|| বাংলার নবাবের ওয়েবসাইটে স্বাগতম ||
আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া | ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া।
সংস্কৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংস্কৃতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

নজরুলে গান

এলো বনান্তে পাগল বসন্ত।
বনে বনে মনে মনে রং সে ছড়ায় রে,চঞ্চল তরুণ দুরন্ত।
বাঁশীতে বাজায় সে বিধুর পরজ বসন্তের সুর,
পান্ডু-কপোলে জাগে রং নব অনুরাগে
রাঙা হল ধূসর দিগন্ত।।

কিশলয়ে-পর্ণে অশান্ত ওড়ে তা’র অঞ্চল প্রাস্ত।
পলাশ-কলিতে তা’র ফুল-ধনু লঘু-ভার,
ফুলে ফুলে হাসি অফুরন্ত।
এলো মেলো দখিনা মলয় রে প্রলাপ বকিছে বনময় রে।
অকারণ মন মাঝে বিরহের বেণু বাজে।
জেগে ওঠে বেদনা ঘুমন্ত।।

বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৭

রঙ্গিলা বারই রে

মৎকার একটা গান।
যেমন চমৎকার তার কথা, তেমনই চমৎকার তার সুর। আর গায়কের চমৎকার গায়কীতে গানটি আরও চমৎকার হয়ে উঠেছে।


মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৬

একটা শংকাযুক্ত প্রশ্ন

* বেশ কিছুদিন আগে খুলনা'র পাওয়ার হাউস মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। মীনা বাজারের বিল্ডিংটায় (এখন বোধহয় মীনা বাজার নেই) চোখ আটকাতেই দেখলাম 'সঙ্গীতায় চলিতেছে'; ইন্ডিয়ান কেলোর কীর্তি সিনেমার পোষ্টার।

এ নিয়ে ফেবুতে আমি একটা ষ্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম।

যাইহোক, কিছু আইনি বাধা সত্ত্বেও কেলোর কীর্তি বাংলাদেশের হলগুলোতে চলেছিলো। (https://goo.gl/3q5kny)

* কয়েকটি নিউজ চ্যানেল আর দু-একটি স্পোর্টস্‌ চ্যানেল বাদ দিলে আমাদের ডিশ এন্টেনা মানেই সব ইন্ডিয়ান চ্যানেল। অথচ, ইন্ডিয়াতে বাংলাদেশি কোন চ্যানেল প্রচারিত হয়না। বস্তাপঁচা গাজাখুরি গল্প আর অশ্লীলতা ছাড়া ইন্ডিয়ান চ্যানেলগুলো কী দেখাচ্ছে তা আমার জানা নেই।

* বিদেশী সিরিয়াল ডাবিং করে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোতে প্রচার বহু পুরনো কালচার। ছোটবেলা থেকেই ম্যাকগাইভার, সিন্দবাদ, হারকিউলিস এগুলো বিটিভিতেই প্রচারিত হতে দেখে আসছি। বর্তমানে দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত সুলতান সুলেমান (বাংলায় ডাব্‌ড্‌) এদেশে তুমুল জনপ্রিয়।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৫

‘চাচ্চু, আমাকে কিন্তু খেলার টিকেট দিতেই হবে’


ভাইপো আমার একমাস আগেই বলে রেখেছিলো, ‘চাচ্চু, আমাকে কিন্তু খেলার টিকেট দিতেই হবে’।

এপ্রিল ২৮, ২০১৫ থেকে খুলনাতে চলছে ড্যানকেক সিরিজের বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার ১ম টেস্ট। ভাইপোকে কি করে বোঝাই টিকেট কাটার দৌড়ঝাপ কত! বন্ধু বিথী’র পরামর্শে ইউক্যাশ-এ একাউন্টও খুললাম। ১ম দিনের টিকেট কেটে এক কলিগকে দিয়ে দিলাম। ভাবলাম, ভাইপোকে ২য় দিনের টিকেট দিবো।

