|| বাংলার নবাবের ওয়েবসাইটে স্বাগতম ||
আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া | ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া।
বাংলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০১৭

নজরুল কেন আজো অপরিহার্য?

[জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি]

২৫ মে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্য আর মানবতার কবি নজরুলের জন্মদিন এক উৎসব বঙ্গাঞ্চলে। আমরাও এই উৎসবে যুক্ত হবো।

নজরুল জন্মেছিলেন বৃটিশ ইন্ডিয়ায় ১৮৯৯ সালে, সাহিত্যকৃতিও বৃটিশ ইন্ডিয়ায়। ১৯৪২ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত তাঁর জীবন অন্য এক পরিমণ্ডলে আবর্তিত ছিলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কবিকে ঢাকায় নিয়ে আসা হলো জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের আগ্রহে। কবি পেলেন জাতীয় কবির স্বীকৃতি। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর বেশ কয়েক জায়গায় কবির কথা স্থান পেয়েছে।

গত ২০০ বছরের বাংলা সাহিত্যে মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। এই তিনজনের মধ্যে নজরুলের অসাম্প্রদায়িকতা আবার অনন্য। বাকিরা সাম্প্রদায়িক ছিলেন তা ভাবার কোন কারণ নেই, কিন্তু নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক ছিলেন তা সন্দেহাতীত। তিনি হিন্দু-মুসলিম মিলনের অগ্রদূত। একজন মুসলমান হওয়ার পরও তিনি নবী মুহম্মদের মধ্যে কৃষ্ণের রূপ দেখেছেন। মা ফাতেমার চরিত্র চিত্রণ করেছেন দেবী দুর্গার গুণাবলী দিয়ে। বিদ্রোহী কবিতার কাড়ি কাড়ি পৌরাণিক উপমার মধ্যে মুসলিম উপমা এসেছে হাতে গোণা কয়েকটি।

বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৬

ফুলের দাম আমায় শোধ করতে হবে !!!!

সাকিব আল হাসানকে একবার এক টিভি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হলো- "গ্রেট প্লেয়ারদের ভালো খেলার পেছনে একটা মোটিভেশন থাকে। আপনার অনুপ্রেরণার উৎস কী??"
জবাবে সাকিব তার চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন...!!!...
সাকিব আল হাসান

সাকিবের জবানীতেই শুনুনঃ
প্রচন্ড গরমের ভেতরে একটি শিশু ফুল বিক্রি করছে। যার সমস্ত শরীর কুলকুল করে ঘামছে। এমন সময় পথশিশু টি আমার গাড়ির কাছে এসে বললো- " স্যার, একটা ফুল নিবেন?? "
আমি তার সঙ্গে থাকা সবগুলো ফুল নিয়ে নিলাম!!!! তারপর গাড়ির জানালার কাচ খুলে দাম দিতে যাবো ঠিক এমন সময় ওই ছেলে আমাকে দেখে চিনে ফেললো !!

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০১৫

আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ
এই কী মানুষজন্ম? নাকি শেষ
পরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা! প্রতি সন্ধ্যেবেলা
আমার বুকের মধ্যে হাওয়া ঘুরে ওঠে, হৃদয়কে অবহেলা
করে রক্ত; আমি মানুষের পায়ের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে
থাকি-তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে। আমি আক্রোশে
হেসে উঠি না, আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা হয়ে হাঁটি,
মশা হয়ে উড়ি একদল মশার সঙ্গে; খাঁটি
অন্ধকারে স্ত্রীলোকের খুব মধ্যে ডুব দিয়ে দেখেছি দেশলাই জ্বেলে-
(ও-গাঁয়ে আমার কোনো ঘরবাড়ি নেই!)

