|| বাংলার নবাবের ওয়েবসাইটে স্বাগতম ||
আমি রুষে উঠে যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া | ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া।
কাজী নজরুল ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কাজী নজরুল ইসলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০১৭

নজরুল কেন আজো অপরিহার্য?

[জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি]

২৫ মে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্য আর মানবতার কবি নজরুলের জন্মদিন এক উৎসব বঙ্গাঞ্চলে। আমরাও এই উৎসবে যুক্ত হবো।

নজরুল জন্মেছিলেন বৃটিশ ইন্ডিয়ায় ১৮৯৯ সালে, সাহিত্যকৃতিও বৃটিশ ইন্ডিয়ায়। ১৯৪২ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত তাঁর জীবন অন্য এক পরিমণ্ডলে আবর্তিত ছিলো। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কবিকে ঢাকায় নিয়ে আসা হলো জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের আগ্রহে। কবি পেলেন জাতীয় কবির স্বীকৃতি। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর বেশ কয়েক জায়গায় কবির কথা স্থান পেয়েছে।

গত ২০০ বছরের বাংলা সাহিত্যে মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। এই তিনজনের মধ্যে নজরুলের অসাম্প্রদায়িকতা আবার অনন্য। বাকিরা সাম্প্রদায়িক ছিলেন তা ভাবার কোন কারণ নেই, কিন্তু নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক ছিলেন তা সন্দেহাতীত। তিনি হিন্দু-মুসলিম মিলনের অগ্রদূত। একজন মুসলমান হওয়ার পরও তিনি নবী মুহম্মদের মধ্যে কৃষ্ণের রূপ দেখেছেন। মা ফাতেমার চরিত্র চিত্রণ করেছেন দেবী দুর্গার গুণাবলী দিয়ে। বিদ্রোহী কবিতার কাড়ি কাড়ি পৌরাণিক উপমার মধ্যে মুসলিম উপমা এসেছে হাতে গোণা কয়েকটি।

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

নজরুলে গান

এলো বনান্তে পাগল বসন্ত।
বনে বনে মনে মনে রং সে ছড়ায় রে,চঞ্চল তরুণ দুরন্ত।
বাঁশীতে বাজায় সে বিধুর পরজ বসন্তের সুর,
পান্ডু-কপোলে জাগে রং নব অনুরাগে
রাঙা হল ধূসর দিগন্ত।।

কিশলয়ে-পর্ণে অশান্ত ওড়ে তা’র অঞ্চল প্রাস্ত।
পলাশ-কলিতে তা’র ফুল-ধনু লঘু-ভার,
ফুলে ফুলে হাসি অফুরন্ত।
এলো মেলো দখিনা মলয় রে প্রলাপ বকিছে বনময় রে।
অকারণ মন মাঝে বিরহের বেণু বাজে।
জেগে ওঠে বেদনা ঘুমন্ত।।

সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬

উমর ফারুক

--কাজী নজরুল ইসলাম

তিমির রাত্রি - 'এশা'র আযান শুনি দূর মসজিদে।
প্রিয়-হারা কার কান্নার মতো এ-বুকে আসিয়ে বিঁধে!

আমির-উল-মুমেনিন,
তোমার স্মৃতি যে আযানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন।
তকবির শুনি, শয্যা ছাড়িয়া চকিতে উঠিয়া বসি,
বাতায়নে চাই-উঠিয়াছে কি-রে গগনে মরুর শশী?
ও-আযান, ও কি পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান?
মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ও কি ও তোমারি সে আহ্ববান?

আবার লুটায়ে পড়ি।
'সেদিন গিয়াছে' - শিয়রের কাছে কহিছে কালের ঘড়ি।
উমর! ফারুক! আখেরি নবীর ওগো দক্ষিণ-বাহু!
আহ্বান নয় - রূপ ধরে এস - গ্রাসে অন্ধতা-রাহু!
ইসলাম-রবি, জ্যোতি তার আজ দিনে দিনে বিমলিন!
সত্যের আলো নিভিয়া-জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ।
শুধু অঙ্গুলি-হেলনে শাসন করিতে এ জগতের
দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের
ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের ধরি
আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!

রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৫

'ইয়া নবি সালাম আলাইকা'

'ইয়া নবি সালাম আলাইকা'
মিলাদুন্নবী, নজরুল-মানস এবং ইসলামি গান

১। একবার একটি লং প্লে'তে নজরুল-এর নামের আগে 'পীরকবি' অভিধা সংযুক্ত হয়েছিলো। কোরান-হাদিস এবং ইসলামি মনীষিদের সম্পর্কে তাঁর ছিলো নিবিড় পড়াশোনা। আমরা এ পর্যন্ত মোট ১৯ টি ইসলামি গান ইউটিউবে দিয়েছি এই গ্রুপের তত্ত্বাবধানে। এর পেছনে একটি কারণ অবশ্যই আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন যে তিনি কোরান নাজেল করেছেন, তিনিই তা সংরক্ষণ করবেন। পৃথিবীর অনেক দেশে কোরান নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। ডক্টর রশীদ আল মাসরী গবেষণা করে বের করেছেন যে আল কোরানের আয়াত শব্দ ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। 'ইসম' শব্দটি ১৯ বার, 'আর-রাহমান' ৫৭ বার, আল্লাহ ২৬৯৬ বার। সূরা ১১৪ টি। (Al Quran the ultimate miracle দ্রষ্টব্য)
HAR Gibb বলেন 'well, then, if the Quran where his own composition other men could rival it. Let them produce ten verses like it. If they could not (and it is obvious that they could not), then let them accept the Quran as an outstanding exegetical miracle.' [Mohammedanism, London]

শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

দারিদ্র্য

- কাজী নজরুল ইসলাম

হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্‌।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!
দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস,
অম্লান স্বর্ণেরে মোর করিলে বিরস,
অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ!
শীর্ণ করপুট ভরি’ সুন্দরের দান
যতবার নিতে যাই-হে বুভুক্ষু তুমি
অগ্রে আসি’ কর পান! শূন্য মরুভূমি
হেরি মম কল্পলোক। আমার নয়ন
আমারি সুন্দরে করে অগ্নি বরিষণ!
বেদনা-হলুদ-বৃন্ত কামনা আমার
শেফালির মত শুভ্র সুরভি-বিথার
বিকশি’ উঠিতে চাহে, তুমি হে নির্মম,
দলবৃন্ত ভাঙ শাখা কাঠুরিয়া সম!

সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৩

বাতায়ন-পাশে-গুবাক-তরুর-সারি

-----কাজি নজরুল ইসলাম

বিদায়, হে মোর বাতায়ন-পাশে নিশীথ জাগার সাথী!
ওগো বন্ধুরা, পান্ডুর হয়ে এল বিদায়ের রাতি!
আজ হ'তে হ'ল বন্ধ আমাদের জানালার ঝিলিমিলি,
আজ হ'তে হ'ল বন্ধ মোদের আলাপন নিরিবিলি।

অস্ত-আকাশ-অলিন্দে তার শীর্ণ কপোল রাখি'
কাঁদিতেছে চাঁদ, 'মুসাফির জাগ, নিশি আর নাই বাকী!'
নিশীথিনী যায় দূর বন-ছায়, তন্দ্রায় ঢুলুঢুল,
ফিরে ফিরে চায়, দ'-হাতে জরায় আঁধারের এলোচুল।-

চমকিয়া জাগি, ললাটে আমার কাহার নিশাস লাগে?
কে করে ব্যজন তপ্ত ললাটে, কে মোর শিয়রে জাগে?
জেগে দেখি, মোর বাতায়ন-পাশে জাগিছে স্বপনচারী
নিশীথ রাতের বন্ধু আমার গুবাক-তরুর সারি!

