|| বাংলার নবাবের ওয়েবসাইটে স্বাগতম ||
আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া | ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া।
অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬

এরদোগান এ যুগের সুলতান সুলেমান?

সুলতান সুলেমান। তুরস্কের ৬০০ বছরের অটোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম সফল শাসক। একটি টিভি সিরিয়ালের বদৌলতে নামটি এখন বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বেশ পরিচিত। সম্প্রতি সমর্থকদের রাস্তায় ডেকে এনে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দিয়ে আলোচনায় আছেন ওই দেশেরই বর্তমান শাসক প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। দুই শাসকের মধ্যে কিছু বিষয়ে মিল থাকায় অনেকের মনে প্রশ্ন—এরদোগান কি এই যুগের সুলতান সুলেমান? 

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে অটোমান সম্রাট সুলতান সুলেমানের শাসনামলে একটু ঢুঁ মারতে হবে। ১২৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা অটোমান সাম্রাজ্যের দশম শাসক ছিলেন সুলতান সুলেমান। প্রায় পাঁচ দশক সাম্রাজ্য শাসন করেছেন তিনি। তাঁর সময়ে অটোমানরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিমান হয়ে ওঠে। ইউরোপের রোম, হাঙ্গেরিসহ অনেক অঞ্চল অটোমানদের অধীনে আসে। ইউরোপে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান জানান দেয় তুরস্ক।
এরদোগানই কি সুলতান সুলেমান?

এরদোগানও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী হয়ে ওঠার কৌশল নিয়েছেন। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উত্থান থেকে তিনি সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। সিরিয়া ও ইরাকের একটি বড় ভূখণ্ড দখল করে খেলাফত ঘোষণা করেছে আইএস। এই দুই দেশের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের সঙ্গে মতাদর্শগত ভিন্নতা আছে এরদোয়ানের, ইরাক ও সিরিয়ার ক্ষমতাসীনরা শিয়াপন্থী আর এরদোগান সুন্নিপন্থী। তিনি সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাতে আইএসের হামলায় সমর্থন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বরাবরই তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইএসকে তাঁর নীরব সমর্থনের কারণ হিসেবে বলা হয়, সিরিয়া ও ইরাক থেকে লুট করা জ্বালানি প্রচলিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে তুরস্কের কাছে বিক্রি করে আইএস। এতে তুরস্কের অর্থনীতি অনেকটাই স্থিতিশীল থাকে। নিত্যপণ্যের মূল্য আয়ত্তে থাকায় জনগণও প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ওপর বেশ খুশি। 

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১৬

'রেসকিউ অভিযান' নাকি 'কমান্ডো অভিযান'?

'রেসকিউ অভিযান' আর 'কমান্ডো অভিযান' এ দুয়ের মাঝে একটা চরিত্রগত ও প্রয়োগগত পার্থক্য আছে বলে আমার মনে হয়। যেখানে 'হোস্টেজেস' -এর নিরাপত্তা মূখ্য, তাদের জীবন-মরণের প্রশ্ন, সেখানে কমান্ডো অভিযান খুব যুক্তিযুক্ত কি? 

Hostages include a good number of foreigners along with some commoners. এই ফরেনার আর কমনার -দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অভিযানের পরিকল্পনা করার প্রয়োজন ছিলো কি?

কেবলমাত্র কিছু পলাতক সন্ত্রাসী আটকই তো এই অভিযানের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। শনিবার সকাল থেকে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ায় যে অভিযানের কথা শুনলাম তা 'রেসকিউ অভিযান' নাকি 'কমান্ডো অভিযান'? 

শুক্রবার, ১৩ মে, ২০১৬

আসুন, অংক কষি!

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট অফিস ১০টা। এই ১০টা অফিসে এ্যাভারেজে ২০০ জন করে কর্মকর্তা/কর্মচারী থাকলেও মোট কর্মকর্তা/কর্মচারীর সংখ্যা ১০*২০০=২০০০ জন।

২০১০ থেকে ২০১৫ এই ০৬ বছরে অর্থাৎ (৬*১২=) ৭২ মাসে মাত্র ২০০০ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী (সৎ লোক অবশ্যই আছেন) বিভিন্ন ধরণের ইউটিলিটি বিলে এত্ত বেশি গোঁজামিল দিয়েছেন যে তার পরিমাণ ১২০০০ হাজার কোটি টাকা! ক্যান ইউ ইমাজিন? '১২০০০ কোটি টাকা' মানে হলো কয়েকদিন আগে যে ৮০০ কোটি টাকা লুটপাট হলো, তার সঙ্গে ২০০ কোটি টাকা যোগ করলে হয় (৮০০+২০০=) ১০০০ কোটি টাকা; আর সেই ১০০০ কোটি টাকার ১২ গুন করলে হয় ১২০০০ হাজার কোটি টাকা। ক্যামনে বুঝাই হাউ হিউজ দিস এ্যামাউন্ট ইজ!

শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০১৬

হ্যাকিং ! নাকি চুরি ?

বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি হয়েছে। বাংকের কর্তারা বলছে- চুরি নয় -হ্যাক। আশ্চর্য ! তারা হ্যাক ও চুরির তফাৎ বুঝবে না, এ কেমন কথা।?

কত টাকা?

৮০০ কোটি !

৮ কোটি না, ৮০ কোটি না-আট'শ ! ৯৯ কোটি, ৫০০ কোটি, ৭০০ কোটি-তারপরে-৮০০ কোটি !
ক্যামনে যে বুঝাই ৮০০ কোটি টাকা কত বিশাল !

১ কোটি = ২৩ কেজি। সুতরাং- ২৩ x ৮০০= ১৮ হাজার ৪'শ কেজি ÷ ৪০ কেজি বা ১ মন = ৪৬০ মন !

কীভাবে যে বুঝাই ৮০০ কোটি কতো বিশাল অংক ! আচ্ছা বাদ দেন। ভাবতেই কলিজা ছ্যাৎ করে উঠে।

কোথা থেকে টাকা চুরি হয়েছে?
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে।

এর দায় কার? ক্ষতিপূরণ কে দিবে?
অবশ্যই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক দিবে। আমেরিকার বাপের টাকা না - আমাদের টাকা।

কিন্তু তারা দিবে না। আশ্চর্য !

অর্থমন্ত্রী আবুল মালে মামলা করার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে। তবুও দিবেনা। আবারও আশ্চর্য !
 

রবিবার, ১২ জুলাই, ২০১৫

আমরা আদৌ আর মানুষ আছি কিনা(!)

আমরা আদৌ আর মানুষ আছি কিনা তা বলার দরকার নেই; বলা দরকার আমরা পশুত্বের লেভেলকেও ছাড়িয়ে গিয়েছি কিনা?

শিশুটিকে দেখুন তো? সে কত বড় অপরাধ করতে পারে, যে অপরাধের কারণে আপনি তাকে পানি না খেতে দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারেন???


সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৫

ধর্ষনের দায় মূলত ধর্ষকের পাশবিকতার উপরেই বর্তায়

নববর্ষে টিএসসিতে নারীদের যৌন হয়রানি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখছি আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা বন্ধু-বান্ধব, সিনিয়র, জুনিয়র অনেকের মাঝেই।

সমস্যাটা হলো, যুক্তির দুই পিঠেই বহুল সংখ্যক মানুষের সমর্থণ রয়েছে। বিভ্রান্তির বিষয়টি তাহলে কী??? ‘ধর্ষণের পেছনে নারীর অশ্লীল পোষাকই দায়ী কিনা’ নাকি ‘ভিক্টিম নারীকেই কেন দায়ী করা হচ্ছে?’

বিভ্রান্তিটি সৃষ্টি হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে বলে আমার মনে হয়। 

তার আগে ঘটনাটি জানা দরকার। বাংলা ১৪২২ এর পহেলা বৈশাখের দিন (ইংরেজি এপ্রিল ১৪, ২০১৫) টিএসসিতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন কয়েকজন নারী(১)। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন নন্দী প্রথম আলোকে বলেন, বাংলা নতুন বছর উপলক্ষে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শাহবাগ থেকে টিএসসি আসার পথে তাঁরা কয়েকজন দেখেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে ৩০-৩৫ জনের একদল যুবক বেশ কয়েকজন নারীকে যৌন হয়রানি করছে। তারা কারও কারও শাড়ি ধরে টান দিচ্ছিল। কয়েকজনকে তারা বিবস্ত্রও করে ফেলে। এ সময় সেখানে বাধা দিতে গেলে ওই যুবকদের ধাক্কায় তিনি পড়ে যান এবং তাঁর হাত ভেঙে যায়।

ঘটনার পরপরই ফেইসবুক সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় শুরু হয়। তীব্র ঘৃণার পাশাপাশি দোষীদের শনাক্ত করে তড়িৎ পদক্ষেপের আহবান জানান সকলেই। 

রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৫

বর্ষবরণে টিএসসিতে শ্লীলতাহানিঃ বাস্তবতা ও করণীয়

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, শয়তানগুলোর ছবি। সবই চলে এসেছে সামনে।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, উপযুক্ত শাস্তির।

তবে, প্রথম আলো অলরেডি এটাকে মৌলবাদী রুপ(১) দেয়ার প্রয়াস নিয়েছে, ডিএমপি স্পোকস্-পার্সন অলরেডি বলে দিয়েছেন ফুটেজে তারা কোন এ্যাসাল্টের ঘটনা(২) পান নাই।

এটা হয়তো আরেকটা থার্টি ফাস্টের ঘটনা হতে যাচ্ছে। মনে পড়ে ২০০০ সালে বাঁধনকে লাঞ্চিত করার ঘটনা? এতদিনেও তার কোন বিচার হয়নি, সাজা পাইনি কেউই। অথচ, নেট সার্চ দিলে সেই ঘটনার ছবি এখনো পাওয়া যায়! ছবি আছে, ছবির মানুষটি আছে। কিন্তু, তাকে সাজা দেয়ার সুযোগ নেই!!