ক্যামেলিয়া

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


নাম তার কমলা,
দেখেছি তার খাতার উপরে লেখা।
সে চলেছিল ট্রামে, তার ভাইকে নিয়ে কলেজের রাস্তায়।
আমি ছিলেম পিছনের বেঞ্চিতে।
মুখের এক পাশের নিটোল রেখাটি দেখা যায়,
আর ঘাড়ের উপর কোমল চুলগুলি খোঁপার নীচে।
কোলে তার ছিল বই আর খাতা।
যেখানে আমার নামবার সেখানে নামা হল না।

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন রেজিঃ ও আপডেট

জাতীয় পরিচয় পত্রের অনলাইন রেজিঃ করার জন্য এখানে ক্লীক করুন। তাহলে আপনাকে নীচে প্রদর্শিত ছবির মত একটা পেইজে নিয়ে যাওয়া হবে।
এখানে আপনার সকল তথ্য দিয়ে ক্যাপচা পূরণ করুন।

রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৫

'ইয়া নবি সালাম আলাইকা'

'ইয়া নবি সালাম আলাইকা'
মিলাদুন্নবী, নজরুল-মানস এবং ইসলামি গান

১। একবার একটি লং প্লে'তে নজরুল-এর নামের আগে 'পীরকবি' অভিধা সংযুক্ত হয়েছিলো। কোরান-হাদিস এবং ইসলামি মনীষিদের সম্পর্কে তাঁর ছিলো নিবিড় পড়াশোনা। আমরা এ পর্যন্ত মোট ১৯ টি ইসলামি গান ইউটিউবে দিয়েছি এই গ্রুপের তত্ত্বাবধানে। এর পেছনে একটি কারণ অবশ্যই আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন যে তিনি কোরান নাজেল করেছেন, তিনিই তা সংরক্ষণ করবেন। পৃথিবীর অনেক দেশে কোরান নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। ডক্টর রশীদ আল মাসরী গবেষণা করে বের করেছেন যে আল কোরানের আয়াত শব্দ ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। 'ইসম' শব্দটি ১৯ বার, 'আর-রাহমান' ৫৭ বার, আল্লাহ ২৬৯৬ বার। সূরা ১১৪ টি। (Al Quran the ultimate miracle দ্রষ্টব্য)
HAR Gibb বলেন 'well, then, if the Quran where his own composition other men could rival it. Let them produce ten verses like it. If they could not (and it is obvious that they could not), then let them accept the Quran as an outstanding exegetical miracle.' [Mohammedanism, London]

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৩

সিরাম জোক

অফিসারঃ আপনার নাম কি?
প্রার্থীঃ M.P স্যার।
অফিসারঃ এম.পি তার মানে কি?
প্রার্থীঃ মহন পাল স্যার।
অফিসারঃ আপনার পিতার নাম কি?
প্রার্থীঃ এম.পি স্যার।
অফিসারঃ তার মানে কি?
প্রার্থীঃ মদন পাল স্যার।
অফিসারঃ আপনার যোগ্যতা?
প্রার্থীঃ এম.পি স্যার।
অফিসারঃ(রাগ করে) এইটা কি?
প্রার্থীঃ মেট্রিক পাস স্যার।
অফিসারঃ আপনে কেন কাজ চান?
প্রার্থীঃ এম.পি স্যার।
অফিসারঃ (অঅহহ)তার মানে কি?
প্রার্থীঃ মানি প্রব্লাম স্যার।
অফিসারঃ আপনার PERSONALITY বর্ণনা করেন।
প্রার্থীঃ এম.পি স্যার।
অফিসারঃ খুলে বলেন।
প্রার্থীঃ MAGNANIMOUS PERSONALITY স্যার।
অফিসারঃ আপনে আসতে পারেন।
প্রার্থীঃ এম.পি স্যার।
অফিসারঃ এইটা কি আবার?
প্রার্থীঃ MY PERFORMANCE…?
অফিসারঃ M.P!!! প্রার্থীঃ তার মানে কি স্যার?
অফিসারঃ MENTALLY PUNCTURED

শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

দারিদ্র্য

- কাজী নজরুল ইসলাম

হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্‌।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!
দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস,
অম্লান স্বর্ণেরে মোর করিলে বিরস,
অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ!
শীর্ণ করপুট ভরি’ সুন্দরের দান
যতবার নিতে যাই-হে বুভুক্ষু তুমি
অগ্রে আসি’ কর পান! শূন্য মরুভূমি
হেরি মম কল্পলোক। আমার নয়ন
আমারি সুন্দরে করে অগ্নি বরিষণ!
বেদনা-হলুদ-বৃন্ত কামনা আমার
শেফালির মত শুভ্র সুরভি-বিথার
বিকশি’ উঠিতে চাহে, তুমি হে নির্মম,
দলবৃন্ত ভাঙ শাখা কাঠুরিয়া সম!