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

পাহাড় চূড়ায়

--সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নেকদিন থেকেই আমার একটা পাহাড় কেনার শখ।
কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না।
যদি তার দেখা পেতাম,
দামের জন্য আটকাতো না।
আমার নিজস্ব একটা নদী আছে,
সেটা দিয়ে দিতাম পাহাড়টার বদলে।
কে না জানে, পাহাড়ের চেয়ে নদীর দামই বেশী।
পাহাড় স্থানু, নদী বহমান।
তবু আমি নদীর বদলে পাহাড়টাই
কিনতাম।
কারণ, আমি ঠকতে চাই।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৩

প্রেমের কবিতা

- কি করছো?
– ছবি আকঁছি।
- ওটা তো একটা বিন্দু।
– তুমি ছুঁয়ে দিলেই বৃত্ত হবে। কেন্দ্র হবে তুমি। আর আমি হবো বৃত্তাবর্ত।
- কিন্তু আমি যে বৃত্তে আবদ্ধ হতে চাই না। আমি চাই অসীমের অধিকার।
– একটু অপেক্ষা করো। . . . এবার দেখো।
- ওটা কি? ওটা তো মেঘ।
– তুমি ছুঁয়ে দিলেই আকাশ হবে। তুমি হবে নি:সীম দিগন্ত। আর আমি হবো দিগন্তরেখা।
- কিন্তু সে তো অন্ধকার হলেই মিলিয়ে যাবে। আমি চিরন্তন হতে চাই।

বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৩

শুধু তোমার জন্য

------ নির্মলেন্দু গুণ
কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।
তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও
কতবার যে আমি সে কথা বলিনি
সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।
তোমার হাতের মৃদু কড়ানাড়ার শব্দ শুনে জেগে উঠবার জন্য
দরোজার সঙ্গে চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলাম
আমার কর্ণযুগল; তুমি এসে আমাকে ডেকে বলবেঃ
‘এই ওঠো,
আমি, আ…মি…।’

আর অমি এ-কী শুনলাম
এমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে
কল্পনা করেছি, সে-কথা আমার ঈশ্বর জানেন।

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৩

যার যেখানে জায়গা

হেলাল হাফিজ

ভোলায়া ভালায়া আর কথা দিয়া কতোদিন ঠাগাইবেন মানুষ
ভাবছেন অহনো তাদের অয় নাই হুঁশ।
গোছায়া গাছায়া লন বেশি দিন পাইবেন না সময়
আলামত দেখতাছি মানুষের অইবোই জয়।

কলিমুদ্দিনের পোলা চিডি দিয়া জানাইছে,–’ভাই
আইতাছি টাউন দেখতে একসাথে আমরা সবাই,
নগরের ধাপ্‌পাবাজ মানুষেরে কইও রেডি অইতে
বেদম মাইরের মুখে কতোক্ষণ পারবো দাঁড়াইতে।’

বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০১৩

ভালোবাসি তোমায়, আশরাফুল

২০০৪ সাল। পড়াশুনার কারণে আমি তখন মেসে থাকতাম। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি আমার বরাবরই অনীহাএত দীর্ঘ সময়ে নিয়ে খেলার কারণেই সম্ভবত। কিন্তু সেদিন কি মনে করে কলেজে না গিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচটি দেখতে শুরু করলাম। ব্যাটিং-এ তখন আশরাফুল। বাংলাদেশের ক্রিকেট-আকাশে তখন একটাই তারা। কি যেন এক ঐশ্বরীক শক্তি পেলেন তিনি। খেলছেন হাত খুলে।

কিন্তু মনে এক অজানা আশংকা। আশরাফুল তো! এই বুঝি আউট হয়ে যাবেন। সময় গড়াতে থাকলো। খেলতে লাগলেন আশরাফুল, আমাদের আশরাফুল। ...২০ ...৩০ ...৪০ বেড়ে চলেছে রান-সংখ্যা। সমস্ত শংকাকে হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে দোর্দন্ড প্রতাপে ব্যাট করছেন আশরাফুল। চার আর ছয় –এর সে এক অপূর্ব সমন্বয়।

বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০১৩

যাচ্ছেতাই!!!