অপরাধ অনেকটা রিকারিং ইভেন্টের মত। উপযুক্ত শাস্তির ব্যাবস্থা না করলে তা বারংবার ঘটতে থাকে, আগের চে' আরও ভয়ংকর রুপে।

শনিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১২

যা আমি ভাবি, যেভাবে ভাবি


আমি এখন যে কথাগুলো বলবো, তা আপনাদের ভালো লাগবে না। এমনকি অনেকের কাছে অসহনীয় মনে হবে। কিন্তু আমার বলাটা জরুরি। আবার, এই কথাগুলো রাজনৈতিক (অনেকের কাছে, আমার কাছে মোটেও রাজনৈতিক নয়)। কিন্তু না বলে উপায় নেই। 

আমি কথা বলবো বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত গোলাম আযম আর মতিউর রহমান নিজামীকে নিয়ে।

ধরে নেই (হয়তোবা সত্য, যেহেতু বিচারকার্য্য চলমান), ৭১ সালে গোলাম আযম ও নিজামী কোন মানবতা বিরোধী অপরাধ করে নাই। কিন্তু আমরা জানি, এই দুজন ব্যাক্তি ও তাদের সংগঠন “জামায়াতে ইসলামী” বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাই নাই। আরও ধরে নেই, এই ব্যাক্তিদ্বয় ও তাদের সংগঠনের বাংলাদেশের স্বাধীনতা না চাওয়ার পিছনে তৎকালীন সময়ের নিরীখে যোক্তিক কারণ রয়েছে। 

এখন, আমার জন্ম ৮৬-এ, এই বাংলাদেশেই। আমার বড় হয়ে ওঠা, আমার বেঁচে থাকা, আমার অস্তিত্ব এই বাংলাদেশকে ঘিরেই। ভালো হোক মন্দ হোক, ছোট হোক বড় হোক, দূর্ণীতিপরায়ন হোক আর যাই হোক, এটা আমার বাংলাদেশ, আমার প্রাণের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশকে ঘিরেই আমার সব স্বপ্ন, সব ভালোবাসা, দেশবোধ, দেশপ্রেম। এই দেশকে কত ভালোবাসি তা' বলে বোঝাতে পারবোনা। অন্তত ক্রিকেটের কথা বলতে পারি, সাকিব তামিমরা যখন এশিয়া কাপের ফাইনালে ওইভাবে হেরে গিয়েছিলো, তিনদিন আমি ঠিকমত খেতে পারিনি। সত্যি কথা বলছি, চোখের জল আটকে রাখতে পারি নি। ব্লগ ফেসবুকে যখনই ওদের ছবি দেখেছি, অজানা কষ্টে বুকটা ভারী হয়েছে। আমার এই আবেগ আপনার কাছে অনেক সস্তা মনে হতে পারে। কিন্তু বুঝেছি, এই দেশকে ভালোবাসি বলেই ওদের নিয়ে এত আবেগ! 

এবার আপনিই বলুন, যে মাতৃভুমিকে ঘিরে এত ভালোবাসা এত আবেগ, সেই মাতৃভুমি যারা চাই নাই, আমি তাদের সাপোর্ট করি কিভাবে? আপনি হয়তো বলবেন, ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে তারা হয়তো ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। আমি বলবো, তারা তো এই বাংলাদেশটাই চাই নাই যেটা আমার মাতৃভুমি। তারা যতটা যৌক্তিকই হোক না কেন, আমি তো এই বাংলাদেশের সন্তান।

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ আর এ কারণেই “জামায়াতে ইসলামী” আর দশটা দলের মতই একটা রাজনৈতিক দল। এবার ধরুন, নিজামী বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হলো (আমাকে পাগল ভাববেননা প্লিজ)। তাহলে স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবসে কি তারা (স্বাধীনতা বিরোধীরা) এই দিবসের বাণী দেবেন দেশবাসীর উদ্দ্যেশ্যে? আপনি কি ভাবতে পারছেন? 