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

পাহাড় চূড়ায়

--সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নেকদিন থেকেই আমার একটা পাহাড় কেনার শখ।
কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না।
যদি তার দেখা পেতাম,
দামের জন্য আটকাতো না।
আমার নিজস্ব একটা নদী আছে,
সেটা দিয়ে দিতাম পাহাড়টার বদলে।
কে না জানে, পাহাড়ের চেয়ে নদীর দামই বেশী।
পাহাড় স্থানু, নদী বহমান।
তবু আমি নদীর বদলে পাহাড়টাই
কিনতাম।
কারণ, আমি ঠকতে চাই।

সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না


--- মহাদেব সাহা

এক কোটি বছর হয়
তোমাকে দেখিনা
একবার তোমাকে দেখতে পাবো
এই নিশ্চয়তাটুকু পেলে-
বিদ্যাসাগরের মতো আমিও
সাঁতরে পার হবো ভরা দামোদর...
কয়েক হাজার বার
পাড়ি দেবো ইংলিশ চ্যানেল;

তোমাকে একটিবার
দেখতে পাবো এটুকু ভরসা পেলে
অনায়াসে ডিঙাবো এই কারার
প্রাচীর, ছুটে যবো নাগরাজ্যে পাতালপুরীত
কিংবা বোমারু বিমান
ওড়া শঙ্কিত শহরে।

বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১২

মিথিলার চিঠি

অনন্ত,
মেহেদী পাতা দেখেছো নিশ্চয়ই। ওপরে সবুজ, ভেতরে রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত। নিজেকে আজকাল বড় বেশী মেহেদী পাতার মতো মনে হয় কেন? ওপরে আমি অথচ ভেতরে কষ্টের যন্ত্রণার এমন সব বড় বড় গর্ত যে, তার সামনে দাঁড়াতে নিজেরই ভয় হয় অনন্ত। তুমি কেমন আছো? বিরক্ত হচ্ছো না তো? ভালোবাসা যে মানুষকে অসহায়ও করে তুলতে পারে সেদিন তোমায় দেখার আগ পর্যন্ত আমার জানা ছিলো না। তোমার উদ্দাম ভালোবাসার দ্যুতি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখান করে ফেলেছে আমার ভেতর আমার বাহির। আমারই হাতে গড়া আমার পৃথিবী।

অনন্ত, যে মিথীলা সুখী হবে বলে ভালোবাসার পূর্ণ চন্দ্র গিলে খেয়ে ভেজা মেঘের মতো উড়তে উড়তে চলে গেলো আজন্ম শূণ্য অনন্তকে আরো শূণ্য করে দিয়ে তার মুখে এসব কথা মানায় না আমি জানি। কিন্তু আমি আর এভাবে এমন করে পারছি না। আমার চারদিকের দেয়াল জুড়ে থই থই করে আমার স্বপ্ন খুনের রক্ত। উদাস দুপুরে বাতাসে শীষ দেয় তোমার সেই ভালোবাসা, পায়ে পায়ে ঘুরে ফেরে ছায়ার মতন তোমারই স্মৃতি, আমি আগলাতেও পারি না, আমি ফেলতেও পারি না। সুখী হতে চেয়ে এখন দেখি দাঁড়িয়ে আছি একলা আমি; কষ্টের তুষার পাহাড়ে।

রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

শ্যালিকা

_______ গোলাম মোস্তফা

বুঝে পড়ে দেখিলাম করে তালিকা
সব চেয়ে সমধুর ছোটো শ্যালিকা।
       
নেই তার তুল
       
মন মশগুল
প্রাণ-পাওয়া বাসরের ফুল-মালিকা।

প্রেয়সীর আদরের ছোটো ভগিনী
সুখ দুখে চিরদিন সহযোগিনী
       
রাঙা টুকটুক
       
হাসি মাখা মুখ
ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপ উপভোগিনী ।

সোমবার, ২৬ মার্চ, ২০১২

স্বাধীনতা দিবস ও একটি স্টাটাস


শুরুতেই সবাইকে জানাচ্ছি মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা
কেমন আছেন আপনারা???