খুব গরম পড়ে গেলো। এখন আর বিদ্যুৎ যায় না, আসে। এই গরমে বেঁচে থাকায় দায়। চারপাশ কেমন রুক্ষ! দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বিদ্যুতের মত। খারাপই থাকে, ভালো আর হয়না। আমরা ধীরে ধীরে কেমন এক্সট্রিমিষ্ট হয়ে যাচ্ছি। পরমত সহ্য করতে পারিনা। 

অফিসে বেশ প্রেশার যাচ্ছে। গতকাল রাত ১০.০০টা পর্যন্ত অফিস করলাম। কেউ বিশ্বাস করতে চাইবেনা, বাট এটাই রিয়েল। একটু কোথাও বেড়িয়ে আসা দরকার। কিন্তু এই গরমে তা চিন্তা করতেও কষ্ট হচ্ছে। হাতে অনেক কাজও বাকী।

বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১২

মিথিলার চিঠি

অনন্ত,
মেহেদী পাতা দেখেছো নিশ্চয়ই। ওপরে সবুজ, ভেতরে রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত। নিজেকে আজকাল বড় বেশী মেহেদী পাতার মতো মনে হয় কেন? ওপরে আমি অথচ ভেতরে কষ্টের যন্ত্রণার এমন সব বড় বড় গর্ত যে, তার সামনে দাঁড়াতে নিজেরই ভয় হয় অনন্ত। তুমি কেমন আছো? বিরক্ত হচ্ছো না তো? ভালোবাসা যে মানুষকে অসহায়ও করে তুলতে পারে সেদিন তোমায় দেখার আগ পর্যন্ত আমার জানা ছিলো না। তোমার উদ্দাম ভালোবাসার দ্যুতি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখান করে ফেলেছে আমার ভেতর আমার বাহির। আমারই হাতে গড়া আমার পৃথিবী।

অনন্ত, যে মিথীলা সুখী হবে বলে ভালোবাসার পূর্ণ চন্দ্র গিলে খেয়ে ভেজা মেঘের মতো উড়তে উড়তে চলে গেলো আজন্ম শূণ্য অনন্তকে আরো শূণ্য করে দিয়ে তার মুখে এসব কথা মানায় না আমি জানি। কিন্তু আমি আর এভাবে এমন করে পারছি না। আমার চারদিকের দেয়াল জুড়ে থই থই করে আমার স্বপ্ন খুনের রক্ত। উদাস দুপুরে বাতাসে শীষ দেয় তোমার সেই ভালোবাসা, পায়ে পায়ে ঘুরে ফেরে ছায়ার মতন তোমারই স্মৃতি, আমি আগলাতেও পারি না, আমি ফেলতেও পারি না। সুখী হতে চেয়ে এখন দেখি দাঁড়িয়ে আছি একলা আমি; কষ্টের তুষার পাহাড়ে।

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১১

মানসী

                       রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী!
পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি
আপন অন্তর হতে। বসি কবিগণ
সোনার উপমাসূত্রে বুনিছে বসন।
সঁপিয়া তোমার 'পরে নূতন মহিমা
অমর করেছে শিল্পী তোমার প্রতিমা।

কত বর্ণ, কত গন্ধ, ভূষণ কত-না -
সিন্ধু হতে মুক্তা আসে, খনি হতে সোনা,
বসন্তের বন হতে আসে পুষ্পভার,
চরণ রাঙাতে কীট দেয় প্রাণ তার।
লজ্জা দিয়ে, সজ্জা দিয়ে, দিয়ে আবরণ,
তোমারে দুর্লভ করি করেছে গোপন।
পড়েছে তমার 'পরে প্রদীপ্ত বাসনা -
অর্ধেক মানবী তুমি, অর্ধেক কল্পনা।।