আমার সোজা কথা, আমি জামায়াতে ইসলাম আর তাদের নেতাদের ঘৃণা করি। ইসলাম শব্দটা থাকলেই আমি কাউকে সমর্থন করতে পারিনা। জামায়াতে ইসলাম নামক এই রাজনৈতিক দলকে নিষদ্ধ করাটা তাই যৌক্তিক এবং সময়ের দাবী।

বিঃদ্রঃ বিঃদ্রঃ
১। স্বাধীনতা বিরোধীদের আমি কোনভাবেই এদেশের নেতা ভাবতে পারি না। মানলাম, তারা যা করেছে তা যৌক্তিক, তাই তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে এদেশের বসবাস করতে পারে। তাই বলে এই দেশের নীতি নির্ধারক হওয়ার ক্ষমতা আমি তাদেরকে দিতে পারি না।
২। আমার এই “ধরে নেয়া” বিষয়গুলো নিয়ে অনেকের অনেক মত থাকতে পারে। কিন্তু, একটা পার্টিকুলার বিষয়কে প্রাধান্য দিতেই এই বিষয়গুলো ধরে নেয়া হয়েছে। আশা করি এইগুলো নিয়ে বিতর্ক থাকবেনা। 

 অটঃ গতকাল এক বন্ধুর সাথে অনেক আলোচনা হলো। তারপর থেকেই মনের মধ্যে এই বিষয়গুলো কাজ করতেছে। লিখে ফেললাম, যা আমি ভাবি, যেভাবে আমি ভাবি।

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

বাংলাদেশের সাইবার যুদ্ধ ও ফতোয়া স্টোরিজ

*প্রথম ফতোয়া - বাংলাদেশের 'বাচ্চা পুলাপানরা' হ্যাক করতে জানে না।

>২০ হাজার সাইট হ্যাক করে তো ভাকু তাদের মুখে কালী মেখে দিয়েছে সেই পুলাপাইনরা।

*দ্বিতীয় ফতোয়া - ইন্ডিয়ার সাইটগুলো অনেক সুরক্ষিত, বাংলাদেশের 'বাচ্চা পুলাপানদের' হ্যাকিং টেকনিক এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যায় নাই।

>হা হা প গে!! এই পুলাপানরাই ইন্ডিয়ার সাইবার স্পেইসের লাল বাত্তি জ্বালাইয়া দিসে।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১

ঝরে গেলো আরও একটি সম্ভাবনাময় তাজা প্রাণ

জ সকালেও যখন ক্লাসের জন্য বের হচ্ছিলো, হয়তো মাকে বলে এসেছিলো দুপুরে আসবে বলে। হয়তো বলে এসেছিলো, দুপুরে মায়ের হাতের রান্না খাবে বলে। কিন্তু তার সেই ফিরে আসা, মায়ের হাতের রান্না খাওয়া আর হলো না। আর কোনদিন ফিরে আসবে না, কোনদিন মায়ের হাতের রান্না খাওয়া হবে না তার। সে যে আজ সেই জগতের বাসিন্দা, যে জগত থেকে ফিরে আসা যায়না। বাব মা অনেক স্বপ্ন হয়তো দেখেছিলেন, ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, পড়াশুনা শেষে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করবে, তাঁদের মুখ উজ্জল করবে। তাদের স্বপ্ন আর পুরণ হলোনা। মা হয়তো সারা জীবন ছেলের পথ চেয়ে বসে থাকবে। তাঁর নাড়ী-ছেড়া ধন যে আসতে চেয়েছিলো! সেই মাকে কে সান্ত্বনা দেবে? 

আজ দুপুরে যখন ক্লাস থেকে হই হুল্লোড় করতে করতে বের হচ্ছিলো হাদি (পুরো নামটা এখনো জানতে পারিনি), তখনও কি জানতো আরেকটু পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসই কেড়ে নেবে তার জীবন? একবারও কি ও ভেবেছিলো আর তার বাসায় ফিরে যাওয়া হবেনা, খাওয়া হবেনা মায়ের হাতের রান্না? 

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১১

এ এক আজব কারখানা!!!

এমন এক আজব দেশে বসবাস করি যেখানে সব সময় সব আজব আজব ঘটনা ঘটে। ঈদানীংকার পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। আজব ঘটনা গুলো প্রতিনিয়ত ঘটার ফলে সেগুলোকে এখন আর আজব বলে মনে হয় না। তারপরেও সেগুলো আজব। কিছুটা হাস্যরসের সৃষ্টি তো করছেই; মাঝে মাঝে তা ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে হন্তারকের ভুমিকায় আবির্ভুত হয় এই সব আজব ঘটনাসমুহ।

ঘটনাগুলো যদি এমন হতো যে তা কেবল ব্যাক্তি-সংশ্লিষ্ট, তাহলে হয়তো এত বেশি বলার দরকার ছিলোনা। কিন্তু সেগুলো এমন যে তা দেশ ও জাতীর স্বার্থসংশ্লিষ্টও বটে। দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই ঘটনাগুলোকে শুধু আজব বলার কারণে আপনার মনে হতে পারে যে আমি যেগুলোকে হালকা করার চেষ্টা করছি মাত্র। কিন্ত আজব না বলে উপায় আছে!!!