একটু আগেই ফেইসবুকিং করতে গিয়ে একটা স্টাটাস দেখলাম। স্টাটাসটা দেখে একটু অবাক হলাম আর ভাবলাম আমাদের ভাষাগত দেউলিয়াত্ব কতদূর তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে। স্বাধীনতা দিবসেও আমাদের বাংলাদেশের পরিচয় প্রদান করা হচ্ছে আংরেজি'র বিশ্লেষন দিয়ে। আগে স্টাটাসটা তুলে দেই, তাহলে আপনারা বিষয়টা ক্লীয়ার করে বুঝতে পারবেন। 
________________________________________________________________
একজন ফেইসবুকারের স্টাটাসঃ

বাংলাদেশ(BANGLADESH) নামটির পূর্ণরূপ...

B=Blood (রক্তে)
A=Achieve (অর্জিত)
N=Noteworthy (স্মরণীয়)
G=Golden (সোনালী)
L=Land (ভূমি)
A=Admirable (প্রশংসিত)
D=Democratic (গণতান্ত্রিক)
E=Evergreen (চিরসবুজ)
S=Sacred (পবিত্র)
H=Habitation (বাসভূমি)

বাংলা অর্থগুলোকে একসাথে করলে হয়ঃ

রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

সাইবার যুদ্ধ ও বাংলাদেশ-- লাল সালাম তোমাদের


বাংলাদেশের সাইবার যোদ্ধারা যে দোর্দন্ড প্রতাপে এগিয়ে চলেছে তাতে এই বীরদেরকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক পদক দেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদের সাইবার যোদ্ধারা ৭০০০+ ইন্ডিয়ান ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে। আজ সারারাত এই হ্যাকিং এর ঘটনা ঘটতে থাকবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। হ্যাকিং আর পাল্টা হ্যাকিং-এর কারণে মুহুর্মুহু ধ্বসে পড়ছে দুই দেশের সাইবার জগত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি হ্যাকাররা এগিয়ে রয়েছে এই যুদ্ধে। বাংলাদেশের দূর্বল কিছু সরকারী ওয়েবসাইট দখল করা ছাড়া তেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি ইন্ডিয়ান হ্যাকাররা। তবে বাংলাদেশী হ্যাকাররা হাই-সিকিউরড seoindiaoutsourcing.com সহ বেশ কয়েকটি পাওয়ারফুল ওয়েবসাইট দখলে নিয়েছে।

ওয়েবসাইট ছাড়াও অসংখ্য ইন্ডিয়ান ফেইসবুক আর টুইটার একাউন্ট হ্যাক করেছে বাংলাদেশী হ্যাকাররা।

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

দুই বিঘা জমি -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই আর সবই গেছে ঋণে।
বাবু বলিলেন, “বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।”
কহিলাম আমি, “তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই।
চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো‐জোর মরিবার মতো ঠাঁই।”
শুনি রাজা কহে, “বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা,
পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দীঘে সমান হইবে টানা—
ওটা দিতে হবে।” কহিলাম তবে বক্ষে জুড়িয়া পাণি
সজলচক্ষে, “করুণ রক্ষে গরিবের ভিটেখানি!
সপ্ত পুরুষ যেথায় মানুষ সে মাটি সোনার বাড়া!
দৈন্যের দায়ে বেচিব সে মায়ে এমনি লক্ষ্মীছাড়া!”
আঁখি করি লাল রাজা ক্ষণকাল রহিল মৌনভাবে;
কহিলেন শেষে ক্রূর হাসি হেসে, “আচ্ছা, সে দেখা যাবে।”