চায়ের পিয়াসী


চায়ের পিয়াসী

-কাজী নজরুল ইসলাম
চায়ের পিয়াসী পিপাসিত চিত আমরা চাতক দল।
দেবতার কন সোমরস যারে সে এই গরম জল।।
চায়ের প্রসাদে চার্বাকর ঋষি বাক্-রণে হ’ল পাস,
চা নাহি পেয়ে চার-পেয়ে জীবন চর্বন করে ঘাস।
লাখ কাপ চা খাইয়া চালাক
হয়, সে প্রমাণ চাও কত লাখ?
মাতালের দাদা আমরা চাতাল, বাচাল বলিস্ বল।।
চায়ের নামে যে সাড়া নাহি দেয় চাষাড়ে তাহারে কও,
চায়ে যে ‘কু’ বলে চাকু দিয়া তার নাসিকা কারিয়া লও।
যত পায় তত চায় ব’লে তাই
চা নাম হ’ল এ সুধার ভাই।
চায়ের আদর করিতে, হল দেশে চাদরের চল।।
চা চেয়ে চেয়ে কাকা নাম ভুলে পশ্চিমে চাচা কয়,
এমন চাযে গে মারিতে চাহে সে চামার সুনিশ্চয়।
চা করে করে ভৃত্য নফর
নাম হারাইয়া হইল চাকর,
চা নাহি খেয়ে বেচারা নাচার হয়েছে চাষা সকল।।
চায়ে এল যায় চাল্-কুমড়ো সে, চাঁদা করে মার চাঁটি,
চা না খাইয়র চানা খায় আজ দেখহ অশ্ব জাতি।
একদা মায়ের মুন্ডেতে শিব
চা ঢে’লে দেন; বের করে জিভ
চা-মুন্ডা রূপ ধরিলেন দেবী সেইদিন রে পাগল।।
চায়ে পা ঠেকিয়া সেদিন গদাই পড়িল মোটর চাপা,
চাঁট ও চাটনী চায়েরই নাতলি, লুকাতে পার কি বাপা?
চায়ে মর্ ব’লে গালি দিয়ে মাসি
চামর ঢুলায় হয়ে আজ দাসী,
চাটিম্ চাটিম্ বুলি এই দাদা চায়ের নেশারই ফল।।

চিঠি দিও


চিঠি দিও
- মহাদেব সাহা
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, খামে ভরে তুলে দিও
আঙ্গুলের মিহিন সেলাই
ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তাও,
এটুকু সামান্য দাবি, চিঠি দিও, তোমার শাড়ির মতো
অক্ষর পাড়-বোনা একখানি চিঠি।
চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও …
বর্ণণা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও!
আজো তো অমল আমি চিঠি চাই, পথ চেয়ে আছি,
আসবেন অচেনা রাজার লোক
তার হাতে চিঠি দিও, বাড়ি পৌঁছে দেবে ….
এমন ব্যস্ততা যদি শুদ্ধ করে একটি শব্দই শুধু লিখো, তোমার কুশল! …
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, ভুলে গিয়ে ভুল করে একখানি চিঠি
দিও খামে
কিছুই লেখার নেই তবু লিখো একটি পাখির শিস
একটি ফুলের ছোট নাম,
টুকিটাকি হয়তো হারিয়ে গেছে কিছু হয়তো পাওনি খুঁজে
সেইসব চুপচাপ কোন দুপুরবেলার গল্প
খুব মেঘ করে এলে কখনো কখনো বড় একা লাগে, তাই লিখো
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, মিথ্যা করে হলেও বোলো, ভালবাসি। 

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১১

ভিকারুন্নেসার ঘটনা ও মিডিয়ার এসিড টেস্ট।

ভিকারুন্নেসা'র ঘটনা নতুন করে তুলে ধরার প্রয়োজন নেই। বরং এ সম্পর্কে জানেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশের প্রতিটি মানুষই ঘৃণা আর ধিক্কার প্রকাশ করছে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পুরো দেশবাসী। এমন ঘৃণ্য অপরাধীর শাস্তি কাম্য আপামর জনতার।

তবে ভিকারুন্নেসার এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি আমাদের বিবেকের এসিড-টেষ্টের মত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো দেশবাসী যখন অপরাধীর সাজা দেওয়ার দাবী জানাচ্ছে, তখন কিছু কিছু মিডিয়া আর কতিপয় সুশীল ব্যক্তির অপরাধীর পক্ষ নেওয়ার ঘটনা দেশবাসীকে হতবাক করেছে, করেছে বাকরুদ্ধ। ভিকারুন্নেসার এই ঘটনা মুখোশ খুলে দিয়েছে সুশীল নামধারী, মানবতার ধ্বজাধারী এই সকল ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের। কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আবার কেউবা চুপ থেকে মুলতঃ অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করছেন।

শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১১

এই সমস্ত কুত্তাদের কী করা উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?