প্রথমেই আসি ভুমি সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনার বিষয়ে। বেশ কয়েকদিন আগে আমি এক খন্ড জমি বিক্রয় করি এবং অন্য আরেক স্থানে আরেক খন্ড জমি ক্রয় করি। জীবনের প্রথম জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে যা দেখলাম তা রীতিমত তাজ্জব বনে যাবার মত। একই জমি একাধিকবার বিক্রি হবার কথা আগে শুনেছি, এবার প্রত্যক্ষ করলাম তা’ কিভাবে সম্ভব। আমার মনে হলোঃ সরকারী ব্যাবস্থাটাই এই জঘন্য প্রতারণার কাজটিকে সহজ করে দেয়।

ধরুণ, আপনি এক খন্ড জমি বিক্রি করলেন। যিনি জমি ক্রয় করলেন তাঁর নামে একটা নতুন দলিল তৈরি করা হলো। পূর্বে থেকে থাকা আপনার দলিলটিও থাকলো এবং তা আপনার কাছেই থাকলো। স্বাভাবিকভাবে এটার অর্থ কি দাঁড়ালো? খুব সহজঃ একই বা একখন্ড জমির জন্য দু’জন ব্যাক্তির কাছে দুটো দলিল থাকলো। কনসিকিউয়েন্সটা খুব সহজেই অনুমেয়। আপনি জমিটি আবারও বিক্রি করার ইচ্ছা করবেন এবং করছেনও। আমার প্রশ্ন হলোঃ যিনি জমি বিক্রি করলেন, তিনি তো আর কোনভাবেই সেই জমির মালিক থাকছেননা; তাহলে, তার কাছে আর জমির দলিল থাকবে কেন? এ এক আজব কান্ড! বলতে পারেন পরবর্তী সময়ে রেফারেন্সের কথা। ভালো কথা, সেরকম কোন প্রয়োজন হলে পূর্বের দলিল তো গভর্ণমেন্ট সংরক্ষণ করতে পারে।

এবার আসি আরেকটা বিষয়ে। এটা অবশ্য এক যাত্রীর তাজ্জবের বিষয়। উনি ঈদের সময়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। রাস্তায় তাকে কি পরিমান হ্যাসল্‌ সহ্য করতে হয়েছিলো তা সহজেই অনুমেয়। একটি টিভি চ্যানেল উনার সাক্ষাৎকার নিতে গেলে উনি এই বিস্ময়টি প্রকাশ করেন। উনার বিস্ময় হলোঃ বানিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান সপ্তাহে একদিন না খেয়ে থাকার কথা বললেন, অর্থমন্ত্রী আল্লার মাল আল মুহিত সপ্তাহে একদিন বাজারে না যেতে বললেন, তাহলে যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন কেন বছরে এক ঈদে বাড়িতে না যেতে বললেন না?

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ঘটনা এবারেরটি। উনি একজব শিক্ষক। একজন মহান শিক্ষক। আমি উনার ছাত্র ছিলাম। যাইহোক, কোন এক টার্মে একটি কোর্স পড়ানোর জন্য উনাকে এসাইন করা হলো। নির্ধারিত সময়ে আমরা অপেক্ষায় থাকলাম উনার ক্লাস করার জন্য। উনি আসলেননা। ভাবলাম, প্রথম দিন তো, উনি হয়তো ভুলে গেছেন। পরের দিন অপেক্ষার করলাম, উনি আসলেন না। এবং এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকলো। আমরা অপেক্ষা করি আর উনি আসেননা। টার্ম যখন শেষ হয়ে আসছিলো, আমরা তার ফোনে যোগাযোগ করে উনার সাথে দেখা করি। কারণ, আমাদের ক্লাস টেস্ট তো উনাকে নিতে হবে! এবার উনি যা বললেন, তা আসলেই এক তাজ্জবের বিষয়। উনি বললেনঃ “অফিসিয়াল কাজে আমি অনেক ব্যাস্ত, ক্লাস টেস্ট নিতে পারবোনা”। আমি অবাক হলামঃ যেহেতু উনি একজন শিক্ষক, ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া ছাড়া উনার আর কি অফিসিয়াল ব্যাস্ততা থাকতে পারে? ঘটনা এখানেই শেষ নয়। কোন ক্লাস টেস্ট দেয়া ছাড়াই আমরা ঐ কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। আমি আজও অবাক লাগে, ঐ কোর্সের ক্লাস-টেস্টের নাম্বার তিনি কিভাবে এড-জাস্ট করেছিলেন?

বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১১

জাফর ইকবাল ও বর্তমান তর্ক-বিতর্ক।


বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম


কৃপণ হিসেবে আমার একটা বদনাম আছে। ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র থাকাবস্থায় সোবহানবাগ থেকে কার্জন হল অবধি সাইকেল চালিয়ে যেতাম বলে বন্ধুরা এ মর্মে নির্দোষ টিটকারি মারত যে আমি যেন সাইকেলের বদলে রিকশা চালিয়ে যাই; এতে আমার ভার্সিটি যাওয়ার খরচ তো বাঁচবেই সাথে দু’পয়সা কামাইও হবে। বিদ্রুপ বন্ধুত্বসুলভ হলেও দাগ কিন্তু মনে একটু কাটেই। এই আমি যখন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের “তোমাদের প্রশ্ন আমার উত্তর”- পড়লাম তখন সেই সব দাগ মুছে অহংকারের আল্পনা আঁকলাম মনে – আমার ছোট বেলার হিরো সাইকেল চালিয়ে কার্জন হলে যেত, আমিও যাই – বড় হয়ে আমি নিশ্চয়ই তার মত হতে পারব! আমার এ হিরোভক্তি নিয়েও কথা শুনতে হয়েছে – আমরা নাকি জাফর ইকবাল জেনারেশন – তার মত লেখার চেষ্টা করি, তার মত করে কথা বলি। কথাটা সত্য বিধায় খারাপ লাগলেও আপত্তি করিনি।

আমার হিরোর অবস্থান থেকে জাফর ইকবাল স্যারের পতন শুরু হয় একটা সাক্ষাতকার পড়ার পর থেকে। তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বললেন “মানুষের উৎপত্তি ক্রমবিবর্তন থেকে তা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মত ধ্রুব সত্য” লেব্বাবা! আমি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র হিসেবে ক্রমবিবর্তন নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করেও তো কোন বড় মাপের বিজ্ঞানীকে নিঃসন্দেহ প্রমাণ দিতে দেখলাম না। এরপর স্যারের আরো সব আচরণে খটকা বাড়তেই থাকল। উনাকে মেইল করলাম – স্যার, আমি অধম আপনার বড় ভক্ত। আমার কটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন দয়া করে –
১. আপনি কি আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করেন?
২. মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর প্রেরিত রসুল হিসেবে বিশ্বাস করেন?
৩. পরকালে সব কিছুর হিসাব নিকেশ হবে এটা মানেন?

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১১

আমি রাজনীতি করিনা, কিন্তু রাজনীতি আমাকে করে!!!!!!!!!


আমি রাজনীতি করিনা, কিন্তু রাজনীতি আমাকে করে!!!!!!!!

পাঠক হিসেবে নিয়মিত হলেও, লেখক হিসেবে আমি একেবারেই অনিয়মিত। কালে ভদ্রে দু'চারটে কথা লিখে ফেলি। আমার এই স্বল্প লেখার মধ্যে তাই রাজনৈতিক বা রাজনীতি সংশ্লিষ্ট লেখা নেহাতই কম। সহজ করে বললে, আমি রাজনীতি একেবারেই অপছন্দ করি। আর তা যদি হয় বাংলাদেশি নষ্ট রাজনীতি, তাহলে দৌড়ে পালাবার অবস্থা। রাজনীতি নিয়ে এত অবতরণিকা করার উদ্দেশ্য তো কিছু রয়েছেই। সাম্প্রতিক সময়ে এমন এক ঘটনার সম্মুখীন হলাম যে, মনে হচ্ছে আমি রাজনীতি না করলেও রাজনীতি আমাকে করে।

আগেই বলেছি, রাজনীতি আমার নেহাতই অপছন্দের বিষয়। আমার এই লেখাটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে যাবে। সেটা নিতান্তই আমার অভিজ্ঞতার সাথে প্রাসঙ্গিক। ভিন্ন প্রেক্ষিতে অন্য কারো বিপক্ষেও যেতে পারে।

যাইহোক, মুল কথায় আসি। রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা পুরাতন কোন বিষয় নয়। আমাদের দেশের নেতানেত্রীরা মনে করেন, রাজনীতি করে দেশটাকে তারা কিনে নিয়েছেন। প্রাচীন যুগে রাজা-মহারাজেরা দেশটাকে নিজেদের মনে করতো কিনা জানিনা। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক নেতা নামের এই নব্য রাজারা যে দেশটাকে নিজেদের বাবার সম্পত্তি মনে করেন সেটা দেশাবাসী মাত্রই জানে। হাল আমলে এই নব্য রাজাদের আচরণ এই মাত্রায় পৌঁছেছে যে ম্যাঙ্গো-পিপলের মৌলিক অধিকার কিছু আছে বলে মনে হয় না।