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১২

ঈদ মোবারক

কাজী নজরুল ইসলাম

শত যোজনের কত মরুভূমি পারায়ে গো,
কত বালু চরে কত আঁখি-ধারা ঝরায়ে গো,
বরষের পরে আসিল ঈদ!
ভূখারীর দ্বারে সওগাত বয়ে রিজওয়ানের,
কন্টক-বনে আশ্বাস এনে গুল-বাগের,
সাকীরে ''জা'মের'' দিলে তাগিদ!

খুশীর পাপিয়া পিউ পিউ গাহে দিগ্বিদিক,
বধু-জাগে আজ নিশীথ-বাসরে নির্নিমিখ্।
কোথা ফুলদানী, কাঁদিছে ফুল!
সুদূর প্রবাসে ঘুম নাহি আসে কার সখার,
মনে পড়ে শুধু সোঁদা সোঁদা বাস এলো খোঁপার,
আকুল কবরী উলঝলুল্!!

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে

কাজী নজরুল ইসলাম

মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ।
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাকিদ ।।

তোর সোনাদানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ।।

তুই পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।।

আজ ভুলে গিয়ে দোস্ত-দুশমন হাত মিলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরীদ।।

যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা নিত্-উপবাসী
সেই গরীব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মফিদ।।

ঢাল হৃদয়ে তোর তশতরীতে শিরনী তৌহিদের,
তোর দাওত কবুল করবেন হযরত, হয় মনে উমীদ।।

তোরে মারল ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইঁট পাথর যারা
সেই পাথর দিয়ে তোল রে গড়ে প্রেমেরি মসজিদ।।

বুধবার, ২০ জুন, ২০১২

অভিশাপ ........ কাজী নজরুল ইসলাম

যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
ছবি আমার বুকে বেঁধে
পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে
ফিরবে মরু কানন গিরি,
সাগর আকাশ বাতাস চিরি'
যেদিন আমায় খুঁজবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!

স্বপন ভেঙে নিশুত্ রাতে জাগবে হঠাৎ চমকে,
কাহার যেন চেনা-ছোওয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে, -
জাগবে হঠাৎ চমকে!
ভাববে বুঝি আমিই এসে
ব'সনু বুকের কোলটি ঘেঁষে,
ধরতে গিয়ে দেখবে যখন
শূন্য শয্যা! মিথ্যা স্বপন!
বেদনাতে চোখ বুজবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!

গাইতে ব'সে কন্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না,
ব'লবে সবাই - "সেই যে পথিক, তার শেখানো গান না?"
আসবে ভেঙে কান্না!
প'ড়বে মনে আমার সোহাগ,
কন্ঠে তোমার কাঁদবে বেহাগ!
প'ড়বে মনে অনেক ফাঁকি
অশ্রু-হারা কঠিন আঁখি
ঘন ঘন মুছবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!

আবার যেদিন শিউলি ফুটে ভ'রবে তোমার অঙ্গন,
তুলতে সে-ফুল গাঁথতে মালা কাঁপবে তোমার কঙ্কণ -
কাঁদবে কুটীর-অঙ্গন!
শিউলি ঢাকা মোর সমাধি
প'ড়বে মনে, উঠবে কাঁদি'!
বুকের মালা ক'রবে জ্বালা
চোখের জলে সেদিন বালা
মুখের হাসি ঘুচবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!

শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১০

এলো খুশির ঈদ


| রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ |
                        ---কাজী নজরুল ইসলাম।
রমজানের রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
রমজানের রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে , শোন আসমানী তাগিদ

তোরা সোনা-দানা, বালাখানা সব রহে ইল্লিল্লাহ
দে যাকাত , মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ
মন রমযানের রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০১০

মানুষ (কাজী নজরুল ইসলাম)

মানুষ
________কাজী নজরুল ইসলাম

From কাজী নজরুল ইসলাম


গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান্‌ ।
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।-

পাপ (কাজী নজরুল ইসলাম)

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া থানায় অবস্থিত। পিতামহ কাজী আমিনউল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয়া পত্নী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি। তার বাবা ছিলেন স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম।