এই সমস্ত কুত্তাদের কী করা উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?

ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে একটা উদ্বোধনী অনুষ্টান হতে পারে বা হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে উদ্বোধনীর আগে ও পরে এই বানিজ্যিক অনুষ্ঠান কেন? উদ্বোধনীর আগে ও পরে যদি কোন অনুষ্ঠান হয়ও তা হতে হবে দেশীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য। সারা বিশ্বের সামনে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলার সুযোগ তো আর বার বার আসে না। এমন একটা সুযোগ পেয়েও তা হেলায় হারাতে হবে?

সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১০

আমাদের স্বার্বভৌমত্ব হারানো।


ঘটনা অনেকটাই চোখ-সওয়া হয়ে যাওয়ার মত। ধীরে ধীরে আপনার মনে জেঁকে বসবে, আপনাকে গ্রাস করবে। অথচ আপনি কিছুই টের পাবেন না। একসময় হয়তো আপনার অস্তিত্বই বিলীন করে দিতে চাইবে কিন্তু আপনি তখন যেন-কিছুই-হয়নি মনোভাব নিয়ে পড়ে থাকবেন আর খুইয়ে ফেলবেন আপনার স্বার্বভৌমত্ব। এবস্ট্রাক্ট এবং কংক্রিট উভয় ক্ষেত্রে এর প্রভাব সমভাবে বিদ্যমান। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে এই উভয় দিক থেকে আপনার উপর যুগল আক্রমন চালানো হবে আর আপনি আপনার মডারেট চিন্তা-চেতনার গন্ডীর ভিতরে থেকে দিনের পর দিন এমন ভাবখানা দেখাতে থাকবেন যেন এমনটি তো হওয়ারই ছিলো। অনেকটা বেহুশ হয়ে থাকা অবস্থায় আপনার শরীরে ইঞ্জেকশান পুশ-ইন করার মত। আপনার শরীরে একটা ড্রাগ ঢুকিয়ে দেওয়া হলো অথচ আপনি কিছুই টের পেলেননা। আবার যখন হুশ ফিরে এলো তখনও আপনি কিছু টের পেলেননা কারণ ড্রাগটি তখন আপনার অজান্তে নিভৃতে আপনার শরীরে কাজ করে চলেছে। একটা সময়ে আপনি ঠিকই বুঝতে পারবেন আপনার শরীর আর আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু ভাগ্য তখন বড় অসহায়, আপনি আপনাকে হারিয়ে ফেলেছেন!

আমার উপরোক্ত কথাগুলো আপনার কাছে মুল্যহীন বিমুর্ত মনে হতে পারে। আমি কতগুলো ইলাস্ট্রেশানস্‌ -এর সাহায্য নেব। একটা পর্যায়ে আমার কথাগুলো আপনার কাছে মুর্তমান হয়ে উঠতে পারে। না হলেও দোষের কিছু নেই। চলুন দেখা যাক।

