার। ব্যাস্ততা নাকি মানুষকে চিন্তাহীন হতে খুব সাহায্য করে। আমি বুঝতে পারছিনা কি হচ্ছে। স্বাভাবিকতা আর স্বাভাবিক নেই। বাইরে খুব যাওয়া হচ্ছে না। সারাদিন ঘরে বসেই দিন কাটাচ্ছি, পড়ছি। কিছু একটা করতে মন চাইছে। মনটাকেও মাঝে মাঝে বুঝতে পারিনা। সব সময় সকল কিছু গ্রহনযোগ্য হয়না। কিগ্রহনযোগ্য আর কি গ্রহনযোগ্য না তাও আমি বুঝতে পারছিনা। চিরাচরিত গতিতে এগিয়ে চলছে সময়। দিনের পর রাত, রাতের পর দিন।
কখনো মনে হয় রাজনীতিবিদ হয়ে যাই। পুরো দেশটাকে আমূল পাল্টে ফেলার স্বপ্ন দেখি। কিশোর স্বপ্নের মতই। শুধু কি কিশোর বয়সেই মানুষ দেশ নিয়ে ভাবে? তা নিশ্চয় নয়? দেশে তো কত প্রবীন রাজনীতিবিদ রয়েছেন। এরা সবাই কি দেশকে বদলে দেয়ার স্বপ্ন দেখেন? কি জানি, তবে আর যাই হোক, সেই স্বপ্ন নিশ্চয় তারা দেখেন না। তাহলে অন্তত দেশটার এই অবস্থা হতো না।
তাহলে কবি সাহিত্যিক হওয়া যেতে পারে। অনেক অনেক গল্প আর কবিতা লিকবো। কি বলেন? ভাবছেন, ইচ্ছা করলেই কি কবি সাহিত্যিক হওয়া যায়? যায়, যায়। কিছু কলা কৌশল দরকার। যেমন, স্রোতের বিপরীতে চললেন; অভিধান খুলে কিছু অপ্রচলিত শব্দ বেছে নিয়ে তা ব্যাবহার করলেন ইত্যাদি।
নাহ, আমার পক্ষে তা’ সম্ভব নয়। কি করবো জানিনা। মনটা বড়ই অস্থির। কিঞ্চিৎ স্থিরও মনে হয়। ..
কখনো মনে হয় রাজনীতিবিদ হয়ে যাই। পুরো দেশটাকে আমূল পাল্টে ফেলার স্বপ্ন দেখি। কিশোর স্বপ্নের মতই। শুধু কি কিশোর বয়সেই মানুষ দেশ নিয়ে ভাবে? তা নিশ্চয় নয়? দেশে তো কত প্রবীন রাজনীতিবিদ রয়েছেন। এরা সবাই কি দেশকে বদলে দেয়ার স্বপ্ন দেখেন? কি জানি, তবে আর যাই হোক, সেই স্বপ্ন নিশ্চয় তারা দেখেন না। তাহলে অন্তত দেশটার এই অবস্থা হতো না।
তাহলে কবি সাহিত্যিক হওয়া যেতে পারে। অনেক অনেক গল্প আর কবিতা লিকবো। কি বলেন? ভাবছেন, ইচ্ছা করলেই কি কবি সাহিত্যিক হওয়া যায়? যায়, যায়। কিছু কলা কৌশল দরকার। যেমন, স্রোতের বিপরীতে চললেন; অভিধান খুলে কিছু অপ্রচলিত শব্দ বেছে নিয়ে তা ব্যাবহার করলেন ইত্যাদি।
নাহ, আমার পক্ষে তা’ সম্ভব নয়। কি করবো জানিনা। মনটা বড়ই অস্থির। কিঞ্চিৎ স্থিরও মনে হয়। ..
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)