নিয়মিত পত্রিকা পড়েন বা টিভি দেখেন, আর বর্তমান সময়ের সমগ্র দেশের রাস্তাঘাটের অবস্থা জানেননা এমন মানুষ আপনি খুঁজে পাবেননা। রাস্তা তো নয় যেন এক একটি মৃত্যুকুপ। সেইসাথে আসন্ন ঈদে শহর ছেড়ে গ্রামের আপনজনদের সাথে ঈদ করতে চাওয়া মানুষের ভীড়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করার মত শব্দ বাংলা ভাষায় আছে কিনা আমার জানা নেই।

এহেন অবস্থায় কোন রাজনৈতিক নেতা যদি ক্ষমতার জোরে একটা বিভাগীয় শহর থেকে রাজধানীতে যাতায়াতের জন্য যতগুলো বাস রয়েছে তার সবগুলোকে শুধুমাত্র তার নিজের লোকের জন্য বুকিং দিয়ে রাখেন তাহলে অবস্থাটা কোথায় গিয়ে দাড়ায়? কয়েকদিন আগে গিয়েছিলাম খুলনার রয়্যাল মোড়ে, ঈদের দু-একদিন পরে ঢাকায় যাওয়ার জন্য টিকিট কাটতে। সম্ভবত চলতি মাসের ১৫/১৬ তারিখের ঘটনা। কাউন্টার থেকে আমাকে জানানো হলো যে ২০ তারিখে গেলে আমি টিকিট নিয়ে আসতে পারবো। যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে জানতে পারলাম ইন্টার্নাল কোন কারনে উনারা ২৪ তারিখের আগে কিছু কনফার্ম করতে পারবেন না। গত্যন্তরহীন হয়ে আমি আবার গেলাম ২৪ তারিখে। এবার যেয়ে যা শুনলাম তাতে মনে হলো এদেশীয় রাজনীতির গুষ্টি কিলাই। শহরের মাননীয় মেয়র, ডিসি ও এসপি বা শুধুমাত্র তাদের সুপারিশকৃত তোষামোদকারীদের জন্য সোহাগ আর গ্রীনলাইনের এসি (ভলবো) বাসের আগামী ২, ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর তারিখের সকল টিকিট বুকিং করা হয়েছে। শুধুমাত্র এই তিন মান্যবরের জন্য যদি দুটো কোম্পানীর এতগুলো বাস পরপর তিনদিনের জন্য বরাদ্ধ দিয়ে রাখা হয়, বাকী সবাই কি তবে আঙুল চুষবে? বলি ভাই তোরা মান্যবর, মহামান্য রাজাধিরাজ, তাই বলে এত স্বেচ্ছাচারিতা! আমার হাতে ক্ষমতা আছে, তাই বলে যা ইচ্ছা তাই করতে হবে? দেশে কি আর মানুষজন আছে? নাকি সবাই আওয়ামী নেতাদের আপনজন, তোষামোদকারী?

এতদিন জানতাম বাসের টিটিকপ্রাপ্তির জন্য কাউন্টারের সামনে লাইন দিতে হয়, এখন দেখছি এর জন্য বাআল (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ)-এর নেতার কাছে ধরণা দিতে হবে। অবশ্য পাবলিক টয়লেট দখল করা যে দলের নেতাদের স্বভাব, তাদের কাছে বাসের টিকিট তো মহামূল্য কোহিনূর!

শুরুতেই বলেছিলাম, আমি রাজনীতি করিনা। কারোর তোষামোদ করার অভ্যাস আমার নেই। তাইলে আমার কী হবে? আমার মত রাজনীতির কাছ ঘেষেনা এমন যারা রয়েছেন, তারা টিকিট পাবেননা? বলি, এখনো সময় আছে- আওয়ামিলীগ না হয়ে, মানুষ হ। অবশ্য আমি রাজনীতি না করলে কি হবে, রাজনীতি আমাকে করে, করবে।

নোটাবেনেঃ ফেইসবুকে শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করে স্টাটাস দেওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিকক্ষকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আওয়ামিলীগের নেতাদের স্বাচ্ছাচারিতার কথা বলার জন্য আমাকে আবার না কি করা হয়!

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১১

ক্ষমা করার অধিকার কি রাষ্ট্রপতির আছে?