খুব ছোটবেলা থেকে আপনি যে মাঠটিতে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলে আসছিলেন সেই মাঠটার কথায় ধরুননা! আপনি যখন মাঠে আসা শুরু করলেন তখন এই মাঠটি ছিলো অনেক বড়। গ্রামের বা মহল্লার বয়সে বড় যারা ছিলো তারা প্রায় পুরো মাঠ জুড়ে খেলাধুলা করলেও আপনার মত যারা ছোট ছিলেন তাদের জন্য জায়গা ছিলো মাঠের এক কোনে। আপনি কিন্তু সবসময় এই ছোটটি থাকেননি। আর তাই একসময়ে ভিড়ে গেলেন বড়দের দলে। এখন আপনি পুরো মাঠজুড়ে ক্রিকেট খেলেন। কিন্তু খেয়াল করে দেখেছেন কি, এখন যারা বয়সে ছোট বা আপনাদের সাথে খেলাধুলা করার মত হয়ে ওঠেনি তারা কোথায়? তাদের কিন্তু আপনার মত মাঠের এক কোনে জায়গা হয়নি। কেন? খুবই সোজা উত্তর- মাঠটি আর আগের মত বড় নেই। আমি এই পরিবর্তনটার কথায়ই আপনাকে বলতে চেয়েছিলাম। হয়তো কোন একদিন দেখলেন মাঠের এক পাশে ক্লাব করার নামে ছোট্ট একটি স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কেউ আমল দেয়নি ব্যাপারটাতে। কারণ, তাতে আর কতটুকু জায়গা লাগতো? দেখতে দেখতে ওটা আপনাদের সকলের চোখ-সওয়া হয়ে গিয়েছিলো। তারপর, সমিতির জন্য আরেকটি স্থাপনা, কিছুদিন পর ক্লাব বা সমিতির স্থাপনাকে অনেক বড় করে তুলে দেওয়া। এইভাবে একের পর এক স্থাপনা গড়ে উঠেছে আর ছোট হয়ে এসেছে মাঠটি। কিন্তু কোন কিছুই আপনার চোখে লাগেনি। কারন, এই সবকিছুই একদিনে হয়নি। হয়েছে ধীরে ধীরে, এক এক করে, আপনার চোখ-সওয়া হয়ে।

উপরোক্ত ঘটনাকে আমি কংক্রিট বলছি। কারণ, এর প্রভাব একটা সময়ে হলেও প্রত্যক্ষ। ধীরে ধীরে আপনার মাঠ দখল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি আপনার মনের মধ্যেও প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। যেটাকে আমি এবস্ট্রাক্ট বলতে চেয়েছি। সেই ব্যাপারটিতে যাওয়ার আগে আসুন ছোট্ট আরেকটি এমন চোখ-সওয়া ঘটনার কথা জেনে নিই। আজ থেকে দশ বারো বৎসর আগের কথা একটু মনে করার চেষ্টা করুন । আমাদের দেশে টেলিভিশান বলতে আমরা ঐ বিটিভিকেই বুঝতাম। তখন এত চ্যানেলের আধিক্য ছিলোনা। প্রতি বৃহস্পতিবারে আপনি হয়তো একটা প্যাকেজ নাটক দেখার আশায় টিভি সেটের সামনে বসে থাকতেন। না, আমি নাটকের বিষয়বস্তু বা বিটিভির স্বায়ত্বশাসন নিয়ে কিছু বলবোনা। ওটা রাজনীতির বিষয়। আমি বলবো সে সময়কার নাটকের নায়িকাদের ড্রেস-আপ নিয়ে। আপনার যদি স্মরণ-শক্তি খুব দূর্বল না হয়ে থাকে, তাহলে মনে করতে পারবেন সেই সময়ে নায়িকাদের পোষাক কতটুকু লম্বা ছিলো –জানু থেকে অনেক নীচে, পায়ের গোড়ালীর সামান্য উপর পর্যন্ত। আর এখন, সেই টেলিভিশানের নায়িকারা ফতুয়া পরে আপনার চোখের সামনে শাবলীল ভঙ্গিতে অভিনয় করছে, ঘুরছে, ফিরছে বা গান গাইছে। আপনার কিন্তু চোখে লাগছেনা। কারণ, এই পরিবর্তন একদিনে হয়নি। নায়িকাদের পোষাক আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠেছে। আপনার থ্রেশোল্ড ভ্যালুকে (Threshold value) বৃদ্ধি করা হয়েছে। আপনার চোখ-সওয়া করে নেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে পোষাকের দৈর্ঘ্য কমতে থাকলেও তা আপনার চোখে লাগেনি। আপনি একদিনেই দেখেননি যে তাদের পোষাক কোমরের কাছে চলে এসেছে। প্রতি বছরেই হয়তো মাত্র চার আঙ্গুল পরিমান কমেছে। আপনি ভেবেছেন, এ আর এমন কি?