বারাঙ্গনা

বারাঙ্গনা

________কাজী নজরুল ইসলাম


কে তোমায় বলে বারাঙ্গনা মা, কে দেয় থুতু ও-গায়ে?
হয়ত তোমায় স্তন্য দিয়াছে সীতা-সম সতী মায়ে।
না-ই হ’লে সতী, তবু তো তোমরা মাতা-ভগিনীরই জাতি;
তোমাদের ছেলে আমাদেরই মতো, তারা আমাদের জ্ঞাতি;
আমাদেরই মতো খ্যাতি যশ মান তারাও লভিতে পারে,

সাম্যবাদী

সাম্যবাদী
________কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্লিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!

কে তুমি?- পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কন্ফুসিয়াস্? চার্বাক চেলা? ব’লে যাও, বলো আরো!
বন্ধু, যা-খুশি হও,
পেটে পিঠে কাঁধে মগজে যা-খুশি পুঁথি ও কেতাব বও,
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-ত্রিপিটক-
জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থসাহেব প’ড়ে যাও, য্ত সখ-
কিন্তু, কেন এ পন্ডশ্রম, মগজে হানিছ শূল?
দোকানে কেন এ দর কষাকষি? -পথে ফুটে তাজা ফুল!
তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান,
সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখ নিজ প্রাণ!
তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগাবতার,
তোমার হৃদয় বিশ্ব-দেউল সকল দেবতার।
কেন খুঁজে ফের’ দেবতা ঠাকুর মৃত পুঁথি -কঙ্কালে?
হাসিছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত অন্তরালে!



বন্ধু, বলিনি ঝুট,
এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট।
এই হৃদ্য়ই সে নীলাচল, কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন,
বুদ্ধ-গয়া এ, জেরুজালেম্ এ, মদিনা, কাবা-ভবন,
মস্জিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই হৃদয়,
এইখানে ব’সে ঈসা মুসা পেল সত্যের পরিচয়।
এই রণ-ভূমে বাঁশীর কিশোর গাহিলেন মহা-গীতা,
এই মাঠে হ’ল মেষের রাখাল নবীরা খোদার মিতা।
এই হৃদয়ের ধ্যান-গুহা-মাঝে বসিয়া শাক্যমুনি
ত্যজিল রাজ্য মানবের মহা-বেদনার ডাক শুনি’।
এই কন্দরে আরব-দুলাল শুনিতেন আহবান,
এইখানে বসি’ গাহিলেন তিনি কোরানের সাম-গান!
মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।

কাজী নজরুল ইসলাম-এর ছবি ব্লগ।

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কিছু দূর্লভ কিন্তু প্রকৃত ছবি দিয়ে সাজিয়েছি এবারের পোস্টটি। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। (বড় করে দেখার জন্য ছবিগুলোর উপরে ক্লিক করুন)
প্রথম ছবিঃ
From কাজী নজরুল ইসলাম

দ্বিতীয় ছবিঃ
From কাজী নজরুল ইসলাম


তৃতীয় ছবিঃ
From কাজী নজরুল ইসলাম

চতুর্থ ছবিঃ
From কাজী নজরুল ইসলাম

পঞ্চম ছবিঃ
From কাজী নজরুল ইসলাম

ষষ্ঠ ছবিঃ
From কাজী নজরুল ইসলাম

সপ্তম ছবিঃ
From কাজী নজরুল ইসলাম

অষ্টম ছবিঃ
From কাজী নজরুল ইসলাম

নবম ছবিঃ
From কাজী নজরুল ইসলাম

দশম ছবিঃ
From কাজী নজরুল ইসলাম

এগারতম ছবিঃ (এই ছবিটি মুলতঃ কবির নিজের হাতের লেখা)
From কাজী নজরুল ইসলাম

সর্বশেষ ছবিঃ (এই ছবিটিও কবির নিজের হাতের লেখা)
From কাজী নজরুল ইসলাম


আমাদের প্রাণের প্রিয় কবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বেঁচে থাকবেন ততদিন যতদিন বেঁচে থাকবে এই বাংলার মানুষ। কবিকে সালাম।

বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০১০

সুন্দরী

বিদ্রোহী কবিতার কবি নজরুল এমনই এক কবি যার হাতে পড়ে বেসুরো শব্দও যেন সুর খুজে পায়, ছন্দের অন্ত্যমিলে হয়ে ওঠে বাঙ্‌ ময়। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী নজরুল ছন্দের ব্যাবহারে দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। তেমনই এক ছন্দময় কবিতা ‘সুন্দরী’। আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আশা করি ভালো লাগবে।

সুন্দরী
--- কাজী নজরুল ইসলাম।

সুন্দরী গো সুন্দরী!
ঘরটি তোমার কোন্‌ দোরী?
সুন্দরী গো সুন্দরী!

কোন্‌ সে পথের বাঁকটিতে
কল্‌সি নিয়ে কাঁখ্‌টিতে,
থম্‌কে যাও আর চম্‌কে যাও
দুলিয়ে বাহু কুন্দরি?
সুন্দরী গো সুন্দরী!

কুঞ্জি কই সে কুঞ্জরী-
যার হিয়াটি চঞ্চলে
আকুল তোমার অঞ্চলে?
সাতনোরী আর পাঁচনোরী হার
কোন্‌ পথে যায় গুঞ্জরি’?
সুন্দরী গো সুন্দরী!

কোন্‌ মন ওঠে মুঞ্জরি’-
কেশের তোমার সৌরভে,
পরশ পাওয়ার গৌরবে?
তূণ ধরি ভ্রূর গুণ্‌ ধরি’
কর্‌ছো শিকার কোন্‌ পরী?
সুন্দরী গো সুন্দরী!

কোথায় সে বাও কোন্‌ তরী?
উত্তরীয় সঞ্চরি’
করছে হাওয়ার মন চুরি,
অপ্সরী আর হুর-পরী
চল্‌ছে তরীর গুণ্‌ ধরি,
সুন্দরী গো সুন্দরী!

শাড়ির পাড়ে কোন্‌ জরি?
কর্ণে দোদুল দুল্‌ দুলে,
গাল দেখে পারুল ভুলে,
চুম্‌চে ছলে বুল্‌বুলে গো
মুখ ভুলে ফুল্‌-পুঞ্জরি।
সুন্দরী গো সুন্দরী।

ভার কেন আজ মন তোরি?
কিন্নরী ও হুর-পরী
তুল্য তোমার কোন্‌ গোরী?
কোন্‌ জনে দেয় মন-বেদন্‌ এ—
খায়া কাঁচা খুন্‌ ঘুণ ধরি’?
সুন্দরী গো সুন্দরী!

করলো সে কে মন চুরি?
মনটি তোমার উন্মনা,
মন্‌-চোরা সে কোন্‌ জনা?
আফসোস্‌ উহুঁ! আর নেই আঁসু!
উঠেছে আঁখে খুন ভরি’!
আর কেঁদো না সুন্দরী!
সুন্দরী গো সুন্দরী!
ঘর তোমার ভাই কোন্‌ দোরী?

বিদায়-স্মরণে

বিদায়-স্মরণে

----কাজী নজরুল ইসলাম

পথের দেখা এ নহে গো বন্ধু
এ নহে পথের আলাপন।
এ নহে সহসা পথ চলা শেষে
শুধু হাতে হাতে পরশন।।

নিমেষে নিমেষে নব পরিচয়ে
হ’লে পরিচিত মোদের হৃদয়ে,
আসনি বিজয়ী—এলে সখা হ’য়ে
হেসে হ’রে নিলে প্রাণ-মন।।

রাজাসনে বসি হওনি ক’ রাজা
রাজা হ’লে বসি হৃদয়ে,
তাই আমাদের চেয়ে বেশি
ব্যাথা পেলে তব বিদায়ে।