পরে মাস‐দেড়ে ভিটেমাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে—
করিল ডিক্রি সকলি বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে।
এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি!
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
মনে ভাবিলাম, মোরে ভগবান রাখিবে না মোহগর্তে,
তাই লিখি দিল বিশ্বনিখিল দু বিঘার পরিবর্তে।
সন্ন্যাসীবেশে ফিরি দেশে দেশে হইয়া সাধুর শিষ্য—
কত হেরিলাম মনোহর ধাম, কত মনোরম দৃশ্য!
ভূধরে সাগরে বিজনে নগরে যখন যেখানে ভ্রমি,
তবু নিশিদিনে ভুলিতে পারি নে সেই দুই বিঘা জমি।
হাটে মাঠে বাটে এইমত কাটে বছর পনেরো‐ষোলো,
একদিন শেষে ফিরিবারে দেশে বড়োই বাসনা হল।

হাসি

হাসি 



.....................রোকনুজ্জামান খান



হাসতে নাকি জানেনা কেউ
কে বলেছে ভাই?
এই শোন না কত হাসির
খবর বলে যাই।

খোকন হাসে ফোঁকলা দাঁতে
চাঁদ হাসে তার সাথে সাথে

কাজল বিলে শাপলা হাসে
হাসে সবুজ ঘাস।
খলসে মাছের হাসি দেখে
হাসে পাতিহাঁস।

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১২

ও আমার দেশের মাটি, তোমার ’পরে ঠেকাই মাথা।


ও আমার দেশের মাটি, তোমার ’পরে ঠেকাই মাথা।
তোমাতে বিশ্বময়ীর, তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা॥ 
ও আমার দেশের মাটি, তোমার ’পরে ঠেকাই মাথা।

তুমি মিশেছ মোর দেহের সনে,
তুমি মিলেছ মোর প্রাণে মনে,
তোমার ঐ শ্যামলবরন কোমল মূর্তি মর্মে গাঁথা॥
ও আমার দেশের মাটি, তোমার ’পরে ঠেকাই মাথা।

শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০১১

কম্পিউটার ব্যাবহার করুন, বাংলায়।


বাংলা ইন্টারফেসসহ একটি ডেস্কটপচিত্র দেখুন।
(বড় করে দেখার জন্য চিত্রের উপরে ক্লিক করুন)

এটা একটা দারুন কাজ আর আমি এটাকে খুবই এনজয় করছি। আমার কম্পিউটার এখন সম্পূর্ণ বাংলায়। এটা যে কত আনন্দের তা বলে বোঝানো যাবেনা। আমার কম্পিউটারে এখন থেকে আর ইংরেজিতে মেনু বা অন্যান্য অপশনগুলি দেখতে হবে না। যদিও দু-একটা কোর বিষয় এখনো ইংরেজিতে রয়ে গেছে, আমি এতেই অনেক খুশি। এখন অন্ততঃ আমার কম্পিউটারের পরিবেশটাকে বাংলা বাংলা মনে হচ্ছে। সম্পূর্ণ বাংলা ইন্টারফেস। এটা দারুণ উপভোগ্য।

সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১০

আমাদের স্বার্বভৌমত্ব হারানো।


ঘটনা অনেকটাই চোখ-সওয়া হয়ে যাওয়ার মত। ধীরে ধীরে আপনার মনে জেঁকে বসবে, আপনাকে গ্রাস করবে। অথচ আপনি কিছুই টের পাবেন না। একসময় হয়তো আপনার অস্তিত্বই বিলীন করে দিতে চাইবে কিন্তু আপনি তখন যেন-কিছুই-হয়নি মনোভাব নিয়ে পড়ে থাকবেন আর খুইয়ে ফেলবেন আপনার স্বার্বভৌমত্ব। এবস্ট্রাক্ট এবং কংক্রিট উভয় ক্ষেত্রে এর প্রভাব সমভাবে বিদ্যমান। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে এই উভয় দিক থেকে আপনার উপর যুগল আক্রমন চালানো হবে আর আপনি আপনার মডারেট চিন্তা-চেতনার গন্ডীর ভিতরে থেকে দিনের পর দিন এমন ভাবখানা দেখাতে থাকবেন যেন এমনটি তো হওয়ারই ছিলো। অনেকটা বেহুশ হয়ে থাকা অবস্থায় আপনার শরীরে ইঞ্জেকশান পুশ-ইন করার মত। আপনার শরীরে একটা ড্রাগ ঢুকিয়ে দেওয়া হলো অথচ আপনি কিছুই টের পেলেননা। আবার যখন হুশ ফিরে এলো তখনও আপনি কিছু টের পেলেননা কারণ ড্রাগটি তখন আপনার অজান্তে নিভৃতে আপনার শরীরে কাজ করে চলেছে। একটা সময়ে আপনি ঠিকই বুঝতে পারবেন আপনার শরীর আর আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু ভাগ্য তখন বড় অসহায়, আপনি আপনাকে হারিয়ে ফেলেছেন!

আমার উপরোক্ত কথাগুলো আপনার কাছে মুল্যহীন বিমুর্ত মনে হতে পারে। আমি কতগুলো ইলাস্ট্রেশানস্‌ -এর সাহায্য নেব। একটা পর্যায়ে আমার কথাগুলো আপনার কাছে মুর্তমান হয়ে উঠতে পারে। না হলেও দোষের কিছু নেই। চলুন দেখা যাক।

খুব ছোটবেলা থেকে আপনি যে মাঠটিতে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলে আসছিলেন সেই মাঠটার কথায় ধরুননা! আপনি যখন মাঠে আসা শুরু করলেন তখন এই মাঠটি ছিলো অনেক বড়। গ্রামের বা মহল্লার বয়সে বড় যারা ছিলো তারা প্রায় পুরো মাঠ জুড়ে খেলাধুলা করলেও আপনার মত যারা ছোট ছিলেন তাদের জন্য জায়গা ছিলো মাঠের এক কোনে। আপনি কিন্তু সবসময় এই ছোটটি থাকেননি। আর তাই একসময়ে ভিড়ে গেলেন বড়দের দলে। এখন আপনি পুরো মাঠজুড়ে ক্রিকেট খেলেন। কিন্তু খেয়াল করে দেখেছেন কি, এখন যারা বয়সে ছোট বা আপনাদের সাথে খেলাধুলা করার মত হয়ে ওঠেনি তারা কোথায়? তাদের কিন্তু আপনার মত মাঠের এক কোনে জায়গা হয়নি। কেন? খুবই সোজা উত্তর- মাঠটি আর আগের মত বড় নেই। আমি এই পরিবর্তনটার কথায়ই আপনাকে বলতে চেয়েছিলাম। হয়তো কোন একদিন দেখলেন মাঠের এক পাশে ক্লাব করার নামে ছোট্ট একটি স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কেউ আমল দেয়নি ব্যাপারটাতে। কারণ, তাতে আর কতটুকু জায়গা লাগতো? দেখতে দেখতে ওটা আপনাদের সকলের চোখ-সওয়া হয়ে গিয়েছিলো। তারপর, সমিতির জন্য আরেকটি স্থাপনা, কিছুদিন পর ক্লাব বা সমিতির স্থাপনাকে অনেক বড় করে তুলে দেওয়া। এইভাবে একের পর এক স্থাপনা গড়ে উঠেছে আর ছোট হয়ে এসেছে মাঠটি। কিন্তু কোন কিছুই আপনার চোখে লাগেনি। কারন, এই সবকিছুই একদিনে হয়নি। হয়েছে ধীরে ধীরে, এক এক করে, আপনার চোখ-সওয়া হয়ে।