আপনার মনের মধ্যে ঘটে যাওয়া এমনই আরেকটি পরিবর্তনের কথা বলবো এবার। আপনার ছোট বেলাকার কথা আবার একটু ভাবুন। যখন আপনি ছোট ছিলেন আপনার পিতা-মাতা আপনাকে বড়দের সালাম দেওয়ার কথা শিখিয়েছিলো। খেলার মাঠে হোক আর স্কুলের ক্লাসেই হোক, আপনার থেকে বড় কাউকে দেখলেই আপনি সালাম দেওয়ার অভ্যাস রপ্ত করে ফেলেছিলেন। কিন্তু আপনি বড় হতে থাকলেন আর আপনার সেই অভ্যাসটি আপনার থেকে দূরে সরে যেতে লাগলো। এরও কিন্তু কিছু কারণ রয়েছে। আপনার প্রতিবেশী দেশসহ বিদেশী সংস্কৃতি আপনাকে গ্রাস করে ফেলেছে। তবে, একদিনেই তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ধীরে ধীরে এক একটা করে আপনার স্বভাবের পরিবর্তন করা হয়েছে। কোমল পানীয়’র নামে আপনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এলকোহলের সামান্য ঝাঝ। আর বাকী পথটুকু হেটেছেন আপনি নিজেই। এটাকে মনের মধ্যের পরিবর্তন কেন বলছে তা জানেন? কারণ, আপনি এখন আর আপনার সন্তানকে সালাম দিতে শেখাননা। আপনি শেখান কি করে হ্যালো (Hello) বলতে হয় আর কি করে হ্যান্ড-শেক (Hand-shake) করতে হয়। আপনার মনের মধ্যে সালামের যে ভ্যালু ছিলো তা এখন আর একটুও অবশিষ্ট নেই।

নায়িকাদের পোষাকের কথা আগেই বলেছিলাম। তবে শুধু নায়িকাদের পোষাকই নয়, সংস্কৃতি জগতের প্রতিটা ক্ষেত্রই এভাবে বদলে গেছে। নাটকের গল্প, ভাষার ব্যাবহার, শালীনতার মাত্রা—সব জায়গাতেই বিদেশী সংস্কৃতির এমন অন্ধ অনুকরণ আর অনুসরণ যে আমরা আমাদের স্বকীয়তা ভুলতে বসেছি। আমাদের ঐতিহ্য এখন আর আমাদের টানেনা। আমাদের থ্রেশোল্ড-ভ্যালুকে এমনই এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে বিদেশী অশ্লীল আর নষ্ট সংস্কৃতির সাথে আমাদের কোন ডিশটিঙ্কশান আছে বলে প্রতীয়মান হয়না।

ঠিক এভাবেই, আমাদের সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি—সবকিছুকেই গ্রাস করে ফেলেছে বিদেশী অপনীতি। কংক্রিট বা এবস্ট্রাক্ট উভয় দিক থেকে আক্রমন করা হয়েছে আমাদের। সবকিছুই আমার আপনার গা-সওয়া বা চোখ-সওয়া হয়ে গেছে। নিজ ঘরেই প্রবাসী করে ফেলেছে আমাদের। হারিয়ে ফেলেছি আমরা আমাদের চিন্তার স্বার্বভৌমত্ব। ভৌগলিক স্বাধীনতা ছাড়া আর সকল ক্ষেত্রেই আমরা পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ। জাতি হিসেবে, এর থেকে লজ্জার আর অপমানের আর কি হতে পারে!!!