আমাদের শত ব্যাথিত হৃদয়ে,
জাগিয়া রহিবে তুমি ব্যাথা হ’য়ে,
হ’লে পরিজন চির-পরিচয়ে—

পুনঃ পাবো তার দরশন,
এ নহে পথের আলাপন ।।

বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই, ২০১০

বিদ্রোহী

বিদ্রোহী

-----কাজী নজরুল ইসলাম।


বল বীর---
বল উন্নত মম শির !
শির নেহারি’ আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির !
বল বীর—
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া,
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটিকা দীপ্ত জয়শ্রীর !

বল বীর—
আমি চির-উন্নত শির !

আমি চিরদুর্দম, দুর্বিনীত নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধবংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দুর্বার
আমি ভেঙ্গে করি সব চুরমার !
আমি আনিয়ম উচ্ছৃংখল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃংখল !
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন ।
আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর !
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ববিধাত্রীর !

বল বীর –
চির-উন্নত মম শির !

আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণি
আমি পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণি !
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি
ফিং দিয়া দিই তিন দোল;
আমি চপলা-চপল হিন্দোল !
আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা,
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা !
আমি মহামারী, আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ণ চির-অধীর।

বল বীর—
আমি চির-উন্নত শির !

আমি চির-দুরন্ত দুর্মদ,
আমি দুর্দম, মম প্রাণের পিয়ালা হর্দম হ্যায় হর্দম ভরপুর মদ।
আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি।
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিসাবসান !
আমি ইন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য,
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরি, আর হাতে রণ-তূর্য !
আমি কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যাথা-বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।

বল বীর—
চির-উন্নত মম শির !

আমি সন্যাসী সুর সৈনিক
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান-গৈরিক
আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিশ,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ।
আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিশাণে ওংকার,
আমি ঈস্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুংকার,
আমি পিণাক-পানির ডমরু ত্রিশূল, ধ্বর্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র ও মহাশংখ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড !
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব !
আমি প্রাণ-খোলা হাসি-উল্লাস, --- আমি সৃষ্টি বৈরী মহাত্রাস,
আমি মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু-গ্রাস !
আমি কভু প্রশান্ত, -- কভু অশান্ত দারুণ স্বাচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী।
আমি প্রভঞ্জনের উচ্ছাস, আমি বারিধির মহা কল্লোল,
আমি উজ্জ্বল, আমি প্রোজ্জ্বল,
আমি উচ্ছল জল-ছল-ছল, চল-উর্মির হিন্দোল-দোল !

আমি বন্ধন হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্নি,
আমি ষোড়শির হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি।
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বঞ্চিত ব্যাথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্চিত বুকে গতি ফের !
আমি অভিমানি চির-ক্ষুদ্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যাথা সুনিবিড়,
চিত- চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর !
আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনী, ছল ক’রে দেখা অনুক্ষন,
আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তার কাঁকন-চুড়ির কন-কন !
আমি চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচর কাঁচলি নিচোর !
আমি উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাস পুরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি,
আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়াছবি !
আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, একি উন্মাদ, আমি উন্মাদ !
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়াছে গিয়াছে সব বাঁধ !

আমি উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন-চিতে চেতন ,
আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তি, মানব-বিজয়-কেতন।
ছুটি ঝড়ের মত করতালি দিয়া
স্বর্গ মর্ত্য করতলে
ত্যাজি বোর্‌রাখ আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমার
হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে !
আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নেয়াদ্রি, বাড়ব-বহ্নি কালানল,
আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথার-কলরোল-কল-কোলাহল !

আমি তড়িতে চড়িয়া উড়ে চলি জোর তুড়ি দিয়া, দিয়া লম্ফ,
আমি ত্রাস সঞ্চারী ভুবনে সহসা সঞ্চারী’ ভুমিকম্প !
ধরি বাসুকির ফনা ঝাপটি’,
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি !
আমি দেব-শিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্বমায়ের অঞ্চল !