উপরোক্ত ঘটনাকে আমি কংক্রিট বলছি। কারণ, এর প্রভাব একটা সময়ে হলেও প্রত্যক্ষ। ধীরে ধীরে আপনার মাঠ দখল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি আপনার মনের মধ্যেও প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। যেটাকে আমি এবস্ট্রাক্ট বলতে চেয়েছি। সেই ব্যাপারটিতে যাওয়ার আগে আসুন ছোট্ট আরেকটি এমন চোখ-সওয়া ঘটনার কথা জেনে নিই। আজ থেকে দশ বারো বৎসর আগের কথা একটু মনে করার চেষ্টা করুন । আমাদের দেশে টেলিভিশান বলতে আমরা ঐ বিটিভিকেই বুঝতাম। তখন এত চ্যানেলের আধিক্য ছিলোনা। প্রতি বৃহস্পতিবারে আপনি হয়তো একটা প্যাকেজ নাটক দেখার আশায় টিভি সেটের সামনে বসে থাকতেন। না, আমি নাটকের বিষয়বস্তু বা বিটিভির স্বায়ত্বশাসন নিয়ে কিছু বলবোনা। ওটা রাজনীতির বিষয়। আমি বলবো সে সময়কার নাটকের নায়িকাদের ড্রেস-আপ নিয়ে। আপনার যদি স্মরণ-শক্তি খুব দূর্বল না হয়ে থাকে, তাহলে মনে করতে পারবেন সেই সময়ে নায়িকাদের পোষাক কতটুকু লম্বা ছিলো –জানু থেকে অনেক নীচে, পায়ের গোড়ালীর সামান্য উপর পর্যন্ত। আর এখন, সেই টেলিভিশানের নায়িকারা ফতুয়া পরে আপনার চোখের সামনে শাবলীল ভঙ্গিতে অভিনয় করছে, ঘুরছে, ফিরছে বা গান গাইছে। আপনার কিন্তু চোখে লাগছেনা। কারণ, এই পরিবর্তন একদিনে হয়নি। নায়িকাদের পোষাক আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠেছে। আপনার থ্রেশোল্ড ভ্যালুকে (Threshold value) বৃদ্ধি করা হয়েছে। আপনার চোখ-সওয়া করে নেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে পোষাকের দৈর্ঘ্য কমতে থাকলেও তা আপনার চোখে লাগেনি। আপনি একদিনেই দেখেননি যে তাদের পোষাক কোমরের কাছে চলে এসেছে। প্রতি বছরেই হয়তো মাত্র চার আঙ্গুল পরিমান কমেছে। আপনি ভেবেছেন, এ আর এমন কি?

আপনার মনের মধ্যে ঘটে যাওয়া এমনই আরেকটি পরিবর্তনের কথা বলবো এবার। আপনার ছোট বেলাকার কথা আবার একটু ভাবুন। যখন আপনি ছোট ছিলেন আপনার পিতা-মাতা আপনাকে বড়দের সালাম দেওয়ার কথা শিখিয়েছিলো। খেলার মাঠে হোক আর স্কুলের ক্লাসেই হোক, আপনার থেকে বড় কাউকে দেখলেই আপনি সালাম দেওয়ার অভ্যাস রপ্ত করে ফেলেছিলেন। কিন্তু আপনি বড় হতে থাকলেন আর আপনার সেই অভ্যাসটি আপনার থেকে দূরে সরে যেতে লাগলো। এরও কিন্তু কিছু কারণ রয়েছে। আপনার প্রতিবেশী দেশসহ বিদেশী সংস্কৃতি আপনাকে গ্রাস করে ফেলেছে। তবে, একদিনেই তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ধীরে ধীরে এক একটা করে আপনার স্বভাবের পরিবর্তন করা হয়েছে। কোমল পানীয়’র নামে আপনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এলকোহলের সামান্য ঝাঝ। আর বাকী পথটুকু হেটেছেন আপনি নিজেই। এটাকে মনের মধ্যের পরিবর্তন কেন বলছে তা জানেন? কারণ, আপনি এখন আর আপনার সন্তানকে সালাম দিতে শেখাননা। আপনি শেখান কি করে হ্যালো (Hello) বলতে হয় আর কি করে হ্যান্ড-শেক (Hand-shake) করতে হয়। আপনার মনের মধ্যে সালামের যে ভ্যালু ছিলো তা এখন আর একটুও অবশিষ্ট নেই।