ক্ষমা প্রদর্শনের মাধ্যমে দূর্জ্জনকে সজ্জনে রুপান্তরিত করার উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল নয়। বরং, ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে এজাতীয় ঘটনা হামেশাই দেখতে পাওয়া যাবে। অপরাধী নিজ কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করলে আল্লাহও তাকে ক্ষমা প্রদর্শন করেন। ক্ষমা প্রদর্শন এমনই এক মহৎ গুন যা সমাজ হতে সকল অন্যায় ও অনাচার দূর করতে পারে। তবে, ঢালাওভাবে ক্ষমা প্রদর্শন করা হলে তা কি সমাজের জন্য আদৌ কল্যাণকর? যে সকল অপরাধীর কোন অনুশোচনা থাকেনা, ভুল শুধরে আলোর পথে আসার ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকেনা, যে সকল অপরাধী অপরাধ করার পর উল্লাসে ফেটে পড়ে, সেই সকল ঘৃণ্য অপরাধীকে ক্ষমা করলে তা কি সমাজের জন্য কল্যাণকর হয়? দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির বিধানও কি সুস্থ সমাজ বিনির্মানের জন্য অত্যাবশ্যক নয়?

বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

হেনার মৃত্যু আর ফ্রী-সেক্সের দূর্ভিসন্ধি।

হেনাকে নিয়ে জল কম ঘোলা হলো না। ব্লগে অন্তত এই বিষয়ে জাবর কাটা চলছে এখনো। একটা গ্রুপ দেখা যাচ্ছে হেনাকে নির্দোষ প্রমান করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। অথচ ব্যাপারটাকে সহজ সমীকরণে কেউ দাড় করাতে চাইছেনা। 

"হেনা নির্দোষ এই কারণে যে তার বয়স ছিলো মাত্র পনের বছর," এই হচ্ছে তাদের মত। আমি বলি, বাংলাদেশের জলাবায়ুর বিচারে যৌবনপ্রাপ্ত হতে একটা মেয়ের কত বছর বয়স লাগে? ১২/১৩ বছর বয়সেই একটা মেয়ে পূর্ণ যৌবনপ্রাপ্ত হয়ে যায়। এই বয়সেই তারা সবকিছু বুঝতে পারে। "১৮ বছর বয়স হলেও সে শিশু" এই ধরণের আইন করলেই অপরাধ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়না।
এবার আসি বাস্তব প্রেক্ষাপটে। শহর থেকে গ্রাম, যেখানেই যাবেন একটু খোঁজ নিলেই দেখবেন নাইন/টেনের মেয়েরা চুটিয়ে প্রেম করে যাচ্ছে। নাইন/টেনের একটা মেয়ের বয়স সর্বোচ্চ কত হবে? ১৫ বা ১৬। কিন্তু এই বয়সেই তারা প্রেমের মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় একদিন শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।

এক্সট্রা ম্যারিটাল সেক্স অবশ্যই অপরাধ। আর তার জন্য যথাযথ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। ১৫ বছরের যে মেয়ে নিজ ইচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। তার অবশ্যই শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তবে অবশ্যই, যেই ছেলে ঐ কাজে তাকে প্ররোচিত করে তারও দশগুন বেশি শাস্তি হওয়া আবশ্যক।

এবার আসি হেনার প্রসঙ্গে, ঐদিনের ঘটনার পরে বিচারের নামে হেনাকে নিয়ে যা হয়েছে তা রীতিমত ভয়ংকর। এহেন বর্বর কান্ড এ যুগে ঘটতে পারে তা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে।

তবে, পাশাপাশি এ ভাবতেও গা শিউরে ওঠে আলী-মাহমেদের মত লোকেরা কিভাবে "১৫ বছর বয়সী" এই বলে পরকীয়াকে উস্কে দিতে চায়। ধর্ষণ আর ঐচ্ছক শারীরিক সম্পর্ক যে এক নয় তা ভুলে গেলে তো ব্যাপারটা এই দাঁড়ায় যে, ১৮ বছরের মেয়ে ইচ্ছা করে এক্সট্রা ম্যারিটাল সেক্সে জড়ালে তা অপরাধ নয়। বাহ, ফ্রী-সেক্স চালু করার কী অদ্ভুত পন্থা!

মাহবুব নামের ঐ পাষন্ড অবশ্যই অপরাধী। তার যথাযথ শাস্তি দেয়া বাধ্যতামুলক। কিন্তু তাই বলে হেনাও নির্দোষী ছিলোনা। মাহাবুবের সাথে তার শারীরীক সম্পর্ক ছিলো হেনার সম্মতিতেই। আর এটাতে হেনাও অপরাধী। যদিও হেনার দূর্ভাগ্য এই যে সে অপরাধের তুলনায় অনেক বেশি শাস্তি পেয়েছে। তাই, বিচারক সহ মসজিদের ইমামদেরও শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু, মাহমুদ সাহেবদের পোস্ট দেখে মনে হয় হেনা ছিলো সম্পূর্ণ নির্দোষ। অবশ্য প্রথম আলো গং দের মত মাহমুদ সাহেবরা যদি এদেশে ফ্রী-সেক্স চালু করতে চায়, তাহলে হেনার দোষ থাকার কথা নয়।