আমি আর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা সিন্ধু উতলা ঘুম্‌ ঘুম্‌
ঘুম্‌ চুমু দিয়ে করে নিখিল বিশ্বে নিঝ্‌ঝুম
মম বাঁশরির তানে পাশরি’।
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি রুষে উঠি যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া !
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া !
আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,
কভু ধরণীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল ধ্বংস-ধন্যা ----
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু বক্ষ হইতে যুগল কন্যা ।
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধুমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-ফণী।
আমি ছিন্ত মস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি !

আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়।
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির-দূর্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মথিয়া ফিরি এ স্বর্গ-পাতাল মর্ত্য !
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ !!
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ !! –

আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার !
আমি হল বলরাম-স্কন্ধে,
আমি উপাড়ি’ ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে !

মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেইদিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভুমে রণিবে না –
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেইদিন হব শান্ত ।

আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন ;
আমি স্রষ্টা-সুদন, শোক-তাপ-হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন।
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন !
আমি খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন !

আমি চির-বিদ্রোহী বীর—
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির !

রবিবার, ৭ মার্চ, ২০১০

বাদল-রাতের পাখি।

বাদল-রাতের পাখি
--কাজী নজরুল ইসলাম

বাদল-রাতের পাখি!
কবে পোহায়েছে বাদলের রাতি, তবে কেন থাকি’ থাকি’
কাঁদিছ আজিও “বউ কথা কও” শেফালির বনে একা,
শাওনে যাহারে পেলেনা, তা’রে কি ভাদরে পাইবে দেখা? ...
তুমি কাঁদিয়াছ “বউ কথা কও” সে-কাঁদনে তব সাথে
ভাঙিয়া পড়েছে আকাশের মেঘ গহীন শাওন-রাতে।

বন্ধু, বরষ-রাতি
কেঁদেছে যে সাথে সে ছিলো কেবল বর্ষা-রাতেরই সাথি!
আকাশের জল-ভারাতুর আঁখি আজি হাসি-উজ্জ্বল;
তেরছ-চাহনি যাদু হানে আজ, ভাবে তনু ঢল ঢল!
কমল-দীঘিতে কমল-মুখীরা অধরে হিঙুল মাখে,
আলু থালু বেশ-- ভ্রমরে সোহাগে পূর্ণ-আঁচলে ঢাকে।
শিউলি-তলায় কুড়াইতে ফুল আজিকে কিশরী মেয়ে
অকারণ লাজে চমকিয়া ওঠে আপনার পানে চেয়ে।
শালিকের কুঁড়ি গুঁজিছে খোঁপায় আবেশে বিধুরা বধূ,
মুকুলি’ পুষ্প-কুমারীর ঠোঁটে ভরে পুষ্পল মধু।

আজি আনন্দ-দিনে
পাবে কি বন্ধু বধুরে তোমার, হাসি দেখে লবে চিনে?
সরসীর তীরে আম্রের বনে আজো যবে ওঠ ডাকি’
বাতায়নে কেহ বলে কি, “কে তুমি বাদল-রাতের পাখি”!
আজো বিনিদ্র জাগে কি সে রাতি তার বন্ধুর লাগি’?
যদি সে ঘুমায়—তব গান শুনি “চকিতে ওঠে কি জাগি”?
ভীন-দেশি পাখি! আজিও স্বপন ভাঙিল না হায় তব,
তাহার আকাশে আজ মেঘ নাই—উঠিয়াছে চাঁদ নব?
ভ’রেছে শূন্য উপবন তার আজি নব নব ফুলে,
সেকি ফিরে চায় বাজিতেছে হায় বাঁশি যার নদীকুলে?

বাদল-রাতের পাখি!
উড়ে চল—যথা আজো ঝরে জল, নাহি ক’ ফুলের ফাঁকি!