নায়িকাদের পোষাকের কথা আগেই বলেছিলাম। তবে শুধু নায়িকাদের পোষাকই নয়, সংস্কৃতি জগতের প্রতিটা ক্ষেত্রই এভাবে বদলে গেছে। নাটকের গল্প, ভাষার ব্যাবহার, শালীনতার মাত্রা—সব জায়গাতেই বিদেশী সংস্কৃতির এমন অন্ধ অনুকরণ আর অনুসরণ যে আমরা আমাদের স্বকীয়তা ভুলতে বসেছি। আমাদের ঐতিহ্য এখন আর আমাদের টানেনা। আমাদের থ্রেশোল্ড-ভ্যালুকে এমনই এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে বিদেশী অশ্লীল আর নষ্ট সংস্কৃতির সাথে আমাদের কোন ডিশটিঙ্কশান আছে বলে প্রতীয়মান হয়না।

ঠিক এভাবেই, আমাদের সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি—সবকিছুকেই গ্রাস করে ফেলেছে বিদেশী অপনীতি। কংক্রিট বা এবস্ট্রাক্ট উভয় দিক থেকে আক্রমন করা হয়েছে আমাদের। সবকিছুই আমার আপনার গা-সওয়া বা চোখ-সওয়া হয়ে গেছে। নিজ ঘরেই প্রবাসী করে ফেলেছে আমাদের। হারিয়ে ফেলেছি আমরা আমাদের চিন্তার স্বার্বভৌমত্ব। ভৌগলিক স্বাধীনতা ছাড়া আর সকল ক্ষেত্রেই আমরা পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ। জাতি হিসেবে, এর থেকে লজ্জার আর অপমানের আর কি হতে পারে!!!

থ্রেশোল্ড-ভ্যালু বৃদ্ধি এবং আমাদের স্বার্বভৌমত্ব হারানো।


ঘটনা অনেকটাই চোখ-সওয়া হয়ে যাওয়ার মত। ধীরে ধীরে আপনার মনে জেঁকে বসবে, আপনাকে গ্রাস করবে। অথচ আপনি কিছুই টের পাবেন না। একসময় হয়তো আপনার অস্তিত্বই বিলীন করে দিতে চাইবে কিন্তু আপনি তখন যেন-কিছুই-হয়নি মনোভাব নিয়ে পড়ে থাকবেন আর খুইয়ে ফেলবেন আপনার স্বার্বভৌমত্ব। এবস্ট্রাক্ট এবং কংক্রিট উভয় ক্ষেত্রে এর প্রভাব সমভাবে বিদ্যমান। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে এই উভয় দিক থেকে আপনার উপর যুগল আক্রমন চালানো হবে আর আপনি আপনার মডারেট চিন্তা-চেতনার গন্ডীর ভিতরে থেকে দিনের পর দিন এমন ভাবখানা দেখাতে থাকবেন যেন এমনটি তো হওয়ারই ছিলো। অনেকটা বেহুশ হয়ে থাকা অবস্থায় আপনার শরীরে ইঞ্জেকশান পুশ-ইন করার মত। আপনার শরীরে একটা ড্রাগ ঢুকিয়ে দেওয়া হলো অথচ আপনি কিছুই টের পেলেননা। আবার যখন হুশ ফিরে এলো তখনও আপনি কিছু টের পেলেননা কারণ ড্রাগটি তখন আপনার অজান্তে নিভৃতে আপনার শরীরে কাজ করে চলেছে। একটা সময়ে আপনি ঠিকই বুঝতে পারবেন আপনার শরীর আর আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু ভাগ্য তখন বড় অসহায়, আপনি আপনাকে হারিয়ে ফেলেছেন!

আমার উপরোক্ত কথাগুলো আপনার কাছে মুল্যহীন বিমুর্ত মনে হতে পারে। আমি কতগুলো ইলাস্ট্রেশানস্‌ -এর সাহায্য নেব। একটা পর্যায়ে আমার কথাগুলো আপনার কাছে মুর্তমান হয়ে উঠতে পারে। না হলেও দোষের কিছু নেই। চলুন দেখা যাক।