থ্রেশোল্ড-ভ্যালু বৃদ্ধি এবং আমাদের স্বার্বভৌমত্ব হারানো।


ঘটনা অনেকটাই চোখ-সওয়া হয়ে যাওয়ার মত। ধীরে ধীরে আপনার মনে জেঁকে বসবে, আপনাকে গ্রাস করবে। অথচ আপনি কিছুই টের পাবেন না। একসময় হয়তো আপনার অস্তিত্বই বিলীন করে দিতে চাইবে কিন্তু আপনি তখন যেন-কিছুই-হয়নি মনোভাব নিয়ে পড়ে থাকবেন আর খুইয়ে ফেলবেন আপনার স্বার্বভৌমত্ব। এবস্ট্রাক্ট এবং কংক্রিট উভয় ক্ষেত্রে এর প্রভাব সমভাবে বিদ্যমান। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে এই উভয় দিক থেকে আপনার উপর যুগল আক্রমন চালানো হবে আর আপনি আপনার মডারেট চিন্তা-চেতনার গন্ডীর ভিতরে থেকে দিনের পর দিন এমন ভাবখানা দেখাতে থাকবেন যেন এমনটি তো হওয়ারই ছিলো। অনেকটা বেহুশ হয়ে থাকা অবস্থায় আপনার শরীরে ইঞ্জেকশান পুশ-ইন করার মত। আপনার শরীরে একটা ড্রাগ ঢুকিয়ে দেওয়া হলো অথচ আপনি কিছুই টের পেলেননা। আবার যখন হুশ ফিরে এলো তখনও আপনি কিছু টের পেলেননা কারণ ড্রাগটি তখন আপনার অজান্তে নিভৃতে আপনার শরীরে কাজ করে চলেছে। একটা সময়ে আপনি ঠিকই বুঝতে পারবেন আপনার শরীর আর আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু ভাগ্য তখন বড় অসহায়, আপনি আপনাকে হারিয়ে ফেলেছেন!

আমার উপরোক্ত কথাগুলো আপনার কাছে মুল্যহীন বিমুর্ত মনে হতে পারে। আমি কতগুলো ইলাস্ট্রেশানস্‌ -এর সাহায্য নেব। একটা পর্যায়ে আমার কথাগুলো আপনার কাছে মুর্তমান হয়ে উঠতে পারে। না হলেও দোষের কিছু নেই। চলুন দেখা যাক।

শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০১০

দুটো মাত্র সাধারণ বিষয়।

আজ দুটো বিষয় নিয়ে কথা বলবো। পরকীয়া প্রেমের জের হিসেবে মা কর্তৃক শিশু সামিউলের মৃত্যুর ঘটনা খুব একটা পুরানো হয়ে যায়নি। বিষয়টি মনে পড়লে এখনো গা শিউরে ওঠে। আর, এবারের বিষয়টি পুরোপুরি পরকীয়া না হলেও বেশ কাছাকাছি গোছের। তার চেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই জনপ্রিয় দু’জন মডেল-কাম-অভিনেতা অপূর্ব ও প্রভা। প্রথম আলোর সৌজন্যে আমরা মোটামুটি সবাই জানি, মাত্র কয়েক দিন আগে প্রভার সাথে বাগদান সম্পন্ন হয়েছিলো তারই খুবই ঘনিষ্ট একজন বন্ধু রাজিবের। সমস্যাটি সেখানে নয়।

বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০১০

বধু কোন আলো লাগলো চোখে

আমার প্রিয় একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। রবীন্দ্রনাথের গানে অপরিসীম ভালোবাসা। তার একটু তুলে দিচ্ছে আপনাদের কাছে।

বধু কোন আলো লাগলো চোখে


বধু কোন আলো লাগলো, লাগলো চোখে
লাগলো চোখে বধু কোন আলো, লাগলো, লাগলো চোখে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে

বুঝি দীপ্তিরূপে ছিলে সূর্যলোকে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে

ছিল মন তোমারই প্রতীক্ষা করি
যুগে যুগে দিনু রাত্রি ধরি
ছিল মর্মবেদনা ঘন অন্ধকারে
জনম জনম গেল বিরহ শোকে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে

অস্ফুট মঞ্জুরি কুঞ্জ বনে,
সংগীত শূন্য বিষন্ন মনে কুঞ্জ বনে
অস্ফুট মঞ্জুরি কুঞ্জ বনে,
সংগীত শূন্য বিষন্ন মনে
সঙ্গীরিক্ত চির দুঃখ রাতি পোহাব কি নির্জনে শয়ন পাতি
সুন্দর হে! সুন্দর হে!
বর মাল্য খানি তব আনো বহে, তুমি আনো বহে
অবগুন্ঠন-ছায়া ঘুচায়ে দিয়ে,
হের লজ্জিত স্মিত মুখ শুভ আলোকে
বধু কোন আলো লাগলো চোখে….